৩২/৩৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১৬৮ - হুদাইবিয়ায় আস্থা ও সূরা ফাতহ
হুদাইবিয়ার প্রান্তরে হুদাইবিয়ার সন্ধি।
হুদাইবিয়া ও সূরা ফাতহ: নিজের মতকে যাচাই করার শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১১৬৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১৬৮
حديث سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ: كُنَّا بِصِفِّينَ، فَقَامَ سَهْلُ بْنُ حُنَيْفٍ، فَقَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ اتَّهِمُوا أَنْفُسَكُمْ، فَإِنَّا كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الحُدَيْبِيَةِ وَلَوْ نَرَى قِتَالاً لَقَاتَلْنَا،فَجَاءَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَلَسْنَا عَلَى الْحَقِّ وَهُمْ عَلَى الْبَاطِلِ فَقَالَ: بَلَى فَقَالَ: أَلَيْسَ قَتْلاَنَا فِي الْجَنَّةِ وَقَتْلاَهُمْ فِي النَّارِ قَالَ: بَلَى قَالَ: فَعَلَى مَا نُعْطِي الدَّنِيَّةَ فِي دِينِنَا أَنَرْجِعُ وَلَمَّا يَحْكُمِ اللهُ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ فَقَالَ: ابْنَ الْخطَّابِ إِنِّي رَسُولُ اللهِ وَلَنْ يُضَيِّعَنِي الله أَبَدًا فَانْطَلَقَ عُمَرُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ، فَقَالَ لَهُ مِثْلَ مَا قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؛ فَقَالَ: إِنَّهُ رَسُولُ اللهِ وَلَنْ يُضَيِّعَهُ اللهُ أَبَدًا [ص: 225]فَنَزَلَتْ سُورَةُ الْفَتْحِ، فَقَرَأَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى عُمَرَ إِلَى آخِرِهَا فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَو فَتْحٌ هُوَ قَالَ: نَعَمْ
আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা 'সিফফীন' যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। সে সময় সাহ্ল ইব্নু হুনাইফ (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা নিজ মতামতকে সঠিক মনে করো না। আমরা হুদায়বিয়ার দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। যদি আমরা যুদ্ধ করা সঠিক মনে করতাম, তবে আমরা যুদ্ধ করতাম। পরে ‘উমর ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা কি হকের উপর নই এবং তারা বাতিলের উপর? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ।অতঃপর তিনি বললেন, আমাদের নিহত ব্যক্তিগণ কি জান্নাতী নন এবং তাদের নিহত ব্যক্তিরা জাহান্নামী নয়? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, আমাদের নিহতগণ অবশ্যই জান্নাতী। ‘উমর (রাঃ) বললেন, তবে কী কারণে আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে হীনতা স্বীকার করব? আমরা কি ফিরে যাব? অথচ আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদের ও তাদের মধ্যে কোন ফায়সালা করেননি? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, হে ইব্নু খাত্তাব! আমি নিশ্চয়ই আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ), আল্লাহ আমাকে কখনো হেয় করবেন না।অতঃপর ‘উমর (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট গেলেন এবং নবী (ﷺ)-এর নিকট যা বলেছিলেন, তা তাঁর নিকট বললেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তিনি আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ), আল্লাহ তা‘আলা কখনও তাঁকে অপদস্থ করবেন না। অতঃপর সূরা ফাত্হ নাযিল হয়। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তা শেষ পর্যন্ত ‘উমর (রাঃ)-কে পাঠ করে শোনান। ‘উমর(রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এটা কি বিজয়? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৮ : জিযইয়াহ কর ও রক্তপণ, অধ্যায় ১৮, হাঃ ৩১৮২; মুসলিম, পর্ব ৩২ : জিহাদ, অধ্যায় ৩৪, হাঃ ১৭৮৫
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১৬৮-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: আস্থা। এই হাদিসে সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) সিফফীনের সময় মানুষকে বলেন, নিজেদের মতামতকে সব সময় ঠিক মনে করো না। তিনি হুদাইবিয়ার ঘটনা স্মরণ করান। উমার (রাঃ) তখন নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমরা কি হকের ওপর নই? আমাদের নিহতরা কি জান্নাতী নয়? তবে কেন আমরা এমন শর্ত মেনে ফিরব? নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তাঁকে কখনো হেয় করবেন না। আবূ বকর (রাঃ)-ও একই কথা বলেন। পরে সূরা ফাতহ নাজিল হয়, আর নবী (صلى الله عليه وسلم) জানান—এটিও বিজয়। এই হাদিসে হুদাইবিয়া, সূরা ফাতহ, আস্থা ও নিজের আবেগ যাচাই করার শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজের মত সব সময় সঠিক ধরে নেওয়া উচিত নয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ওপর আস্থা রাখা সাহাবীদের ঈমানের বড় অংশ ছিল।
- যা প্রথমে কঠিন মনে হয়, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ হতে পারে।
- সূরা ফাতহ নাজিলের পর হুদাইবিয়াকে বিজয় বলা হয়েছে।
