২৫/২২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫১৩৭-[১] - মন্দ কাজ পরিবর্তনের স্তর
ভালো কাজের আদেশ - প্রথম অনুচ্ছেদ
মন্দ কাজ দেখলে কী করবেন: তিন স্তরের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫১৩৭-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫১৩৭-[১]
عَن أبي سعيدٍ الخدريِّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فبقلبه وَذَلِكَ أَضْعَف الْإِيمَان». رَوَاهُ مُسلم
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি (ﷺ) বলেছেন : তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন শরীয়ত বিরোধী কার্যকলাপ হতে দেখে, সেটাকে যেন নিজ হাতে পরিবর্তন করে দেয়। যদি নিজ হাতে সেগুলো পরিবর্তন করার ক্ষমতা না থাকে, তাহলে মুখে নিষেধ করবে। আর যদি মুখে নিষেধ করারও সাধ্য না থাকে, তাহলে অন্তরে সেটা ঘৃণা করবে। এটা সবচেয়ে দুর্বল ঈমানের পরিচায়ক।
[১] সহীহ : মুসলিম ৭৮-(৪৯), আবূ দাঊদ ১১৪০, তিরমিযী ২১৭২ ইবনু মাজাহ ৪০১৩, নাসায়ী ৫০০৮, সহীহ আত্ তারগীব ২৩০২, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ৫৬৪৯, আহমাদ ১১১৫০, মুসনাদ আবূ ইয়া‘লা ১২০৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩০৭, সুনানুন্ নাসায়ী আল কুবরা ১১৭৩৯, হিলইয়াতুল আওলিয়া ১০/২৮, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৪২৩।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫১৩৭-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মন্দ কাজ দেখলে মুসলিমের দায়িত্ব তিন স্তরে বুঝিয়েছেন। যার সামর্থ্য আছে, সে হাতে পরিবর্তন করবে। হাতে সম্ভব না হলে মুখে নিষেধ করবে। আর মুখেও সম্ভব না হলে অন্তরে ঘৃণা করবে। শেষে বলা হয়েছে, অন্তরের এই ঘৃণা সবচেয়ে দুর্বল ঈমানের পরিচয়। হাদিসটি কোনো বেপরোয়া আচরণের অনুমতি দেয় না; বরং ‘সাধ্য’ শব্দটি মূল বিষয়। মানুষ নিজের ক্ষমতা, অবস্থান ও ক্ষতির আশঙ্কা বিবেচনা করে ন্যায়ের পক্ষে থাকবে। মন্দকে মন্দ মনে না করা ঈমানের জন্য বড় ক্ষতি। তাই অন্তত অন্তরে অন্যায়কে অপছন্দ করা এবং সুযোগ পেলে ভালো পথে ডাকা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মন্দ কাজ দেখলে সাধ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ করা দরকার।
- হাতে না পারলে মুখে ভালোভাবে নিষেধ করা উচিত।
- মুখেও না পারলে অন্তরে ঘৃণা থাকা ঈমানের ন্যূনতম দাবি।
- ক্ষমতা ও অবস্থার বাইরে গিয়ে বিশৃঙ্খলা করা এই হাদিসের উদ্দেশ্য নয়।
