২৫/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬৮১-[৫] - রোগী দেখা ও করমর্দনের আদব
করমর্দন ও আলিঙ্গন - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
রোগী দেখা ও করমর্দনের সুন্দর আদব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৬৮১-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৬৮১-[৫]
وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم قَالَ: تَمَامُ عِيَادَةِ الْمَرِيضِ أَنْ يَضَعَ أَحَدُكُمْ يَدَهُ عَلَى جَبْهَتِهِ أَوْ عَلَى يَدِهِ فَيَسْأَلَهُ: كَيْفَ هُوَ؟ وَتَمَامُ تَحِيَّاتِكُمْ بَيْنَكُمُ الْمُصَافَحَةُ. رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَضَعفه
আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : রোগগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখাশুনা পূর্ণতা হয় যখন তোমাদের কেউ রোগীর কপালে বা হাতে নিজের হাত রাখে এবং তার কুশল সংবাদ জিজ্ঞেস করে। তোমাদের সালামের পরিপূর্ণতা হলো, সালামের পর পরস্পর করমর্দন করা।
[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২৭৩১, য‘ঈফাহ্ ১২৮৮, য‘ঈফ আল জামি‘উস্ সগীর ৫২৯৭, আহমাদ ২২২৯০, শু‘আবুল ঈমান ৯২০৪। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে ‘‘আলী ইবনু ইয়াযীদ’’ একজন য‘ঈফ রাবী। দেখুন- সিলসিলাতুয্ য‘ঈফাহ্ ১২৮৮।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬৮১-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রোগী দেখা এবং সালামের আদব খুব সহজভাবে শেখানো হয়েছে। রোগীর খোঁজ নেওয়া শুধু দূর থেকে খবর নেওয়া নয়; বরং তার কাছে গিয়ে আন্তরিকভাবে কুশল জিজ্ঞেস করাও এতে আছে। বর্ণনায় এসেছে, রোগীর কপালে বা হাতে হাত রেখে তার অবস্থা জানতে চাওয়া রোগী দেখার পূর্ণতার অংশ। এতে রোগী বুঝতে পারে যে তার ভাই তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। একই হাদিসে সালামের পর করমর্দনের কথাও এসেছে। তাই করমর্দন, সালাম, রোগীর সেবা এবং কুশল জিজ্ঞেস করা—এসব মুসলিম সমাজে ভালোবাসা ও আন্তরিকতার পরিচয়। তবে বর্ণনার শেষে হাদিসটি দুর্বল বলা হয়েছে, তাই ব্যাখ্যায় সীমা রেখে আদবের শিক্ষা নেওয়াই ভালো। তাই এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, অসুস্থ মানুষকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সালামের পর সৌজন্যপূর্ণ মুসাফাহা করা সম্পর্ককে আরও কোমল করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোগী দেখতে গেলে তার অবস্থা আন্তরিকভাবে জিজ্ঞেস করা সুন্দর আদব।
- সালামের পর করমর্দন পারস্পরিক সৌহার্দ্যের একটি সুন্দর প্রকাশ।
- রোগীর হাতে বা কপালে হাত রাখা সহানুভূতি প্রকাশের একটি কোমল পদ্ধতি।
- দুর্বল বর্ণনা হলে বিষয়টি সতর্কভাবে উল্লেখ করা উচিত।
