২১/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৮৫-[২৭] - কাঁকড়ি ও তাজা খেজুর খাওয়ার সুন্নত
খাদ্য - প্রথম অনুচ্ছেদ
أطعمة(আত্ব‘ইমাহ্) শব্দটি বহুবচন। এর একবচন হলطَعَامٌ(ত্ব‘আ-মুন)। অর্থ হলো, যে জিনিস খাওয়া বা ভক্ষণ করা হয়ে থাকে। এখানেأطعمة(আত্ব‘ইমাহ্) দ্বারা ভক্ষণীয় ও পানীয় উভয় ধরনের বস্তু উদ্দেশ্য। কিন্তু ভক্ষণীয় জিনিসকে প্রাধান্য দিয়ে লেখক শিরোনাম তৈরি করেছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)মূলত এ অধ্যায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেসব খাবার খেয়েছেন, পান করেছেন অথবা খাননি, পানও করেননি তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আর খাবার ও পান করার আদব বা শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়া হয়েছে।[সম্পাদক]
কাঁকড়ি ও তাজা খেজুর: নবী صلى الله عليه وسلم-এর খাবার
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪১৮৫-[২৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১৮৫-[২৭]
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ الرُّطَبَ بِالْقِثَّاءِ
'আবদুল্লাহ ইবনু জা'ফার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কাঁকড়ির সাথে তাজা খেজুর খেতে দেখেছি।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৪৪০, ৫৪৪৭, ৫৪৪৯; মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ৩৪-(৪), আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৪৮৬১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৮৫-[২৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু জাফর (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে কাঁকড়ির সঙ্গে তাজা খেজুর খেতে দেখেছেন। বর্ণনাটি খুব সরল। এতে কোনো দীর্ঘ বিধান নেই, বরং নবী صلى الله عليه وسلم কীভাবে কিছু খাবার একসঙ্গে খেতেন, তার একটি চিত্র এসেছে। কাঁকড়ি ও তাজা খেজুর একসঙ্গে খাওয়ার কথা এখানে সরাসরি আছে। তাই এই হাদিস নিয়ে অতিরিক্ত দাবি না করে বলা যায়, নবী صلى الله عليه وسلم-এর খাবার ছিল সহজ, পরিচিত এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কাছাকাছি। খেজুর খাওয়ার হাদিস, তাজা খেজুরের সুন্নত এবং খাবারে নবী صلى الله عليه وسلم-এর পছন্দ বোঝার জন্য এই বর্ণনা প্রাসঙ্গিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم কাঁকড়ির সঙ্গে তাজা খেজুর খেয়েছেন।
- খাবারে সরলতা নবী صلى الله عليه وسلم-এর জীবনে দেখা যায়।
- হালাল খাবার একসঙ্গে খাওয়ার উদাহরণ এই বর্ণনায় পাওয়া যায়।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর দৈনন্দিন খাবার থেকেও আদব শেখা যায়।
