৪৪/২. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫৫৩ - মুনাফিকের জানাযা ও আল্লাহর নির্দেশ
উমর (রাঃ)-এর মর্যাদা।
মুনাফিকের জানাযা: আবদুল্লাহ ইবনু উবাইয়ের ঘটনা থেকে শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৫৫৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৫৫৩
حديث ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: لَمَّا تُوُفِّيَ عَبْدُ اللهِ، جَاءَ ابْنُهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَأَلَهُ أَنْ يُعْطِيَهُ قَمِيصَهُ يُكَفِّنُ فِيهِ أَبَاهُ، فَأَعْطَاهُ ثُمَّ سَأَلَهُ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لِيُصَلِّيَ، فَقَامَ عُمَرُ فَأَخَذَ بِثَوْبِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ تُصَلِّي عَلَيْهِ وَقَدْ نَهَاكَ رَبُّكَ أَنْ تُصلِّي عَلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّمَا خَيَّرَنِي اللهُ فَقَالَ (اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لاَ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً) وَسَأَزِيدُهُ عَلَى السَّبْعِينَ قَالَ: إِنَّهُ مُنَافِقٌ قَالَ: فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَنْزَلَ اللهُ (وَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلاَ تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেল, তখন তার ছেলে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) রাসূলাল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে আসলেন এবং তার পিতাকে রাসূলাল্লাহ (ﷺ)-এর জামাটি দিয়ে কাফন দেবার আবেদন করলেন। রাসূলাল্লাহ (ﷺ) জামা প্রদান করলেন, এরপর তিনি জানাযার সালাত আদায়ের জন্য নবী (ﷺ)-এর কাছে আবেদন জানালেন। রাসূলাল্লাহ (ﷺ) জানাযার সালাত পড়ানোর জন্য (বসা থেকে) উঠে দাঁড়ালেন, ইত্যবসরে ‘উমর (রাঃ) রাসূলাল্লাহ (ﷺ)-এর কাপড় টেনে ধরে আবেদন করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! আপনি কি তার জানাযার সালাত আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ আপনার রব আপনাকে তার জন্য দোয়া করতে নিষেধ করেছেন।রাসূলাল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তা‘আলা এ ব্যাপারে আমাকে (দোয়া) করা বা না করার সুযোগ দিয়েছেন। আর আল্লাহ তো ইরশাদ করেছেন, “তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর; যদি সত্তরবারও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর তবু আমি তাদের ক্ষমা করব না”। সুতরাং আমি তার জন্য সত্তরবারের চেয়েও বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করব। ‘উমর (রাঃ) বললেন, সে তো মুনাফিক, শেষ পর্যন্ত রাসূলাল্লাহ (ﷺ) তার জানাযার সালাত আদায় করলেন, এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। “তাদের (মুনাফিকদের) কেউ মারা গেলে আপনি কক্ষনো তাদের জানাযার সালাত আদায় করবেন না এবং তাদের কবরের কাছেও দাঁড়াবেন না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৫: তাফসীর, অধ্যায় ১২, হাঃ ৪৬৭০; মুসলিম, পর্ব ৪৪ : সাহাবাগণের মর্যাদা, অধ্যায়, ২, হাঃ ২৪০০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুনাফিকের জানাযা, দয়া, ক্ষমা প্রার্থনা এবং আল্লাহর নির্দেশ—এসব বিষয় খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেলে তার ছেলে রাসূলাল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে পিতাকে কাফন দেওয়ার জন্য তাঁর জামা চান। রাসূলাল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে জামা দেন। এরপর তিনি জানাযার সালাত আদায়ের আবেদন করেন। রাসূলাল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানাযার জন্য দাঁড়ালে ‘উমার (রাঃ) তাঁকে মনে করিয়ে দেন যে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা নিয়ে নিষেধ করেছেন। রাসূলাল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তখন বলেন, আল্লাহ তাঁকে সুযোগ দিয়েছেন—ক্ষমা চাইলে বা না চাইলে। তিনি আরও বেশি ক্ষমা প্রার্থনার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে আল্লাহর আয়াত নাযিল হয় যে, তাদের কারও মৃত্যু হলে জানাযার সালাত আদায় করা যাবে না এবং কবরের কাছেও দাঁড়ানো যাবে না। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দয়া ছিল গভীর, আর শেষ সিদ্ধান্ত আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ীই স্থির হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলাল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মানুষের আবেদনে দয়া ও নরম আচরণ করেছেন।
- ‘উমার (রাঃ) আল্লাহর নির্দেশের বিষয়ে সতর্ক ছিলেন এবং রাসূলাল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে তা স্মরণ করিয়ে দেন।
- জানাযার সালাত ও ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়েও আল্লাহর নির্দেশই চূড়ান্ত মানদণ্ড।
- মুনাফিকদের বিষয়ে এই হাদিসে আল্লাহর বিশেষ নির্দেশ নাযিল হওয়ার ঘটনা এসেছে।
