২৩/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫২৬-[১৩] - বদনজর ও দংশনে রুকইয়া

চিকিৎসা ও মন্ত্র - প্রথম অনুচ্ছেদ

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, চিকিৎসাশাস্ত্রের মৌলিক উদ্দেশ্য তিনটি। শারীরিক সুস্থতার সংরক্ষণ, দুর্ভোগ ও কষ্ট লাঘব এবং শরীর হতে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আলোচ্য অধ্যায়ে দু’ প্রকার চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।প্রথমত শারীরিক চিকিৎসা, মূলত এটিই এখানে উদ্দেশ্য।দ্বিতীয়ত অন্তরের চিকিৎসা, যার মৌলিক উপাদান হচ্ছে নবী (ﷺ) কর্তৃক আনীত আল্লাহ তা‘আলার বাণী মহাগ্রন্থ আল কুরআন।শারীরিক ব্যাধির চিকিৎসার বিষয়টি হাদীসে বিভিন্নভাবে এসেছে যা ত্বিবিব নবী হিসেবে পরিচিত।অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়। শারীরিক ব্যাধির এ চিকিৎসা আবার দুই ধরনের। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে প্রাণীকুলের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত কিছু প্রাকৃতিক বিষয়, যেমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। অন্যটি চিন্তা-ভাবনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।ইসলামী শারী‘আর আলোকে চিকিৎসার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে ঝাড়ফুঁক। যা বাস্তবসম্মত ও পরীক্ষিত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। ইমাম বাযযার (রহিমাহুল্লাহ) ‘উরওয়াহ্ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কীয় প্রচুর জ্ঞান কিভাবে অর্জন করলেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিভিন্ন সময়ের ব্যাধিতে ‘আরব চিকিৎসকগণ তাঁর চিকিৎসার প্রাক্কালে আমি এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছি।ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কে নবী (ﷺ) হতে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থও রচিত হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে অনেক মতামত বিদিত রয়েছে। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কথা হচ্ছে এ সম্পর্কিত কতক বিষয় নবীগণ ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। তবে অধিকাংশ বিষয়ই অভিজ্ঞতালব্ধ।ইমাম বাযযার ও ত্ববারানী (রহিমাহুমাল্লাহ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ সুলায়মান (আঃ) যখনই সালাতে দাঁড়াতেন তিনি তাঁর সম্মুখে একটি বৃক্ষ দেখতে পেতেন। তিনি বৃক্ষটিকে বলতেন, তোমার নাম কী? সেটি তার নাম উল্লেখ করলে, আবারো জিজ্ঞেস করতেন। তুমি কী জন্য? সেটি ঔষধি হলে তিনি তা লিখে রাখতেন ও পরে তা রোপণ করতেন।অত্র অধ্যায়ের সারমর্ম এই যে, প্রত্যেক মানুষের সুস্থতা ও অসুস্থতা আল্লাহর পক্ষ হতে লিখিত ভাগ্যলিপির অংশ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

বদনজর ও দংশনে রুকইয়া করার অনুমতি

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫২৬-[১৩]

وَعَن أنسٍ قَالَ: رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الرُّقْيَةِ مِنَ الْعَيْنِ وَالْحُمَّةِ وَالنَّمْلَةِ. رَوَاهُ مُسلم

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

কারো ওপর বদনজর লাগলে, কোন বিষাক্ত প্রাণী দংশন করলে এবং পাঁজরে খুজলি উঠলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঝাড়ফুঁক করতে অনুমতি দিয়েছেন।

[১] সহীহ : মুসলিম (২১৯৬)-৫৮, ‘নাসায়ী’র কুবরা ৭৫৪১, আহমাদ ১২২৮২, ১২১৯৪; ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৩৫৩৬, ‘বায়হাক্বী’র কুবরা ২০০৭৫; সহীহ ইবনু হিব্বান ৬১০৪।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫২৬-[১৩]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন যে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বদনজর, বিষাক্ত প্রাণীর দংশন এবং পাঁজরে খুজলি উঠলে ঝাড়ফুঁক বা রুকইয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এখানে রুকইয়া বলতে এমন দোয়া বা পাঠ বোঝানো হয়েছে, যা শির্কমুক্ত এবং উপকারের উদ্দেশ্যে করা হয়। হাদিসের মূল কথা হলো, নির্দিষ্ট কিছু কষ্টে রুকইয়া বৈধ হতে পারে। এটি অন্ধ বিশ্বাস বা অজানা মন্ত্রের অনুমতি নয়। বরং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর অনুমতির সীমার মধ্যে থাকা দরকার। বদনজর রুকইয়া, বিষাক্ত দংশনের দোয়া এবং ইসলামি ঝাড়ফুঁক নিয়ে যারা জানতে চান, তাদের জন্য এই বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ। এতে অসুস্থ বা কষ্টে থাকা মানুষকে সাহায্য করার দিকও দেখা যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বদনজরের ক্ষেত্রে রুকইয়ার অনুমতি হাদিসে এসেছে।
  • বিষাক্ত দংশনের কষ্টে ঝাড়ফুঁক করা বৈধ হতে পারে।
  • রুকইয়া শির্কমুক্ত ও সঠিক পদ্ধতিতে হওয়া দরকার।
  • কষ্টে থাকা মানুষকে বৈধ উপায়ে সাহায্য করা ভালো কাজ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন