২৩/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫২৫-[১২] - জ্বর ঠাণ্ডা করার শিক্ষা

চিকিৎসা ও মন্ত্র - প্রথম অনুচ্ছেদ

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, চিকিৎসাশাস্ত্রের মৌলিক উদ্দেশ্য তিনটি। শারীরিক সুস্থতার সংরক্ষণ, দুর্ভোগ ও কষ্ট লাঘব এবং শরীর হতে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আলোচ্য অধ্যায়ে দু’ প্রকার চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।প্রথমত শারীরিক চিকিৎসা, মূলত এটিই এখানে উদ্দেশ্য।দ্বিতীয়ত অন্তরের চিকিৎসা, যার মৌলিক উপাদান হচ্ছে নবী (ﷺ) কর্তৃক আনীত আল্লাহ তা‘আলার বাণী মহাগ্রন্থ আল কুরআন।শারীরিক ব্যাধির চিকিৎসার বিষয়টি হাদীসে বিভিন্নভাবে এসেছে যা ত্বিবিব নবী হিসেবে পরিচিত।অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়। শারীরিক ব্যাধির এ চিকিৎসা আবার দুই ধরনের। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে প্রাণীকুলের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত কিছু প্রাকৃতিক বিষয়, যেমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। অন্যটি চিন্তা-ভাবনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।ইসলামী শারী‘আর আলোকে চিকিৎসার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে ঝাড়ফুঁক। যা বাস্তবসম্মত ও পরীক্ষিত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। ইমাম বাযযার (রহিমাহুল্লাহ) ‘উরওয়াহ্ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কীয় প্রচুর জ্ঞান কিভাবে অর্জন করলেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিভিন্ন সময়ের ব্যাধিতে ‘আরব চিকিৎসকগণ তাঁর চিকিৎসার প্রাক্কালে আমি এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছি।ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কে নবী (ﷺ) হতে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থও রচিত হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে অনেক মতামত বিদিত রয়েছে। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কথা হচ্ছে এ সম্পর্কিত কতক বিষয় নবীগণ ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। তবে অধিকাংশ বিষয়ই অভিজ্ঞতালব্ধ।ইমাম বাযযার ও ত্ববারানী (রহিমাহুমাল্লাহ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ সুলায়মান (আঃ) যখনই সালাতে দাঁড়াতেন তিনি তাঁর সম্মুখে একটি বৃক্ষ দেখতে পেতেন। তিনি বৃক্ষটিকে বলতেন, তোমার নাম কী? সেটি তার নাম উল্লেখ করলে, আবারো জিজ্ঞেস করতেন। তুমি কী জন্য? সেটি ঔষধি হলে তিনি তা লিখে রাখতেন ও পরে তা রোপণ করতেন।অত্র অধ্যায়ের সারমর্ম এই যে, প্রত্যেক মানুষের সুস্থতা ও অসুস্থতা আল্লাহর পক্ষ হতে লিখিত ভাগ্যলিপির অংশ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

জ্বর সম্পর্কে হাদিস: পানি দিয়ে ঠাণ্ডা করার শিক্ষা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫২৫-[১২]

وَعَنْ عَائِشَةَ وَرَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْحمى من فيج جَهَنَّم فَأَبْرِدُوهَا بِالْمَاءِ»

‘আয়িশাহ্ ও রাফি' ইবনু খদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেছেন : জ্বরের উৎপত্তি জাহান্নামের তাপ হতে। সুতরাং তোমরা পানি দ্বারা তা ঠাণ্ডা করো।

[১] সহীহ : বুখারী ৩২৬১, ৩২৬৩, ৩২৬৪, ৫৭২৫, ৫৭২৬; মুসলিম (২২০৯)-৭৮, (২২০৯)-৭৮, (২২১০)-৮১৪; আবূ ইয়া‘লা ৪৬৩৫, আহমাদ ৪৭১৯, তিরমিযী ২০৭৩, ২০৭৪; ইবনু মাজাহ ৩৪৭১, ৩৭২, ৩৪৭৩; আল জামি‘উস্ সগীর ৫৫০২, সহীহুল জামি‘ ৩১৯১, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৩৬৬৮, ‘নাসায়ী’র কুবরা ৭৬০৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬০৬৬, দারিমী ২৭৬৯, মুসতাদরাক হাকিম ৮২২৮, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৩৯৯০, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৯৮১৩।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫২৫-[১২]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) জ্বর সম্পর্কে একটি গভীর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, জ্বরের উৎপত্তি জাহান্নামের তাপ হতে; তাই পানি দ্বারা তা ঠাণ্ডা করো। এখানে জ্বরের কষ্টকে হালকা করে দেখানো হয়নি। বরং জ্বরের তাপের ভয়াবহতা বুঝিয়ে পানি দিয়ে ঠাণ্ডা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাদিসটি চিকিৎসার একটি সহজ দিকও দেখায়—রোগ হলে উপায় গ্রহণ করতে হবে। তবে এই বর্ণনা থেকে সব জ্বরের চিকিৎসা একইভাবে হবে এমন অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। জ্বরের হাদিস, পানি দিয়ে জ্বর কমানো এবং নবীজির চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করলে এই হাদিসটি সরাসরি প্রাসঙ্গিক। রোগের সময় আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বৈধ উপায় নেওয়াই এর সুন্দর শিক্ষা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • জ্বরের কষ্টকে হাদিসে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • জ্বর ঠাণ্ডা করতে পানি ব্যবহারের নির্দেশ এসেছে।
  • রোগ হলে বৈধ চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।
  • আরোগ্যের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে উপায় গ্রহণ করা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন