১৬/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৪৬৬-[২১] - মুসলিমের রক্ত কখন হালাল নয়
কিসাস (প্রতিশোধ) - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মুসলিমের রক্তের মর্যাদা ও তিনটি ব্যতিক্রম
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৪৬৬-[২১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৪৬৬-[২১]
وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَشْرَفَ يَوْمَ الدَّارِ فَقَالَ: أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بِإِحْدَى ثلاثٍ: زِنىً بَعْدَ إِحْصَانٍ أَوْ كُفْرٌ بَعْدَ إِسْلَامٍ أَوْ قتْلِ نفْسٍ بِغَيْر حق فَقتل بِهِ؟ فو الله مَا زَنَيْتُ فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلَا إِسْلَامٍ وَلَا ارْتَدَدْتُ مُنْذُ بَايَعْتُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا قَتَلْتُ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ فَبِمَ تَقْتُلُونَنِي؟ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَه وللدارمي لفظ الحَدِيث
আবূ উমামাহ্ ইবনু সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ) তাঁর অবরোধের দিন উঁচুস্থানে উঠে (বিদ্রোহীদের উদ্দেশে) বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি। তোমরা কি জান না, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : কোনো মুসলিমের রক্ত তিনটি কারণের কোনো একটি ব্যতীত হালাল নয়-(১) বিবাহের পর ব্যভিচার করা,(২) ইসলাম গ্রহণের পর পুনরায় কুফরীতে লিপ্ত হওয়া এবং(৩) অনৈতিকভাবে কোনো লোককে হত্যা করা। এ তিনটি কারণের কোনো একটি করলে তাকে হত্যা করা যাবে।আল্লাহর কসম! আমি জাহিলিয়্যাত যুগেও যিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হইনি এবং ইসলাম গ্রহণের পরও না। আমি যেদিন থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাতে ইসলামের বায়'আত গ্রহণ করেছি, সেদিন হতে কক্ষনো কুফরীতে লিপ্ত হইনি এবং আমি এমন কোনো লোককে হত্যাও করিনি, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন। তাহলে বল, তোমরা কেন আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছ?
[১] সহীহ : তিরমিযী ২১৫৮, আবূ দাঊদ ৪৫০২, নাসায়ী ৪০১৯, ইবনু মাজাহ ২৫৩৩।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৪৬৬-[২১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) তাঁর অবরোধের দিনে বিদ্রোহীদের সামনে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর বাণী স্মরণ করান। তিনি বলেন, কোনো মুসলিমের রক্ত তিনটি কারণ ছাড়া হালাল নয়: বিবাহের পর ব্যভিচার, ইসলাম গ্রহণের পর কুফরীতে ফিরে যাওয়া এবং অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, যার কারণে ক্বিসাস প্রযোজ্য হয়। এরপর উসমান (রাঃ) নিজের ব্যাপারে বলেন, তিনি জাহিলিয়্যাতেও যিনা করেননি, ইসলাম গ্রহণের পর মুরতাদ হননি, এবং আল্লাহ যাকে হত্যা হারাম করেছেন এমন কাউকে হত্যা করেননি। তাই তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে তাঁকে কেন হত্যা করা হচ্ছে। এই হাদিস মুসলিম রক্তের বিধান, ন্যায়বিচার এবং অভিযোগের আগে প্রমাণের গুরুত্ব শেখায়। কারও প্রাণ নেওয়া আবেগ বা বিদ্রোহের বিষয় নয়, বরং শরীয়তের নির্দিষ্ট বিধানের সঙ্গে জড়িত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসলিমের রক্ত তিনটি নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া হালাল নয়।
- কাউকে হত্যা করার আগে শরীয়তের ন্যায়ভিত্তিক বিধান মানা জরুরি।
- অভিযোগের সঙ্গে প্রমাণ ও বৈধ কারণ থাকা দরকার।
- উসমান (রাঃ) নিজের অবস্থান আল্লাহর কসম দিয়ে পরিষ্কার করেছেন।
