১৮/১৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৩০ - বিবাহে পরিবারের দায়িত্ব
কুমারীর পানিগ্রহণ মুস্তাহাব
বিবাহে পরিবার দায়িত্ব ও সঠিক সিদ্ধান্ত
সহীহ মুসলিম : ৩৫৩০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৫৩০
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ، هَلَكَ وَتَرَكَ تِسْعَ بَنَاتٍ - أَوْ قَالَ سَبْعَ - فَتَزَوَّجْتُ امْرَأَةً ثَيِّبًا فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يَا جَابِرُ تَزَوَّجْتَ " . قَالَ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ «فَبِكْرٌ أَمْ ثَيِّبٌ " . قَالَ قُلْتُ بَلْ ثَيِّبٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " فَهَلاَّ جَارِيَةً تُلاَعِبُهَا وَتُلاَعِبُكَ». أَوْ قَالَ «تُضَاحِكُهَا وَتُضَاحِكُكَ».قَالَ قُلْتُ لَهُ إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ هَلَكَ وَتَرَكَ تِسْعَ بَنَاتٍ - أَوْ سَبْعَ - وَإِنِّي كَرِهْتُ أَنْ آتِيَهُنَّ أَوْ أَجِيئَهُنَّ بِمِثْلِهِنَّ فَأَحْبَبْتُ أَنْ أَجِيءَ بِامْرَأَةٍ تَقُومُ عَلَيْهِنَّ وَتُصْلِحُهُنَّ . قَالَ «فَبَارَكَ اللَّهُ لَكَ». أَوْ قَالَ لِي خَيْرًا وَفِي رِوَايَةِ أَبِي الرَّبِيعِ " تُلاَعِبُهَا وَتُلاَعِبُكَ وَتُضَاحِكُهَا وَتُضَاحِكُكَ».
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) মৃত্যু (শাহাদাত) বরণ করলেন এবং নয়টি (কিংবা তিনি বলেছেন, সাতটি) কন্যা রেখে গেলেন। পরে আমি (জাবির) এক বিধবা মহিলাকে বিয়ে করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে জাবির, তুমি বিয়ে করেছো? আমি বললামঃ হাঁ। তিনি (ﷺ) বললেন, তা কুমারী না বিধবা? আমি বললামঃ বরং বিধবা হে আল্লাহর রাসূল। তিনি (ﷺ) বললেন, তবে তা কোন তরুণী (কুমারী) কেন নয় যে, (ইয়াহিয়া রিওয়ায়াতে) তুমি তার সঙ্গে আমোদ-স্ফূর্তি করবে, সেও তোমার সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করবে কিংবা তিনি (ﷺ) বলেছিলেন, তুমি তার সঙ্গে হাস্য-রস করতে, সেও তোমার সঙ্গে হাস্য-রস করত।জাবির (রাঃ) বলেন, আমি তাঁকে বললাম, (আমার পিতা) ‘আবদুল্লাহ নয়টি (কিংবা সাতটি) মেয়ে রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং আমি তাদের মাঝে তাদের মতো একজনকে নিয়া আসা অপছন্দ করলাম। তাই আমি এমন একটি মহিলাকে নিয়ে আসা পছন্দ করলাম যে তাদের দেখাশুনা করবে এবং তাদের শুধরে দিবে ও গড়ে তুলবে। তিনি (ﷺ) বললেন, তবে আল্লাহ তোমাকে বারাকাত দান করুন। তিনি আমাকে (এ ধরনের) কোন উত্তম কথা বললেন।আবূ রবী’ (রহঃ)-এর রিওয়ায়াতে রয়েছে- “তুমি তার সঙ্গে আমোদ-স্ফূর্তি করবে ও তার সঙ্গে হাস্য-রস করবে, সেও তোমার সাথে হাস্য রস করবে।”
ই.ফা. ৩৫০৩, ই.সে. ৩৫০২
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির রা.-এর জীবনের একটি বাস্তব ঘটনা এসেছে। তাঁর পিতা আবদুল্লাহ রা. শহীদ হন এবং সাত বা নয়জন কন্যা রেখে যান। জাবির রা. তখন একজন বিধবা নারীকে বিয়ে করেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কুমারী বিয়ে করেছেন না বিধবা। নবী صلى الله عليه وسلم কুমারী স্ত্রীর সঙ্গে পারস্পরিক হাসি-আনন্দের কথা বলেন। জাবির রা. তখন নিজের কারণ জানান—তিনি এমন একজন নারী চান, যিনি তাঁর বোনদের দেখাশোনা করবেন, তাদের গড়ে তুলবেন এবং সংসার সামলাতে সাহায্য করবেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁর এই কারণ শুনে তাঁর জন্য বারাকাতের দোয়া করেন বা উত্তম কথা বলেন। এই হাদিসে বিবাহ নির্বাচন, পরিবার দায়িত্ব, দাম্পত্য আনন্দ এবং বাস্তব প্রয়োজন—সবকিছুর সুন্দর ভারসাম্য দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পরিবারের দায়িত্ব বিবাহের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।
- জাবির রা. বোনদের কল্যাণের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ভালো উদ্দেশ্য ও বাস্তব প্রয়োজনকে সম্মান করেছেন।
- দাম্পত্য জীবনে আনন্দ যেমন আছে, তেমনি সংসার সামলানোর দায়িত্বও আছে।
