২৩/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫২৮-[১৫] - নজর লাগলে করণীয়

চিকিৎসা ও মন্ত্র - প্রথম অনুচ্ছেদ

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, চিকিৎসাশাস্ত্রের মৌলিক উদ্দেশ্য তিনটি। শারীরিক সুস্থতার সংরক্ষণ, দুর্ভোগ ও কষ্ট লাঘব এবং শরীর হতে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আলোচ্য অধ্যায়ে দু’ প্রকার চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।প্রথমত শারীরিক চিকিৎসা, মূলত এটিই এখানে উদ্দেশ্য।দ্বিতীয়ত অন্তরের চিকিৎসা, যার মৌলিক উপাদান হচ্ছে নবী (ﷺ) কর্তৃক আনীত আল্লাহ তা‘আলার বাণী মহাগ্রন্থ আল কুরআন।শারীরিক ব্যাধির চিকিৎসার বিষয়টি হাদীসে বিভিন্নভাবে এসেছে যা ত্বিবিব নবী হিসেবে পরিচিত।অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়। শারীরিক ব্যাধির এ চিকিৎসা আবার দুই ধরনের। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে প্রাণীকুলের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত কিছু প্রাকৃতিক বিষয়, যেমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। অন্যটি চিন্তা-ভাবনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।ইসলামী শারী‘আর আলোকে চিকিৎসার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে ঝাড়ফুঁক। যা বাস্তবসম্মত ও পরীক্ষিত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। ইমাম বাযযার (রহিমাহুল্লাহ) ‘উরওয়াহ্ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কীয় প্রচুর জ্ঞান কিভাবে অর্জন করলেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিভিন্ন সময়ের ব্যাধিতে ‘আরব চিকিৎসকগণ তাঁর চিকিৎসার প্রাক্কালে আমি এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছি।ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কে নবী (ﷺ) হতে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থও রচিত হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে অনেক মতামত বিদিত রয়েছে। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কথা হচ্ছে এ সম্পর্কিত কতক বিষয় নবীগণ ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। তবে অধিকাংশ বিষয়ই অভিজ্ঞতালব্ধ।ইমাম বাযযার ও ত্ববারানী (রহিমাহুমাল্লাহ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ সুলায়মান (আঃ) যখনই সালাতে দাঁড়াতেন তিনি তাঁর সম্মুখে একটি বৃক্ষ দেখতে পেতেন। তিনি বৃক্ষটিকে বলতেন, তোমার নাম কী? সেটি তার নাম উল্লেখ করলে, আবারো জিজ্ঞেস করতেন। তুমি কী জন্য? সেটি ঔষধি হলে তিনি তা লিখে রাখতেন ও পরে তা রোপণ করতেন।অত্র অধ্যায়ের সারমর্ম এই যে, প্রত্যেক মানুষের সুস্থতা ও অসুস্থতা আল্লাহর পক্ষ হতে লিখিত ভাগ্যলিপির অংশ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

নজর লাগলে করণীয়: রুকইয়ার হাদিস

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫২৮-[১৫]

وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى فِي بَيْتِهَا جَارِيَةً فِي وجهِها سفعة يَعْنِي صُفْرَةً فَقَالَ: «اسْتَرْقُوا لَهَا فَإِنَّ بِهَا النَّظْرَةَ»

উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন নবী (ﷺ) তাঁর (উম্মু সালামাহ্'র) ঘরে একটি মেয়ে দেখতে পেলেন, তার চেহারায় চিহ্ন ছিল (মুখায়ব বদনজরের দরুন হলুদ বর্ণ দেখাচ্ছিল)। তখন তিনি (ﷺ) বললেন : এর জন্য ঝাড়ফুঁক করো, কেননা তার ওপর নজর লেগেছে।

[১] সহীহ : বুখারী ৫৭৩৯, মুসলিম (২১৯৭)-৫৯, মুসতাদরাক হাকিম ৭৪৮৬, আল জামি‘উস্ সগীর ৯৩৯, সহীহুল জামি‘ ৯৩৭, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১২৪৭, বায়হাক্বী’র কুবরা ২০০৭০, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ১৯২৫০।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫২৮-[১৫]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে উম্মু সালামাহ (রা.)-এর ঘরে নবী (صلى الله عليه وسلم) একটি মেয়েকে দেখলেন, যার মুখে হলুদাভ চিহ্ন ছিল। বর্ণনায় বোঝানো হয়েছে, এটি বদনজরের কারণে ছিল। তখন তিনি বললেন, তার জন্য রুকইয়া করো, কারণ তার ওপর নজর লেগেছে। এই হাদিসে বদনজরকে বাস্তব কষ্ট হিসেবে দেখা হয়েছে এবং তার জন্য রুকইয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো ভয় ছড়ানো নয়; বরং বৈধ উপায়ে সাহায্য করার শিক্ষা আছে। নজর লাগলে করণীয়, বদনজর রুকইয়া এবং শিশু বা পরিবারের কারও জন্য ঝাড়ফুঁক করার আলোচনা করতে গেলে এই বর্ণনাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে রুকইয়া অবশ্যই শির্কমুক্ত হতে হবে এবং আরোগ্য আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নজর লাগলে বৈধ রুকইয়া করা যেতে পারে।
  • রোগী বা কষ্টে থাকা কাউকে সাহায্য করার শিক্ষা আছে।
  • বদনজরের লক্ষণ দেখে নবী (صلى الله عليه وسلم) রুকইয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
  • রুকইয়াকে উপায় হিসেবে নিতে হবে, স্বাধীন শক্তি হিসেবে নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন