২৫/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬৯৪-[১৮] - করমর্দনে গুনাহ ঝরে যাওয়ার শিক্ষা
করমর্দন ও আলিঙ্গন - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মুসলিমদের করমর্দন ও গুনাহ মাফের আশা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৬৯৪-[১৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৬৯৪-[১৮]
وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَلَّى أَرْبَعًا قَبْلَ الْهَاجِرَةِ فَكَأَنَّمَا صَلَّاهُنَّ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَالْمُسْلِمَانِ إِذَا تَصَافَحَا لَمْ يَبْقَ بَيْنَهُمَا ذَنْبٌ إِلَّا سَقَطَ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি দ্বিপ্রহরের পূর্বে চার রাকাত সালাত আদায় করল, সে যেন এ চার রাকাত ক্বদরের রাতে আদায় করল। আর দু'জন মুসলিম যখন করমর্দন করে, তখন তাদের মধ্যে কোন গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না, মাফ করে দেয়া হয়।
[১] হাসান লিগয়রিহী : শু‘আবুল ঈমান ৮৯৫৫। হাদীসটি সম্পর্কে আলবানী (রহঃ) বলেনঃ আমি হাদীসটির সানাদ সম্পর্কে অবহিত হতে পারিনি, তবে বাহ্যিকভাবে মনে হচ্ছে হাদীসটি জাল। হিদায়াতুর্ রুওয়াত ৪/৩৩৪। আমরা হাদীসটির তাহক্বীক পেয়েছি ‘‘জাওয়ামি‘উল কালিম’’ নামক সফ্টওয়্যার থেকে।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬৯৪-[১৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দু’টি বিষয় এসেছে। প্রথমত, দ্বিপ্রহরের আগে চার রাক‘আত সালাত আদায়ের বড় মর্যাদার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, দু’জন মুসলিম যখন করমর্দন করে, তখন তাদের মধ্যে থাকা গুনাহ ঝরে যাওয়ার কথা এসেছে। এখানে করমর্দন শুধু সামাজিক ভদ্রতা নয়; এটি মুসলিম ভাইয়ের সাথে ভালো সম্পর্ক, সালাম ও আন্তরিকতার প্রকাশ। মুসাফাহা মানুষের অন্তরের দূরত্ব কমায় এবং ক্ষমা, ভালোবাসা ও ভাইচারা মনে করিয়ে দেয়। তবে গুনাহ মাফের বিষয়টি আল্লাহর রহমতের সাথে সম্পর্কিত, তাই এটিকে অবহেলার অজুহাত বানানো যাবে না। বরং করমর্দনের আদব, সালাতের প্রতি আগ্রহ এবং ভাইয়ের প্রতি কোমল আচরণ—এসব শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। ফলে সালাত ও করমর্দন—দুই ক্ষেত্রেই বান্দার উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মানুষের প্রতি ভালো আচরণকে সামনে রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নফল সালাতের প্রতি আগ্রহ রাখা ভালো আমলের অংশ।
- মুসলিম ভাইয়ের সাথে করমর্দন আন্তরিকতার প্রকাশ।
- করমর্দন গুনাহ মাফের আশার কারণ হিসেবে এসেছে।
- গুনাহ মাফের কথা শুনে আমলে উৎসাহী হওয়া উচিত, অবহেলা নয়।
