২০/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৫৮-[১০] - জাহিলী রক্ত প্রথার বদলে যাফরান
আকিকার বর্ণনা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
আকীকাহতে রক্ত নয়, যাফরানের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪১৫৮-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১৫৮-[১০]
عَن بُريدةَ قَالَ: كُنَّا فِي الْجَاهِلَيَّةِ إِذَا وُلِدَ لِأَحَدِنَا غلامٌ ذَبَحَ شاةٌ ولطَّخَ رأسَه بدمه فَلَمَّا جَاءَ الْإِسْلَامُ كُنَّا نَذْبَحُ الشَّاةَ يَوْمَ السَّابِعِ وَنَحْلِقُ رَأْسَهُ وَنُلَطِّخُهُ بِزَعْفَرَانٍ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَزَاد رزين: ونُسمِّيه
বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জাহিলী যুগে আমাদের কারো সন্তান জন্ম নিলে সে একটি বকরী যবেহ করত এবং তার রক্ত নিয়ে শিশুর মাথায় মালিশ করে দিত। কিন্তু ইসলাম আবির্ভাবের পর শিশুর জন্মের সপ্তম দিন আমরা একটি বকরী যবেহ করি, তার মাথা কামিয়ে ফেলি এবং তার মাথায় যা'ফরান মালিশ করি। আর ইমাম রযীন (রহঃ) অতিরিক্ত এ কথাটিও বর্ণনা করেছেন যে, সেদিন আমরা তার নামও রাখি।
[১] হাসান সহীহ : আবূ দাঊদ ২৮৪৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৭৬৬, ইরওয়া ৪/৩৮৮, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৬/৪১৩, ২৯১৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৫৮-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বুরাইদা (রাঃ) জাহিলী যুগের একটি প্রথার কথা বলেন। তখন কারো সন্তান জন্মালে তারা একটি বকরী যবেহ করত এবং তার রক্ত শিশুর মাথায় মাখিয়ে দিত। ইসলাম আসার পর তারা জন্মের সপ্তম দিনে একটি বকরী যবেহ করতেন, শিশুর মাথা কামাতেন এবং মাথায় যাফরান লাগাতেন। ইমাম রযীন অতিরিক্তভাবে বর্ণনা করেছেন, সেদিন তারা শিশুর নামও রাখতেন। এই হাদিস আকীকাহর মাধ্যমে জাহিলী প্রথা থেকে ইসলামী পদ্ধতির পার্থক্য দেখায়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, শিশুর জন্মের আনন্দে পশু যবেহ, মাথা কামানো এবং রক্তের বদলে পরিচ্ছন্ন পদ্ধতি গ্রহণ। ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত বিধান বানানো ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জাহিলী যুগে শিশুর মাথায় রক্ত লাগানোর প্রথা ছিল বলে বর্ণিত হয়েছে।
- ইসলামে সপ্তম দিনে যবেহ, মাথা কামানো ও যাফরান ব্যবহারের কথা এসেছে।
- শিশুর জন্মের কাজগুলোতে পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর পদ্ধতি শেখানো হয়েছে।
- অতিরিক্ত বর্ণনায় সেদিন নাম রাখার কথাও এসেছে।
