১৬/১৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮০৭ - হজ ও উমরার ইহরাম বিধান
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু‘ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে
হজ ও উমরার ইহরাম: কোন অবস্থায় ইহরাম খোলা যায়
সহীহ মুসলিম : ২৮০৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮০৭
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ وَعُمْرَةٍ وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِالْحَجِّ وَأَهَلَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِالْحَجِّ فَأَمَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ فَحَلَّ وَأَمَّا مَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ أَوْ جَمَعَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَلَمْ يَحِلُّوا حَتَّى كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা বিদায় হজের বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের মধ্যে কতক উমরার উদ্দেশে, কতক হজ ও উমরাহ উভয়ের উদ্দেশে এবং কতক শুধু হজের উদ্দেশে ইহরাম বাঁধল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কেবল হজের ইহরাম বাঁধলেন। যারা উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছিল, তারা (উমরাহ সমাপনান্তে) ইহরাম খুলে ফেলল। আর যারা শুধু হজের, আর যারা হজ ও উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিল, তারা কুরবানী দিবসের পূর্ব পর্যন্ত ইহরামমুক্ত হতে পারেনি।
ই.ফা. ২৭৮৪, ই.সে. ২৭৮২
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিদায় হজের সময় সাহাবীদের ইহরামের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। কেউ শুধু উমরার নিয়তে ইহরাম বেঁধেছিলেন, কেউ হজ ও উমরা একসঙ্গে করেছিলেন, আর কেউ শুধু হজের ইহরাম করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিজে হজের ইহরাম বাঁধেন। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ইহরাম ভঙ্গ করার বিধান সবার জন্য এক রকম ছিল না। যারা শুধু উমরার জন্য ইহরাম করেছিল, তারা উমরা শেষ করে ইহরাম খুলে ফেলেছিল। কিন্তু যারা শুধু হজ বা হজ-উমরা একসঙ্গে করেছিল, তারা কুরবানির দিন পর্যন্ত ইহরামমুক্ত হয়নি। তাই হজ ও উমরার ইহরাম বিধান বুঝতে এই বর্ণনা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজ, উমরা ও হজ-উমরা একসঙ্গে করার ইহরাম আলাদা হতে পারে।
- শুধু উমরার ইহরাম হলে উমরা শেষে ইহরাম খোলা যায়।
- হজ বা কিরান হজের ক্ষেত্রে কুরবানির দিন পর্যন্ত ইহরামে থাকতে হয়।
- ইবাদতের ধরন বুঝে ইহরামের বিধান মানতে হয়।
