২৩/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬০৩-[১২] - নক্ষত্রে হায়াত-রিজিক নেই
জ্যোতিষীর গণনা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
নক্ষত্রে হায়াত, রিজিক ও মৃত্যু নির্ধারিত নয়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৬০৩-[১২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৬০৩-[১২]
وَعَن الربيعِ مِثْلُهُ وَزَادَ: وَاللَّهِ مَا جَعَلَ اللَّهُ فِي نَجْمٍ حَيَاةَ أَحَدٍ وَلَا رِزْقَهُ وَلَا مَوْتَهُ وَإِنَّمَا يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَيَتَعَلَّلُونَ بِالنُّجُومِ
রবী' (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
বর্ণনাকারী রবী' হতেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। অবশ্য তিনি অতিরিক্ত এটাও বলেছেন : আল্লাহর কসম! আল্লাহ তা'আলা নক্ষত্রের মধ্যে না কারো হায়াত নির্ধারণ করে রেখেছেন, না কারো রিয্ক আর না কারো মৃত্যু। বস্তুতঃ এ সমস্ত লোকেরা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করে এবং নক্ষত্রসমূহকে কোন বস্তুর হওয়া না হওয়ার কারণ সাব্যস্ত করে।
[১] সহীহ : আল আকাঈদ আল ইসলামিয়্যাহ্ ২/১৪৭৩ পৃঃ।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬০৩-[১২]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় নক্ষত্র নিয়ে মানুষের ভুল বিশ্বাসকে কঠোরভাবে ভুল বলা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, আল্লাহ নক্ষত্রের মধ্যে কারো হায়াত, রিজিক বা মৃত্যু রেখে দেননি। অর্থাৎ কোনো নক্ষত্র ওঠা, নামা বা অবস্থান মানুষের জীবনের এসব বিষয় ঠিক করে—এমন বিশ্বাসের ভিত্তি নেই। যারা নক্ষত্রকে ঘটনার কারণ বানায়, তারা আল্লাহর নামে মিথ্যা বলে এবং নক্ষত্রকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে। এই শিক্ষা জ্যোতিষ, রাশি, নক্ষত্র দেখে ভাগ্য বলা এবং ভবিষ্যৎ জানার দাবি থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। মুমিন জানে, হায়াত, রিজিক ও মৃত্যু আল্লাহর হাতে। নক্ষত্র আল্লাহর সৃষ্টি; তা মানুষের ভাগ্য পরিচালনা করে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়াত, রিজিক ও মৃত্যু নক্ষত্রের হাতে নয়।
- নক্ষত্রকে ঘটনার মূল কারণ বানানো ভুল বিশ্বাস।
- আল্লাহর বিষয়ে না জেনে কথা বলা বড় সতর্কতার বিষয়।
- ভাগ্য জানার জন্য নক্ষত্রের দিকে নয়, আল্লাহর দিকে ফিরতে হবে।
