৪৪/২. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫৫২ - উমার (রাঃ)-এর মর্যাদা ও শয়তানের ভয়

উমর (রাঃ)-এর মর্যাদা।

উমার (রাঃ)-এর মর্যাদা: শয়তান কেন তাঁর পথ ছেড়ে চলে যায়

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৫৫২

حَدِيثُ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصٍ، قَالَ: اسْتَأْذَنَ عُمَرُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ، وَعِنْدَهُ نِسَاءٌ مِنْ قُرَيْشٍ يُكَلِّمُنَهُ، وَيَسْتَكْزِرْنَهُ، عَالِيَةً أَصْوَاتُهُنَّ. فَلَمَّا اسْتَأْذَنَ عُمَرُ قُمْنَ يَبْتَدِرْنَ الْحِجَابَ. فَأِذِنَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ، وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَضْحَكُ. فَقَالَ عُمَرُ: أَضْحِكَ اللَّهُ سِنَّكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ! قَالَ: «عَجِبْتُ مِنْ هَؤُلَاءِ اللَّاتِي كُنَّ عِنْدِي. فَلَمَّا سَمِعْنَ صَوْتَكَ ابْتَدَرْنَ الْحِجَابَ» قَالَ عُمَرُ: فَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ! كُنْتَ أَحَقَّ أَنْ يَهَبْنَ. ثُمَّ قَالَ: أَيُّ عَدَوَاتِ أَنْفُسِهِنَّ! أَتَهَبِّينَ وَلَا تَهَبْنَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ؟ فَلَرَّ: نَعَمْ! أَنْتَ أَفْظُ وَأَغْلَظُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ! مَا لَقِيَكَ الشَّيْطَانُ قَطُّ سَالِكًا فَجًا إِلَّا سَلَكَ فَجًا غَيْرَ فَجِكَ».

সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা ‘উমর (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট আসার অনুমতি চাইলেন। তখন তাঁর সঙ্গে কয়েকজন কুরায়শ নারী কথাবার্তা বলছিল। তারা খুব উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছিল। অতঃপর যখন ‘উমর (রাঃ) অনুমতি চাইলেন, তারা উঠে শীঘ্র পর্দার আড়ালে চলে গেলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁকে অনুমতি প্রদান করলেন। তখন তিনি মুচকি হাসছিলেন। তখন ‘উমর (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আল্লাহ আপনাকে সর্বদা সহাস্য রাখুন।’ তিনি বললেন, আমার নিকট যে সব মহিলা ছিল তাদের ব্যাপারে আমি আশ্চর্যান্বিত হয়েছি। তারা যখনই তোমার আওয়াজ শুনল তখনই দ্রুত পর্দার আড়ালে চলে গেল। ‘উমর (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনাকেই তাদের বেশি ভয় করা উচিত ছিল।’অতঃপর তিনি মহিলাদের উদ্দেশ্য করে বললেন, হে আত্মশত্রু মহিলাগণ! তোমরা আমাকে ভয় করছ অথচ আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে ভয় করছ না? তারা জবাব দিল, হ্যাঁ, কারণ তুমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর চেয়ে অধিক কর্কশ ভাষী ও কঠোর হৃদয়ের লোক। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘শপথ ঐ সত্তার যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তুমি যে পথে চল শয়তান কখনও সে পথে চলে না বরং সে তোমার পথ ছেড়ে অন্য পথে চলে।’

সহীহ বুখারী, পর্ব ৫৯: সৃষ্টির সূচনা, অধ্যায় ১০, হাঃ ৩২৯৪; মুসলিম, পর্ব ৪৪ : সাহাবাগণের মর্যাদা, অধ্যায়, ২, হাঃ ২৩৯৭

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫৫২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো উমার (রাঃ)-এর মর্যাদা ও তাঁর ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা। হাদিসে দেখা যায়, কয়েকজন কুরায়শ নারী রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং তাঁদের কণ্ঠস্বর উঁচু ছিল। কিন্তু উমার (রাঃ)-এর আওয়াজ শুনেই তাঁরা দ্রুত পর্দার আড়ালে চলে যান। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বিষয়টি দেখে মুচকি হাসেন। এরপর উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কেই তাঁদের বেশি ভয় করা উচিত ছিল। নারীরা জানায়, উমার (রাঃ) তাঁদের কাছে বেশি কঠোর স্বভাবের মনে হয়। এই কথার পর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উমার (রাঃ)-এর জন্য বড় একটি মর্যাদার কথা বলেন—তিনি যে পথে চলেন, শয়তান সেই পথ ছেড়ে অন্য পথে চলে। তাই এই হাদিসে উমার রাঃ এর মর্যাদা, শয়তানের ভয় এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কোমল আচরণ সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • উমার (রাঃ)-এর ব্যক্তিত্বে দৃঢ়তা ও প্রভাব ছিল, যা হাদিসে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মানুষের আচরণ লক্ষ করতেন এবং কোমলভাবে বিষয়টি তুলে ধরতেন।
  • নবীজির মর্যাদা ও সম্মানের প্রতি বেশি যত্নবান হওয়া উচিত—এ কথা উমার (রাঃ) নারীদের স্মরণ করিয়ে দেন।
  • হাদিসে উমার (রাঃ)-এর এমন মর্যাদা বলা হয়েছে যে শয়তান তাঁর পথ ছেড়ে অন্য পথে চলে যায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন