৪/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৩২-[৯] - ইশা সালাতের সঠিক নাম
সালাতের ফজিলত - প্রথম অনুচ্ছেদ
এ অধ্যায়ে সালাতের ফাযীলাত সংক্রান্ত আলোচনা এসেছে। ইবনে হাজার বলেন, ফাযা-য়িলিস সলা-হ্ এর অর্থ হলো, যে সকল বিষয় সালাতের সাওয়াবকে পূর্ণতা দান করে।
ইশা সালাতের নাম: কুরআনের ভাষা ধরে রাখা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬৩২-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬৩২-[৯]
وَقَالَ لَا يَغْلِبَنَّكُمْ الْأَعْرَابُ عَلَى اسْمِ صَلَاتِكُمُ الْعِشَاءِ فَإِنَّهَا فِي كِتَابِ اللهِ الْعِشَاءُ فَإِنَّهَا تُعْتِمُ بِحِلَابِ الْإِبِلِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
(‘আবদুল্লাহ) ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বেদুইনরা যেন তোমাদের ইশার সালাতের নামকরণেরও তোমাদের উপর জয়ী হতে না পারে। এটা আল্লাহর কিতাবে ইশা। তা পড়া হয় তাদের উষ্ট্রী দুধ দোহনের সময়। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৬৪৪, আবূ দাঊদ ৪৯৮৪, নাসায়ী ১/৯৩, ইবনু মাজাহ্ ৭০৪, আহমাদ ২/১০, ১৮, ৪৯, ১৪৪। এ সংকলনে দু’ দিক থেকে সমস্যা রয়েছে। প্রথমত এটি এ ধারণা দিচ্ছে যে উভয়টি ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত একটি হাদীস। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা দু’টি হাদীস একটি মাগরিব সালাতের বিষয়ে আর অপরটি ইশা সালাতের বিষয়ে। দ্বিতীয়ত এ ধারণাও দিচ্ছে যে, ইমাম মুসলিম (রহঃ) এভাবেই পরিপূর্ণ আকারে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি ইবনু ‘উমার হতে দ্বিতীয় হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর প্রথম হাদীসটি (অর্থাৎ- মাগরিব সালাতের ক্ষেত্রে) ইমাম বুখারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফ্ফাল (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৩২-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, বেদুইনরা যেন তোমাদের ‘ইশার সালাতের নামকরণেও তোমাদের উপর জয়ী না হয়। কারণ আল্লাহর কিতাবে এ সালাতের নাম ‘ইশা। বর্ণনায় আরও এসেছে, এই সালাত তাদের উষ্ট্রী দুধ দোহনের সময় পড়া হয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ইবাদতের নাম ও ইসলামী ভাষা ঠিকভাবে ধরে রাখা। কোনো এলাকার লোকের প্রচলিত নাম থাকলেও, সালাতের যে নাম কুরআন ও সুন্নাহর ভাষায় এসেছে, সেটিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ইশা নামাজ শুধু রাতের একটি সালাত নয়; তার নামও ইসলামী শিক্ষার অংশ হিসেবে সংরক্ষিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইশা সালাতের সঠিক নাম ‘ইশা’ ধরে রাখা উচিত।
- আল্লাহর কিতাবে যে নাম এসেছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া দরকার।
- লোকাচার বা প্রচলন ইবাদতের সঠিক ভাষাকে বদলে দিতে পারে।
- সালাতের নাম শেখা ও শেখানোও উপকারী বিষয়।
