৫/১০৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১১৬১ - নবীজির দিনের নফল সালাতের রুটিন
দিনের বেলা নফল সালাত পড়া উত্তম।
দিনের নফল সালাত: রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ষোল রাকাত আমল
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১১৬১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১১৬১
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، وَأَبِي، وَإِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ السَّلُولِيِّ، قَالَ سَأَلْنَا عَلِيًّا عَنْ تَطَوُّعِ، رَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺ ـ بِالنَّهَارِ فَقَالَ إِنَّكُمْ لاَ تُطِيقُونَهُ فَقُلْنَا أَخْبِرْنَا بِهِ نَأْخُذْ مِنْهُ مَا اسْتَطَعْنَا . قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ يُمْهِلُ حَتَّى إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مِنْ هَاهُنَا - يَعْنِي مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ - بِمِقْدَارِهَا مِنْ صَلاَةِ الْعَصْرِ مِنْ هَا هُنَا - يَعْنِي مِنْ قِبَلِ الْمَغْرِبِ - قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يُمْهِلُ حَتَّى إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مِنْ هَا هُنَا - يَعْنِي مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ - مِقْدَارَهَا مِنْ صَلاَةِ الظُّهْرِ مِنْ هَا هُنَا قَامَ فَصَلَّى أَرْبَعًا وَأَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا وَأَرْبَعًا قَبْلَ الْعَصْرِ يَفْصِلُ بَيْنَ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ بِالتَّسْلِيمِ عَلَى الْمَلاَئِكَةِ الْمُقَرَّبِينَ وَالنَّبِيِّينَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُؤْمِنِينَ . قَالَ عَلِيٌّ فَتِلْكَ سِتَّ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعُ رَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺ ـ بِالنَّهَارِ وَقَلَّ مَنْ يُدَاوِمُ عَلَيْهَا .قَالَ وَكِيعٌ زَادَ فِيهِ أَبِي فَقَالَ حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ يَا أَبَا إِسْحَاقَ مَا أُحِبُّ أَنَّ لِي بِحَدِيثِكَ هَذَا مِلْءَ مَسْجِدِكَ هَذَا ذَهَبًا .
আসিম বিন দমরাহ আস-সালূলী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা আলী (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিনের বেলার নফল সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, তোমরা তা করতে সমর্থ নও। আমরা বললাম, আপনি আমাদের সেই সম্পর্কে অবহিত করুন, আমরা তা থেকে আমাদের সাধ্যমত গ্রহণ করবো। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সালাত পড়ার পর কিছুক্ষণ অবসর থাকতেন। অবশেষে সূর্য আসরের সময় পশ্চিমাকাশে যত উপরে থাকে, পূর্বাকাশে ঠিক ততটা উপরে উঠলে তিনি দু’ রাকআত সালাত আদায় করতেন, অতঃপর অবসর থাকতেন।অবশেষে পশ্চিম আকাশে সূর্য যতটা উপরে থাকলে যোহরের সালাতের ওয়াক্ত থাকে, পূর্বাকাশে সূর্য ঠিক ততখানি উপরে উঠলে তিনি চার রাকআত সালাত আদায় করতো। সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ার পর তিনি যোহরের (ফরজ) সালাতের পূর্বে চার রাকআত এবং পরে দু’ রাকআত পড়তেন। তিনি আসরের পূর্বেও দু’ সালাম চার রাকআত সালাত আদায় করতেন এবং তার মাঝখানে নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ, আম্বিয়া (আঃ) এবং তাঁদের অনুগত মু’মিন মুসলিমদের জন্য শান্তি ও স্বস্তি কামনা করতেন (তাশাহ্হুদ পড়তেন)।আলী (রাঃ) বলেন, এই হলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিনের বেলার ষোল রাকআত নফল সালাত। খুব কম লোকই তার উপর স্থায়ীভাবে আমাল করতে পারে। ওয়াকী (রহঃ) বলেন, আমার পিতা এতে আরো বলেছেন, হাবীব বিন আবূ সাবিত (রহঃ) বলেছেন, হে আবূ ইসহাক! আপনার এই হাদীসের পরিবর্তে এই মসজিদ ভর্তি সোনা আমার মালিকানাভুক্ত হলে তাও আমার প্রিয় হতো না।
[১১৬১] তিরমিযী ৪২৪, ৫৯৮; নাসায়ী ৮৭৪-৭৫, আহমাদ ৬৫১। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ১১৭১, মুখতাসর শামাইল ২৪৩। উক্ত হাদিসের রাবী জাররাহ বিন মালীহ বিন আদী সম্পর্কে ইবনু আদী বলেন, তিনি সত্যবাদী তার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। ২. আবু ইসহাক সম্পর্কে ইবনু হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে বলেন, তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেন।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১১৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর দিনের বেলার নফল সালাতের বিবরণ দিয়েছেন। শুরুতেই তিনি বলেন, সবাই এ আমল করতে সক্ষম হবে না; তবে যে যতটুকু পারে, তা থেকে গ্রহণ করতে পারে। ফজরের পর সূর্য ওঠার পর তিনি দুই রাকাত পড়তেন। এরপর আরেক সময়ে চার রাকাত আদায় করতেন। যোহরের আগে চার রাকাত এবং পরে দুই রাকাত পড়তেন। আসরের আগে দুই সালামে চার রাকাত আদায় করতেন। আলী (রাঃ) এটিকে দিনের বেলার ষোল রাকাত নফল সালাত বলেছেন। তাই “দিনের নফল নামাজ”, “নবীজির নফল সালাত” ও “আসরের আগে চার রাকাত” — এসব সার্চের জন্য এই হাদিস খুব প্রাসঙ্গিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নফল সালাতে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আমল করার শিক্ষা পাওয়া যায়।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর দিনের নফল সালাতের সময়ভিত্তিক বিবরণ এখানে এসেছে।
- যোহরের আগে-পরে এবং আসরের আগে নফল সালাতের উল্লেখ আছে।
- নিয়মিত নফল আমল করা সহজ নয়, তাই স্থিরতা ও সাধনার প্রয়োজন।
