২০/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৫৬-[৮] - আকীকাহ শব্দ ও পশুর সংখ্যা
আকিকার বর্ণনা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
আকীকাহ সম্পর্কে প্রশ্ন ও পশুর সংখ্যা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪১৫৬-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১৫৬-[৮]
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْعَقِيقَةِ فَقَالَ: «لَا يُحِبُّ اللَّهُ الْعُقُوقَ» كَأَنَّهُ كَرِهَ الِاسْمَ وَقَالَ: «مَنْ وُلِدَ لَهُ وَلَدٌ فَأَحَبَّ أَنْ يَنْسِكَ عَنْهُ فَلْيَنْسِكْ عَنِ الْغُلَامِ شَاتَيْنِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةً». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ
‘আম্র ইবনু শু'আয়ব (রহঃ) তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আকীকাহ্ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি (ﷺ) বললেন : আল্লাহ তা'আলা 'উকুক্ব (নাফরমানীকে) পছন্দ করেন না। যেন 'আক্বীক্বাহ্' শব্দটি ব্যবহার করাকে তিনি পছন্দ করেননি। অতঃপর তিনি বললেন : যার কোন সন্তান জন্মায়, আর সে তার পক্ষ হতে কোন পশু যবেহ করতে চায়, তবে সে যেন অবশ্যই ছেলের পক্ষ হতে দু'টি এবং মেয়ের পক্ষ হতে একটি বকরী যবেহ করে।
[১] হাসান : আবূ দাঊদ ২৮৪২, নাসায়ী ৪২১২, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১৬৫৫, ইরওয়া ৪/৩৬২, মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৮৩৮, মুসনাদে আহমাদ ৬৭১৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৭৫২, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ২০৯০৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৩১০, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়রাহ্ ২-(৪)।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৫৬-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে আকীকাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি বলেন, আল্লাহ উকুক বা নাফরমানী পছন্দ করেন না। বর্ণনাকারী বলেন, যেন আকীকাহ শব্দটি ব্যবহার করা তিনি পছন্দ করেননি। এরপর তিনি বলেন, যার সন্তান জন্মায় এবং সে তার পক্ষ থেকে পশু যবেহ করতে চায়, সে যেন ছেলের পক্ষ থেকে দুটি এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরী যবেহ করে। এই হাদিসে দুটি বিষয় একসঙ্গে এসেছে—শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে সূক্ষ্ম ইঙ্গিত এবং নবজাতকের পক্ষ থেকে যবেহ করার সংখ্যা। আকীকাহর বিধান, ছেলে-মেয়ের আকীকাহ এবং পশুর সংখ্যা নিয়ে জানতে এই বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানে “যে যবেহ করতে চায়” কথাটিও লক্ষ করার মতো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আকীকাহ শব্দ সম্পর্কে নবী صلى الله عليه وسلم-এর একটি সূক্ষ্ম অপছন্দের ইঙ্গিত এসেছে।
- সন্তানের পক্ষ থেকে যবেহ করতে চাইলে ছেলের জন্য দুই বকরীর কথা এসেছে।
- মেয়ের পক্ষ থেকে এক বকরী যবেহের কথা বলা হয়েছে।
- হাদিসের প্রতিটি শব্দ বুঝে বক্তব্য উপস্থাপন করা দরকার।
