১৬/২৬. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮৮০ - বাধার আশঙ্কায় হজ ও উমরা

বাধাপ্রাপ্ত হলে হালাল হওয়ার বৈধতা এং হাজ্জে ক্বিরান বৈধ হওয়ার বিবরণ

বাধার আশঙ্কায় হজ-উমরা: রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর আদর্শ অনুসরণ

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮৮০

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - وَهُوَ الْقَطَّانُ - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، وَسَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، كَلَّمَا عَبْدَ اللَّهِ حِينَ نَزَلَ الْحَجَّاجُ لِقِتَالِ ابْنِ الزُّبَيْرِ قَالاَ لاَ يَضُرُّكَ أَنْ لاَ تَحُجَّ الْعَامَ فَإِنَّا نَخْشَى أَنْ يَكُونَ بَيْنَ النَّاسِ قِتَالٌ يُحَالُ بَيْنَكَ وَبَيْنَ الْبَيْتِ قَالَ فَإِنْ حِيلَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ فَعَلْتُ كَمَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مَعَهُ حِينَ حَالَتْ كُفَّارُ قُرَيْشٍ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْبَيْتِ أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ عُمْرَةً ‏.‏ فَانْطَلَقَ حَتَّى أَتَى ذَا الْحُلَيْفَةِ فَلَبَّى بِالْعُمْرَةِ ثُمَّ قَالَ إِنْ خُلِّيَ سَبِيلِي قَضَيْتُ عُمْرَتِي وَإِنْ حِيلَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ فَعَلْتُ كَمَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مَعَهُ ‏.‏ ثُمَّ تَلاَ ‏{‏ لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ‏}‏ ثُمَّ سَارَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِظَهْرِ الْبَيْدَاءِ قَالَ مَا أَمْرُهُمَا إِلاَّ وَاحِدٌ إِنْ حِيلَ بَيْنِي وَبَيْنَ الْعُمْرَةِ حِيلَ بَيْنِي وَبَيْنَ الْحَجِّ أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ حَجَّةً مَعَ عُمْرَةٍ ‏.‏ فَانْطَلَقَ حَتَّى ابْتَاعَ بِقُدَيْدٍ هَدْيًا ثُمَّ طَافَ لَهُمَا طَوَافًا وَاحِدًا بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ لَمْ يَحِلَّ مِنْهُمَا حَتَّى حَلَّ مِنْهُمَا بِحَجَّةٍ يَوْمَ النَّحْرِ ‏.

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ এবং সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ উভয়ে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ)-এর সাথে কথা বললেন- যে বছর হজাজ ইবনু ইউসুফ ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিল। তাঁরা উভয়ে বললেন, এ বছর হজ না করলে আপনার কী ক্ষতি আছে? কারণ আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে- গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং আপনি বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে পারবেন না।‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) বললেন, যদি তা আমার ও বায়তুল্লাহ-এর মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়ও তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা করেছেন, আমিও তদ্রূপ করব। কুরায়শ কাফিররা যখন তাঁর ও বায়তুল্লাহ্র মাঝে প্রতিবন্ধক হয়েছিল, এ সময় আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি ‘উমরার নিয়ত করলাম।অতঃপর তিনি রওনা হয়ে যুল হুলায়ফাহ্ নামক স্থানে পৌঁছে ‘উমরার জন্য তালবিয়াহ্ পাঠ করলেন। অতঃপর বললেন, যদি আমার পথ উন্মুক্ত থাকে, তবে আমি ‘উমরাহ্ পূর্ণ করব। আর যদি আমার ও বায়তুল্লাহ-এর মাঝে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়, তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা করেছেন আমিও তাই করব। সে সময় আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম।অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন : “তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ”-(সূরা আল আহযাব ৩৩ : ২১)।তিনি আবার চলতে লাগলেন, যতক্ষণ না বায়দা নামক স্থানের উপকণ্ঠে পৌঁছলেন। এখানে পৌঁছে তিনি বললেনঃ হজ ও ‘উমরার বিধান একই। যদি আমার এবং ‘উমরার মাঝে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়, তবে আমার এবং হজের মাঝেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। আমি তোমাদের সাক্ষী করছি যে, আমি আমার ‘উমরার সাথে হজকেও বাধ্যতামূলক করে নিলাম। অতঃপর তিনি অগ্রসর হলেন এবং কুদায়দ নামক স্থানে পৌঁছে কুরবানীর পশু ক্রয় করলেন। অতঃপর তিনি হজ ও ‘উমরাহ্ উভয়ের জন্য এক ত্বওয়াফ (সাত চক্কর) ও এক সা’ঈ (সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার দৌড়) করলেন এবং ইহরাম খুললেন না, বরং হজ সমাপন করে কুরবানীর দিন উভয়ের ইহরাম খুললেন।

ই.ফা. ২৮৫৬, ই.সে. ২৮৫৫

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮৮০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে দেখা যায়, যুদ্ধাবস্থার কারণে ইবনু উমর (রাঃ)-কে হজে না যেতে বলা হয়েছিল। কারণ আশঙ্কা ছিল, তিনি বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে বাধাপ্রাপ্ত হতে পারেন। তিনি বলেন, যদি বাধা আসে, তবে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যা করেছেন, তিনিও তাই করবেন। তিনি সূরা আহযাবের আয়াত তিলাওয়াত করেন, যেখানে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে উত্তম আদর্শ বলা হয়েছে। প্রথমে তিনি উমরার নিয়ত করেন, পরে আল-বায়দার কাছে এসে উমরার সঙ্গে হজও বাধ্যতামূলক করেন। কুদাইদে কুরবানির পশু নেন। এরপর হজ ও উমরার জন্য এক তাওয়াফ ও এক সাঈ করেন এবং কুরবানির দিন পর্যন্ত ইহরাম খুলেননি। এই হাদিস কিরান হজ ও সুন্নাহ অনুসরণের এক শক্ত শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কঠিন পরিস্থিতিতেও রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আদর্শ অনুসরণ করা উচিত।
  • ইবনু উমর (রাঃ) উমরার সঙ্গে হজ যুক্ত করেছেন।
  • হজ ও উমরার জন্য এক তাওয়াফ ও এক সাঈ করার বর্ণনা এসেছে।
  • কুরবানির দিন পর্যন্ত ইহরাম না খোলার আমল দেখা যায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন