৫/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৪৩-[২১] - জ্বরকে গালি না দেওয়ার শিক্ষা
রোগী দেখা ও রোগের সওয়াব - প্রথম অনুচ্ছেদ
অধিকাংশ লেখকবৃন্দ এর মধ্যে মুহাদ্দিসগণ ও ফুকাহারা জানাযাহ্ পর্বকে সালাতের পরে এনেছেন। কেননা মৃত ব্যক্তির সাথে গোসল, কাফন ইত্যাদি ক্রম করা হয় বিশেষ করে তার ওপর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা হয় যেখানে তার জন্য কবরের ‘আযাব হতে মুক্তি পাওয়ার উপকারিতা বিদ্যমান থাকে। কারো মতে মানুষের দু’ অবস্থা একটি জীবিত অপরটি মৃত অবস্থা আর প্রত্যেকটির সাথে সম্পর্ক থাকে ‘ইবাদাত ও মু‘আমিলাতের হুকুম-আহকাম। আর গুরুত্বপূর্ণ ‘ইবাদাত হচ্ছে সালাত। সুতরাং যখন জীবিতকালীন সম্পর্কিত হুকুম-আহকাম হতে মুক্ত হল তখন মৃত্যুকালীন সম্পর্কিত বিষয়াদি আলোচনা করা হল তন্মধ্যে সালাত ও অন্যান্য বিষয়।কারো মতে, জানাযার সালাত শুরু হয়েছে হিজরীর প্রথম বৎসরে, সুতরাং যারা মক্কায় মারা গেছে তাদের ওপর সালাত আদায় হয়নি।
জ্বরকে গালি নয়: গুনাহ দূর হওয়ার নববী শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৫৪৩-[২১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫৪৩-[২১]
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: دَخَلَ رَسُوْلِ اللّهِ ﷺ عَلَى اُمِّ السَّائِبِ فَقَالَ: «مَالَكِ تُزَفْزِفِينَ؟». قَالَتِ: الْحُمّى لَا بَارَكَ اللّهُ فِيهَا فَقَالَ: «لَا تَسُبِّي الْحُمّى فَإِنَّهَا تُذْهِبُ خَطَايَا بَنِىْ ادَمَ كَمَا يُذْهِبُ الْكِيْرُ خَبَثَ الْحَدِيْدِ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু সায়িব (রাঃ) -এর কাছে গেলেন। তাঁকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি হয়েছে? তুমি কাঁদছো কেন? উম্মু সায়িব (রাঃ) বলল, আমার জ্বর বেড়েছে। আল্লাহ এর ভাল না করুন। তাঁর কথা শুনে তিনি (ﷺ) বললেন, জ্বরকে গালি দিও না। কারণ জ্বর বানী আদামের গুনাহগুলো এভাবে দূর করে দেয়, যেভাবে হাপর লোহার মরিচ দূর করে। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ২৫৭৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৬১, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ৭১৫, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৩৭, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৭৩২১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৪৩-[২১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উম্মু সায়িব (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে তাঁর কষ্টের কারণ জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, জ্বর বেড়েছে এবং জ্বরের ব্যাপারে বিরক্তি প্রকাশ করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বলেন, জ্বরকে গালি দিও না। কারণ জ্বর বানী আদামের গুনাহ দূর করে, যেমন হাপর লোহার মরিচা দূর করে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো অসুস্থতার সময় ভাষা সংযত রাখা এবং কষ্টের মধ্যেও আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণের আশা রাখা। এখানে জ্বরের কষ্টকে ছোট করা হয়নি; বরং বলা হয়েছে, এই কষ্ট গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে। তাই অসুস্থ হলে অভিযোগে ডুবে না গিয়ে ধৈর্য, দোআ ও ভালো ধারণা রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জ্বর বা অসুস্থতাকে গালি দেওয়া উচিত নয়।
- জ্বর গুনাহ দূর হওয়ার একটি কারণ হতে পারে।
- অসুস্থ মানুষের খোঁজ নেওয়া নবীজির আমল।
- কষ্টের সময় মুখের কথা সংযত রাখা দরকার।
