২৩/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৩১-[১৮] - বদনজর বাস্তব সত্য

চিকিৎসা ও মন্ত্র - প্রথম অনুচ্ছেদ

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, চিকিৎসাশাস্ত্রের মৌলিক উদ্দেশ্য তিনটি। শারীরিক সুস্থতার সংরক্ষণ, দুর্ভোগ ও কষ্ট লাঘব এবং শরীর হতে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আলোচ্য অধ্যায়ে দু’ প্রকার চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।প্রথমত শারীরিক চিকিৎসা, মূলত এটিই এখানে উদ্দেশ্য।দ্বিতীয়ত অন্তরের চিকিৎসা, যার মৌলিক উপাদান হচ্ছে নবী (ﷺ) কর্তৃক আনীত আল্লাহ তা‘আলার বাণী মহাগ্রন্থ আল কুরআন।শারীরিক ব্যাধির চিকিৎসার বিষয়টি হাদীসে বিভিন্নভাবে এসেছে যা ত্বিবিব নবী হিসেবে পরিচিত।অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়। শারীরিক ব্যাধির এ চিকিৎসা আবার দুই ধরনের। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে প্রাণীকুলের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত কিছু প্রাকৃতিক বিষয়, যেমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। অন্যটি চিন্তা-ভাবনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।ইসলামী শারী‘আর আলোকে চিকিৎসার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে ঝাড়ফুঁক। যা বাস্তবসম্মত ও পরীক্ষিত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। ইমাম বাযযার (রহিমাহুল্লাহ) ‘উরওয়াহ্ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কীয় প্রচুর জ্ঞান কিভাবে অর্জন করলেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিভিন্ন সময়ের ব্যাধিতে ‘আরব চিকিৎসকগণ তাঁর চিকিৎসার প্রাক্কালে আমি এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছি।ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কে নবী (ﷺ) হতে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থও রচিত হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে অনেক মতামত বিদিত রয়েছে। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কথা হচ্ছে এ সম্পর্কিত কতক বিষয় নবীগণ ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। তবে অধিকাংশ বিষয়ই অভিজ্ঞতালব্ধ।ইমাম বাযযার ও ত্ববারানী (রহিমাহুমাল্লাহ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ সুলায়মান (আঃ) যখনই সালাতে দাঁড়াতেন তিনি তাঁর সম্মুখে একটি বৃক্ষ দেখতে পেতেন। তিনি বৃক্ষটিকে বলতেন, তোমার নাম কী? সেটি তার নাম উল্লেখ করলে, আবারো জিজ্ঞেস করতেন। তুমি কী জন্য? সেটি ঔষধি হলে তিনি তা লিখে রাখতেন ও পরে তা রোপণ করতেন।অত্র অধ্যায়ের সারমর্ম এই যে, প্রত্যেক মানুষের সুস্থতা ও অসুস্থতা আল্লাহর পক্ষ হতে লিখিত ভাগ্যলিপির অংশ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

বদনজর সত্য: তাকদীর ও সহযোগিতার হাদিস

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫৩১-[১৮]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْعَيْنُ حَقٌّ فَلَوْ كَانَ شَيْءٌ سَابَقَ الْقَدَرِ سَبَقَتْهُ الْعَيْنُ وَإِذَا اسْتُغْسِلْتُمْ فاغسِلوا». رَوَاهُ مُسلم

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেছেন : নযর লাগা একটি বাস্তব সত্য। যদি কোন জিনিস তাক্বদীর পরিবর্তন করতে সক্ষম হত, তবে বদনযরই তা করতে পারত। আর যদি তোমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়া পানি চাওয়া হয়, তবে অবশ্যই ধুয়ে দেবে।

[১] সহীহ : মুসলিম (২১৮৮)-৪২, তিরমিযী ২০৬২, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১২৫১, ১২৫২; সহীহ ইবনু হিব্বান ৬১০৭, আস্ সুনানুস্ সুগরা ৪২৯৩, বায়হাক্বী’র কুবরা ২০১০২, ‘নাসায়ী’র কুবরা ৭৬২০, শু‘আবুল ঈমান ১১২২৫, ইবনু মাজাহ ৩৫১০, আল জামি‘উস্ সগীর ৭৫৯৬, সহীহুল জামি‘ ৪১৪৭, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৪/১৭ পৃঃ।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৩১-[১৮]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, বদনজর সত্য। এরপর তিনি বলেন, যদি কোনো কিছু তাকদীরকে ছাড়িয়ে যেতে পারত, তবে বদনজরই তা করত। কথাটি বদনজরের প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে বোঝায়, তবে তাকদীরের বাইরে স্বাধীন শক্তি প্রমাণ করে না। শেষে বলা হয়েছে, যদি কারও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়া পানি চাওয়া হয়, তবে ধুয়ে দিতে হবে। অর্থাৎ অন্যের কষ্ট দূর করার জন্য সহযোগিতা করা উচিত। এই হাদিসে বদনজর বাস্তব সত্য, তাকদীরের বিশ্বাস, এবং রুকইয়া বা বৈধ উপায়ে সাহায্যের শিক্ষা আছে। বদনজর হাদিস, নজর লাগলে করণীয় এবং বদনজরের পানি ধোয়ার বিধান নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এই বর্ণনাটি খুব প্রাসঙ্গিক।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বদনজরকে হাদিসে বাস্তব সত্য বলা হয়েছে।
  • বদনজরও আল্লাহর তাকদীরের বাইরে নয়।
  • অন্যের উপকারে ধোয়া পানি চাওয়া হলে সহযোগিতা করা উচিত।
  • ভয় নয়, বৈধ উপায় ও আল্লাহর ওপর ভরসা—এটাই মূল শিক্ষা।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন