২৫/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮৪৪-[৩৩] - মিথ্যার দুর্গন্ধ ও ফেরেশতা
জিহ্বার হেফাজত, গীবত এবং গালমন্দ প্রসঙ্গে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিথ্যা কথার দুর্গন্ধ ও জিহ্বার হেফাজত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৮৪৪-[৩৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৮৪৪-[৩৩]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا كَذَبَ الْعَبْدُ تَبَاعَدَ عَنْهُ الْمَلَكُ مِيلًا مِنْ نَتْنِ مَا جاءَ بِهِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন বান্দা মিথ্যা বলে, তখন মালাক (ফেরেশতা) মিথ্যার দুর্গন্ধে এক ক্রোশ দূরে চলে যান।
[১] খুবই য‘ঈফ: তিরমিযী ১৯৭২, য‘ঈফাহ্ ১৮২৮, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৪/১৯৭। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে ‘‘আবদুর রহীম ইবনু হারূন আল গস্সানী’’ নামের বর্ণনাকারী খুবই য‘ঈফ। আর ‘আবদুল ‘আযীয ইবনু আবী রও্ওয়াদ (رواد) নামের বর্ণনাকারীও মুনকার, হাদীস বর্ণনাকারী য‘ঈফ। দেখুন- য‘ঈফাহ্ ১৮২৮। আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৭৩৯৮, আল মু‘জামুল সগীর ৮৫৩, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ৫৭৮, য‘ঈফুল জামি‘ ৬৮০, য‘ঈফ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ১৭৫৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮৪৪-[৩৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, বান্দা যখন মিথ্যা বলে, তখন মিথ্যার দুর্গন্ধে ফেরেশতা এক ক্রোশ দূরে সরে যান। এখানে মিথ্যা কথাকে শুধু সাধারণ ভুল হিসেবে দেখানো হয়নি; বরং তার এমন খারাপ প্রভাবের কথা বলা হয়েছে, যা চোখে দেখা না গেলেও গুরুতর। মিথ্যা মানুষের বিশ্বাস নষ্ট করে, সম্পর্ক দুর্বল করে এবং নিজের কথার মর্যাদা কমিয়ে দেয়। হাদিসের ভাষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—কথা শুধু শব্দ নয়; তার ভালো-মন্দ প্রভাব আছে। তাই সত্যবাদিতা মুমিনের পরিচয়ের সাথে যুক্ত, আর মিথ্যা জিহ্বার বড় বিপদগুলোর একটি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিথ্যা কথার অদৃশ্য ক্ষতিও গুরুতর হতে পারে।
- সত্য বলা কথার মর্যাদা রক্ষা করে।
- ফেরেশতার দূরে সরে যাওয়ার বর্ণনা মিথ্যার ভয়াবহতা বোঝায়।
- জিহ্বার হেফাজতে মিথ্যা ছাড়া জরুরি।
