২৩/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬০২-[১১] - নক্ষত্র সৃষ্টির তিন উদ্দেশ্য
জ্যোতিষীর গণনা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
নক্ষত্র সৃষ্টির তিনটি সঠিক উদ্দেশ্য
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৬০২-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৬০২-[১১]
وَعَن قتادةَ قَالَ: خلقَ اللَّهُ تَعَالَى هَذِه النجومَ لثلاثٍ جَعَلَهَا زِينَةً لِلسَّمَاءِ وَرُجُومًا لِلشَّيَاطِينِ وَعَلَامَاتٍ يُهْتَدَى بهَا فَمن تأوَّلَ فِيهَا بِغَيْرِ ذَلِكَ أَخَطَأَ وَأَضَاعَ نَصِيبَهُ وَتَكَلَّفَ مَالا يَعْلَمُ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ تَعْلِيقًا وَفِي رِوَايَةِ رَزِينٍ: «تكلّف مَالا يعنيه ومالا عِلْمَ لَهُ بِهِ وَمَا عَجَزَ عَنْ عِلْمِهِ الْأَنْبِيَاء وَالْمَلَائِكَة»
ক্বাতাদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ তা'আলা এসব নক্ষত্র তিন উদ্দেশে সৃষ্টি করেছেন।১. আকাশের শোভা বৃদ্ধি,২. জিন্-শায়ত্বনদের বিতাড়িত করা এবং৩. পথভোলা পথিকের দিক নির্ণয়। আর যে কেউ এছাড়া অন্য কোন উদ্দেশে বর্ণনা করে, সে মারাত্মক ভুল করে এবং নিজের ভাগ বরবাদ করে। আর এমন অসাধ্য সাধনের পিছনে পড়ে, যে বিষয়ে তার কোন জ্ঞান নেই। (বুখারী; ইমাম বুখারী তা'লীক্ব অর্থাৎ- সানাদবিহীন অবস্থায় হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ৫২২ আর ইমাম রযীন বর্ণনা করেছেন যে, এমন একটি কাজের পিছনে কষ্ট করল যা তার কোন উপকারে আসবে না এবং সে বিষয়ে তার সামান্যতম জ্ঞানও নেই। যার তথ্য জানতে আল্লাহর নবীগণ ও মালায়িকাহ্ (ফেরেশ্তাকুল) অক্ষম রয়েছেন।)
[১] সহীহ : বুখারী ৮/২৪৬ পৃঃ, তা‘লীক সহকারে।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬০২-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় নক্ষত্র সম্পর্কে খুব সরল একটি শিক্ষা এসেছে। আল্লাহ তা‘আলা নক্ষত্রকে তিন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। এক, আকাশের শোভা; দুই, জিন-শায়ত্বনকে বিতাড়ন; তিন, পথিকদের পথ চেনার চিহ্ন। তাই নক্ষত্র দেখে মানুষের ভাগ্য, মৃত্যু, রিজিক বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দাবি করা সঠিক নয়। বর্ণনায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নক্ষত্রকে এর বাইরে অন্য অর্থে ব্যাখ্যা করে, সে ভুল করে এবং এমন বিষয়ে কষ্ট করে যার জ্ঞান তার নেই। এই হাদিস নক্ষত্রের উদ্দেশ্য, জ্যোতিষ বিদ্যার সীমা এবং অজানা বিষয়ে বাড়াবাড়ি থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়। একজন মুমিনের উচিত নক্ষত্রকে আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে দেখা, ভাগ্য নির্ধারণের মাধ্যম হিসেবে নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নক্ষত্র আকাশের সৌন্দর্য ও পথ চিনার চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
- নক্ষত্রকে ভাগ্য গণনার মাধ্যম বানানো ভুল পথে নিয়ে যায়।
- যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে দাবি করা উচিত নয়।
- আল্লাহর সৃষ্টিকে আল্লাহর বলা উদ্দেশ্যের মধ্যেই বোঝা নিরাপদ।
