২৩/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫২৭-[১৪] - বদনজরে রুকইয়ার নির্দেশ
চিকিৎসা ও মন্ত্র - প্রথম অনুচ্ছেদ
ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, চিকিৎসাশাস্ত্রের মৌলিক উদ্দেশ্য তিনটি। শারীরিক সুস্থতার সংরক্ষণ, দুর্ভোগ ও কষ্ট লাঘব এবং শরীর হতে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আলোচ্য অধ্যায়ে দু’ প্রকার চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।প্রথমত শারীরিক চিকিৎসা, মূলত এটিই এখানে উদ্দেশ্য।দ্বিতীয়ত অন্তরের চিকিৎসা, যার মৌলিক উপাদান হচ্ছে নবী (ﷺ) কর্তৃক আনীত আল্লাহ তা‘আলার বাণী মহাগ্রন্থ আল কুরআন।শারীরিক ব্যাধির চিকিৎসার বিষয়টি হাদীসে বিভিন্নভাবে এসেছে যা ত্বিবিব নবী হিসেবে পরিচিত।অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়। শারীরিক ব্যাধির এ চিকিৎসা আবার দুই ধরনের। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে প্রাণীকুলের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত কিছু প্রাকৃতিক বিষয়, যেমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। অন্যটি চিন্তা-ভাবনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।ইসলামী শারী‘আর আলোকে চিকিৎসার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে ঝাড়ফুঁক। যা বাস্তবসম্মত ও পরীক্ষিত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। ইমাম বাযযার (রহিমাহুল্লাহ) ‘উরওয়াহ্ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কীয় প্রচুর জ্ঞান কিভাবে অর্জন করলেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিভিন্ন সময়ের ব্যাধিতে ‘আরব চিকিৎসকগণ তাঁর চিকিৎসার প্রাক্কালে আমি এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছি।ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কে নবী (ﷺ) হতে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থও রচিত হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে অনেক মতামত বিদিত রয়েছে। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কথা হচ্ছে এ সম্পর্কিত কতক বিষয় নবীগণ ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। তবে অধিকাংশ বিষয়ই অভিজ্ঞতালব্ধ।ইমাম বাযযার ও ত্ববারানী (রহিমাহুমাল্লাহ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ সুলায়মান (আঃ) যখনই সালাতে দাঁড়াতেন তিনি তাঁর সম্মুখে একটি বৃক্ষ দেখতে পেতেন। তিনি বৃক্ষটিকে বলতেন, তোমার নাম কী? সেটি তার নাম উল্লেখ করলে, আবারো জিজ্ঞেস করতেন। তুমি কী জন্য? সেটি ঔষধি হলে তিনি তা লিখে রাখতেন ও পরে তা রোপণ করতেন।অত্র অধ্যায়ের সারমর্ম এই যে, প্রত্যেক মানুষের সুস্থতা ও অসুস্থতা আল্লাহর পক্ষ হতে লিখিত ভাগ্যলিপির অংশ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
বদনজর লাগলে রুকইয়া: নবীজির নির্দেশ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৫২৭-[১৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫২৭-[১৪]
وَعَن عَائِشَة قَالَتْ: أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَسْتَرْقِيَ مِنَ الْعَيْنِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(কারো ওপর) বদনজর লাগলে নবী (ﷺ) ঝাড়ফুঁক করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৭৩৮, মুসলিম (২১৯৫)-৫৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬১০৩, ‘নাসায়ী’র কুবরা ৭৫৩৬, ইবনু মাজাহ ৩৫১২ সহীহাহ্ ২৫২১, আল জামি‘উস্ সগীর ৯০১৫, সহীহুল জামি‘ ৪৮৮৪, আহমাদ ২৪৩৪৫, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৭/২৬৫ পৃঃ, মুসতাদরাক হাকিম ৮২৬৭, বায়হাক্বী ২০০৬৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫২৭-[১৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রা.) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) বদনজর লাগলে রুকইয়া করতে নির্দেশ দিয়েছেন। বর্ণনাটি খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু বিষয়টি পরিষ্কার। বদনজরকে হালকা করে দেখানো হয়নি; বরং এর জন্য বৈধ ঝাড়ফুঁক বা রুকইয়ার পথ দেখানো হয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, কষ্ট বা ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিলে শির্কমুক্ত দোয়া ও বৈধ পদ্ধতি গ্রহণ করা যায়। তবে রুকইয়াকে কোনো স্বাধীন শক্তি মনে করা যাবে না; উপকার আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। বদনজর লাগলে করণীয়, বদনজর রুকইয়া এবং ইসলামি ঝাড়ফুঁক সম্পর্কে যারা জানতে চান, তাদের জন্য এই হাদিসটি সরাসরি প্রাসঙ্গিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বদনজর লাগলে রুকইয়া করার নির্দেশ হাদিসে আছে।
- রুকইয়া শির্কমুক্ত দোয়া ও বৈধ কথার মাধ্যমে হওয়া দরকার।
- উপকারের মালিক আল্লাহ; রুকইয়া একটি উপায় মাত্র।
- কষ্টের সময় বৈধ সাহায্য নেওয়া ইসলামে স্বীকৃত।
