২৬/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫২২৭-[৭৩] - আল্লাহভীরু মানুষই রাসূলের নিকট প্রিয়
মন-গলানো উপদেশমালা সম্পর্কিত - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
তাকওয়াই রাসূলের নিকটবর্তী হওয়ার আসল মানদণ্ড
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫২২৭-[৭৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫২২৭-[৭৩]
وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: لَمَّا بَعَثَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْيَمَنِ خَرَجَ مَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوصِيهِ وَمُعَاذٌ رَاكِبٌ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْشِي تَحْتَ رَاحِلَتِهِ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ: يَا مُعَاذُ إِنَّكَ عَسَى أَنْ لَا تَلْقَانِي بَعْدَ عَامِي هَذَا وَلَعَلَّكَ أَنْ تَمُرَّ بِمَسْجِدِي هَذَا وَقَبْرِي فَبَكَى مُعَاذٌ جَشَعًا لِفِرَاقِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ الْتَفَتَ فَأَقْبَلَ بِوَجْهِهِ نَحْوَ الْمَدِينَةِ فَقَالَ: «إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِيَ الْمُتَّقُونَ مَنْ كَانُوا وَحَيْثُ كَانُوا» رَوَى الْأَحَادِيث الْأَرْبَعَة أَحْمد اسنادہ حسن، رواہ احمد (5 / 235 ح 22402) [و ابن حبان (الاحسان : 1647)] ۔ (صَحِيح)
মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে (শাসক নিযুক্ত করে) যখন ইয়ামান পাঠালেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে উপদেশ দিতে দিতে তাঁর সঙ্গে বের হলেন। এ সময় মু'আয ছিলেন সওয়ারীতে আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চলছিলেন পায়ে হেঁটে, সওয়ারী হতে নীচে। (উপদেশাবলী হতে) অবসর হয়ে তিনি (ﷺ) বললেন : হে মু'আয! সম্ভবত এ বছরের পর তুমি আর আমার সাক্ষাৎ পাবে না। এমনও হতে পারে তুমি আমার মসজিদ ও আমার কবরের পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করবে। তখন মু'আয (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিচ্ছেদ চিন্তায় ভারাক্রান্ত হয়ে কাঁদতে লাগলেন।অতঃপর তিনি (ﷺ) মাদীনার দিকে তাকালেন এবং তাকে সম্মুখে রেখে বললেন: নিশ্চয় ঐ সমস্ত লোকেরাই আমার নিকট অধিক ভালো যারা আল্লাহভীরু, পরহেজগার। তারা যে কেউ হোক এবং যেখানেই থাকুক না কেন?
সহীহ : সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৪৭, মা'রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাক্বী ৫০৯২। [উপরিউক্ত চারটি হাদীস ইমাম আহমাদ (রহঃ) রিওয়ায়াত করেছেন]
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫২২৭-[৭৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুআয রা.-কে ইয়ামানে পাঠানোর সময় রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর বিদায় মুহূর্তের একটি গভীর দৃশ্য এসেছে। মুআয রা. সওয়ারীতে ছিলেন, আর রাসূল صلى الله عليه وسلم তাঁর সঙ্গে হেঁটে হেঁটে উপদেশ দিচ্ছিলেন। শেষে তিনি বললেন, হয়তো এ বছরের পর তুমি আর আমার সাক্ষাৎ পাবে না। এতে মুআয রা. বিচ্ছেদের কষ্টে কাঁদলেন। এরপর রাসূল صلى الله عليه وسلم মাদীনার দিকে ফিরে বললেন, তাঁর নিকট বেশি আপন হলো আল্লাহভীরু মানুষ—তারা যে-ই হোক, যেখানেই থাকুক। এখানে বংশ, দেশ, পদ বা বাহ্যিক পরিচয়কে মূল করা হয়নি; তাকওয়াকেই আসল মর্যাদার পরিচয় বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাকওয়া মানুষকে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর নিকট প্রিয় করে।
- বাহ্যিক পরিচয়ের চেয়ে আল্লাহভীরু চরিত্র বেশি মূল্যবান।
- বিদায়ের সময়ও রাসূল صلى الله عليه وسلم উপদেশ ও শিক্ষা দিয়েছেন।
- মানুষ যেখানেই থাকুক, তাকওয়া তার মর্যাদার কারণ হতে পারে।
