২৩/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬০৫-[১৪] - বৃষ্টিকে নক্ষত্রের নামে মানা
জ্যোতিষীর গণনা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
বৃষ্টি আল্লাহর দান, নক্ষত্রের নয়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৬০৫-[১৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৬০৫-[১৪]
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَوْ أَمْسَكَ اللَّهُ الْقَطْرَ عَنْ عِبَادِهِ خَمْسَ سِنِينَ ثُمَّ أَرْسَلَهُ لَأَصْبَحَتْ طَائِفَةٌ مِنَ النَّاسِ كَافِرِينَ يَقُولُونَ: سُقِينَا بِنَوْءِ الْمِجْدَحِ. رَوَاهُ النَّسَائِيّ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যদি আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের জন্য পাঁচ বৎসর বৃষ্টি বন্ধ করে রাখেন এবং তারপর তা বর্ষণ করেন, তবুও মানুষের একদল এই বলে আল্লাহকে অস্বীকার করবে যে, 'মিজদাহ' নক্ষত্র কক্ষস্থানে পৌছার ফলেই আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।
[১] য‘ঈফ : নাসায়ী ১৫২৬, য‘ঈফাহ্ ১৭২১, য‘ঈফ আল জামি‘উস্ সগীর ৪৭৯৮, ‘নাসায়ী’র কুবরা ১৮৩৬, দারিমী ২/৩১৪, ইবনু হিব্বান ৬০৬। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে ‘‘আত্তাব ইবনু হুনায়ন’’ নামের বর্ণনাকারী রয়েছে। য‘ঈফাহ্ ১৭২১৯।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬০৫-[১৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বৃষ্টির ব্যাপারে মানুষের একটি ভুল কথা তুলে ধরা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যদি আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য পাঁচ বছর বৃষ্টি বন্ধ রাখেন, তারপর আবার বৃষ্টি দেন, তবুও মানুষের একদল বলবে—মিজদাহ নক্ষত্রের কারণে আমাদের বৃষ্টি হয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, বৃষ্টির আসল দাতা আল্লাহ। নক্ষত্র বা তার অবস্থানকে বৃষ্টির স্বতন্ত্র কারণ মনে করা কৃতজ্ঞতার বদলে অস্বীকারের পথে নিয়ে যেতে পারে। বৃষ্টি, রিজিক ও রহমত আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে—এ কথা মনে রাখা দরকার। এই হাদিস নক্ষত্রপূজা, জ্যোতিষ বিশ্বাস এবং আল্লাহর নেয়ামতকে অন্য কিছুর নামে দেওয়ার বিপদ থেকে সতর্ক করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বৃষ্টি আল্লাহর দান—এ বিশ্বাস রাখা জরুরি।
- নক্ষত্রকে বৃষ্টির আসল দাতা মনে করা ভুল।
- নেয়ামত পেলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে।
- প্রাকৃতিক ঘটনা নিয়ে এমন কথা বলা উচিত নয় যা ঈমানের ক্ষতি করে।
