৪/১২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৪৮-[২৭] - সূরা ফালাক ও নাসের মর্যাদা
সালাতে কিরাআতের বর্ণনা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সূরা ফালাক ও নাস: ফজরের সালাতে নবীজির পাঠ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮৪৮-[২৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৪৮-[২৭]
وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ كُنْتُ أَقُودُ لِرَسُولِ اللهِ نَاقَتَهُ فِي السَّفَرِ فَقَالَ لِي يَا عُقْبَةُ أَلَا أُعَلِّمُكَ خَيْرَ سُورَتَيْنِ قُرِئَتَا فَعَلَّمَنِي ﴿قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ﴾ وَ ﴿قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ﴾ قَالَ فَلَمْ يَرَنِي سُرِرْتُ بِهِمَا جِدًّا فَلَمَّا نَزَلَ لِصَلَاةِ الصُّبْحِ صَلّى بِهِمَا صَلَاةَ الصُّبْحِ لِلنَّاسِ فَلَمَّا فَرَغَ الْتَفَتَ إِلَيَّ فَقَالَ يَا عُقْبَةُ كَيْفَ رَأَيْتَ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وأَبُوْ دَاوٗدَ وَالنَّسَائِـيُِّ
‘উক্ববাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি সফরে নবী (ﷺ)–এর উটের নাকশী ধরে ধরে সামনের দিকে চলতাম। নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, হে ‘উক্ববাহ্! আমি কি তোমাকে পাঠ করার মত দুইটি উত্তম সূরা শিক্ষা দেব? তারপর তিনি আমাকে “কুল আ’ঊযু বিরব্বিল ফালাক্ব” (সূরা ফালাক) ও “কুল আ’ঊযু বিরব্বিন্না-স” (সূরা আন্ নাস) শিখালেন। কিন্তু এতে আমি খুব খুশী হয়েছি বলে মনে করলেন না। পরে তিনি ফাজ্রের সালাতের জন্য উট হতে নামলেন। এ দুইটি সূরা দিয়েই আমাদেরকে সালাত আদায় করালেন। সালাত শেষ করে তিনি আমার প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, কি দেখলে হে ‘উক্ববাহ্। [১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৪৬২, নাসায়ী ৪৫৩৬, আহমাদ ৪/১৪৯, ১৫০, ১৫৩, হাকিম ১/৫৬৭। যদিও আবূ দাঊদ-এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে কিন্তু নাসায়ী ও আহমাদ-এর সনদটি সহীহ।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৪৮-[২৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উক্ববাহ ইবনু আমির (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, তিনি সফরে নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর উটের নাকশী ধরে চলছিলেন। তখন নবীজি صلى الله عليه وسلم তাকে বললেন, তিনি কি তাকে পাঠ করার মতো দুইটি উত্তম সূরা শেখাবেন। এরপর তিনি সূরা ফালাক ও সূরা নাস শেখালেন। উক্ববাহ (রাঃ) তখন খুব বেশি খুশি হয়েছেন বলে নবীজি صلى الله عليه وسلم মনে করলেন না। পরে ফজরের সালাতে নবীজি صلى الله عليه وسلم এই দুই সূরা দিয়েই মানুষকে সালাত আদায় করালেন। সালাত শেষে তিনি উক্ববাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কী দেখলেন। এই হাদিসে সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং ফজরের কিরাআতের গুরুত্ব সুন্দরভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি صلى الله عليه وسلم সূরা ফালাক ও সূরা নাসকে উত্তম সূরা হিসেবে শিক্ষা দিয়েছেন।
- তিনি ফজরের সালাতে এই দুই সূরা পাঠ করেছেন।
- শিক্ষা দেওয়ার পর নবীজি صلى الله عليه وسلم বাস্তব আমলের মাধ্যমে তার গুরুত্ব দেখিয়েছেন।
- কুরআনের ছোট সূরাগুলোর মর্যাদা বুঝে পড়া দরকার।
