২০/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১০১-[৪] - শিকারী ও পাহারার কুকুরের বিধান
কুকুর সম্পর্কে বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
শিকারী ও পাহারার কুকুর সম্পর্কে হাদিসের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪১০১-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১০১-[৪]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِقَتْلِ الْكِلَابِ إِلَّا كَلْبَ صيدٍ أَو كلب غنم أَو مَاشِيَة
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) শিকারী কুকুর কিংবা মেষ-দুম্বা পাহারাদানকারী কুকুর অথবা গবাদিপশু পাহারায় নিয়োজিত কুকুর ছাড়া অন্যান্য সব কুকুর বধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
[১] সহীহ : সহীহুল বুখারী ৩৩২৩, মুসলিম (১৫৭০)-৪৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৬৪৮, নাসায়ী ৪২৭৯, আবূ দাঊদ ৭৪, তিরমিযী ১৪৮৮, ইরওয়া ২৫৪৯, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ১৯৯২১, ইবনু মাজাহ ৩২০০, দারাকুত্বনী ১১, দারিমী ২০০৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১০১-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুকুর সম্পর্কিত একটি নির্দিষ্ট বিধান এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم শিকারী কুকুর, মেষ-দুম্বা পাহারাদানকারী কুকুর এবং গবাদিপশু পাহারায় নিয়োজিত কুকুরকে ব্যতিক্রম করেছেন। অর্থাৎ হাদিসের ভাষা থেকে বোঝা যায়, প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কুকুর ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ইসলামে প্রাণী সম্পর্কেও নিয়ম আছে এবং মানুষের প্রয়োজনও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। শিকার, পশুপালন ও পাহারার মতো কাজের জন্য কুকুর রাখার কথা আলাদা করে বলা হয়েছে। তাই এই হাদিস কুকুর পালনের বিধান, শিকারী কুকুর এবং পাহারার কুকুর বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক দেখায়। ব্যাখ্যা করার সময় হাদিসের সীমা মেনে বলা জরুরি যে, এখানে শুধু উল্লেখিত প্রয়োজনগুলোর ব্যতিক্রম স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিকার ও পাহারার মতো বাস্তব প্রয়োজনকে হাদিসে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- প্রাণী সম্পর্কিত বিধানে আবেগ নয়, নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ মানাই মূল কথা।
- গবাদিপশু ও মেষ-দুম্বার নিরাপত্তার জন্য কুকুর ব্যবহারের ব্যতিক্রম আছে।
- হাদিসের ব্যতিক্রমগুলো বুঝে কুকুর পালনের বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
