২৫/৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৭৯০-[৮] - অন্যায়ের জবাবে কবিতা
বক্তৃতা ও কবিতা আবৃত্তি - প্রথম অনুচ্ছেদ
কুরায়শদের জবাবে কবিতার ভূমিকা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৭৯০-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৭৯০-[৮]
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «اهْجُوا قُرَيْشًا فَإِنَّهُ أَشَدُّ عَلَيْهِمْ مِنْ رَشْقِ النَّبْلِ». رَوَاهُ مُسلم
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুদ্ধ চলাকালে নিজের পক্ষের কবিদেরকে বলেছেন : তোমরা কুরায়শদের প্রতি ব্যঙ্গ ও বিদ্রূপমূলক কবিতা আবৃত্তি করো। কেননা এটা তাদের জন্য তীরের আঘাতের তুলনায় কঠোরতর।
[১] সহীহ : মুসলিম ৩৪-(৬৫৫০), সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১১৮০, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৩৫০৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২১৬৩, সহীহুল জামি‘ ৪২৮৮, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২১৬৩৬।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৭৯০-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধ চলাকালে নিজের পক্ষের কবিদের বলেন, কুরায়শদের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক কবিতা বলো; কারণ তা তাদের জন্য তীরের আঘাতের চেয়েও কঠিন। এখানে কবিতার শক্তি ও মানসিক প্রভাব বোঝানো হয়েছে। যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষ কথার আঘাত, অপবাদ বা মনোবল ভাঙার চেষ্টা করতে পারে। সেই অবস্থায় কবিতা ও ভাষা জবাবের কাজ করেছে। তবে হাদিসটি নির্দিষ্ট যুদ্ধ-সম্পর্কিত অবস্থার কথা বলছে। তাই এটিকে সাধারণভাবে কারও বিরুদ্ধে অপমানজনক কথা বলার অনুমতি বানানো যাবে না। মূল শিক্ষা হলো, সত্যের পক্ষে ভাষা ব্যবহার করা যায়, কিন্তু উদ্দেশ্য, সময় ও সীমা বুঝে ব্যবহার করতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কথা ও কবিতা মানুষের মনোবলে প্রভাব ফেলতে পারে।
- যুদ্ধের নির্দিষ্ট অবস্থায় ভাষা জবাবের মাধ্যম হয়েছে।
- ব্যক্তিগত অপমান নয়, সত্যের পক্ষে নিয়ন্ত্রিত জবাবই এখানে মূল বিষয়।
