১৮/১৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫২৯ - দাম্পত্যে হাসি-আনন্দের শিক্ষা
কুমারীর পানিগ্রহণ মুস্তাহাব
দাম্পত্য জীবনে হাসি-আনন্দের নববী শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৩৫২৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৫২৯
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَارِبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ، عَبْدِ اللَّهِ قَالَ تَزَوَّجْتُ امْرَأَةً فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «هَلْ تَزَوَّجْتَ " . قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ «أَبِكْرًا أَمْ ثَيِّبًا " . قُلْتُ ثَيِّبًا . قَالَ «فَأَيْنَ أَنْتَ مِنَ الْعَذَارَى وَلِعَابِهَا». قَالَ شُعْبَةُ فَذَكَرْتُهُ لِعَمْرِو بْنِ دِينَارٍ فَقَالَ قَدْ سَمِعْتُهُ مِنْ جَابِرٍ وَإِنَّمَا قَالَ " فَهَلاَّ جَارِيَةً تُلاَعِبُهَا وَتُلاَعِبُكَ»
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি জনৈকা মহিলাকে বিয়ে করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, তুমি কি বিয়ে করেছো? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন কোন কুমারীকে না বিধবাকে? আমি বললাম, একটি বিধবাকে। তিনি বললেন, তবে কুমারী ও তার আমোদ-স্ফূর্তি হতে তুমি কতদূরে? (মধ্যবর্তী) রাবী শু’বাহ্ (রহঃ) বলেন, পরে আমি ‘আম্র ইবনু দীনার (রহঃ)-এর নিকট এ হাদীস উল্লেখ করলে তিনি বললেন, আমিও তো জাবির (রাঃ)-এর নিকট তা শুনেছি। তিনি তো বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেনঃ তবে কোন কিশোরী (তরুণী)-কে কেন নয়- যে তোমার সঙ্গে হাসি-তামাশা করত, তুমিও তার সঙ্গে আমোদ-স্ফূর্তি করতে?
ই.ফা. ৩৫০২, ই.সে. ৩৫০১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির রা. জানান, তিনি একজন বিধবা নারীকে বিয়ে করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কুমারী বিয়ে করেছেন না বিধবা। যখন তিনি বলেন যে বিধবা বিয়ে করেছেন, তখন নবী صلى الله عليه وسلم কুমারী স্ত্রীর সঙ্গে পারস্পরিক হাসি-তামাসা ও আমোদ-স্ফূর্তির কথা উল্লেখ করেন। এখানে দাম্পত্য জীবনের একটি কোমল দিক দেখা যায়। ইসলামি বিবাহ শুধু দায়িত্বের বন্ধন নয়; এতে সোহাগ, আন্তরিকতা, হাসি ও সহজ আনন্দের জায়গাও আছে। তবে এই বর্ণনায় জাবির রা.-এর সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ এ অংশে আসেনি; তাই ব্যাখ্যা শুধু এই কথোপকথন পর্যন্ত সীমিত রাখা উচিত। হাদিসটি দাম্পত্য সম্পর্ক, নববী পরামর্শ এবং স্বামী-স্ত্রীর ভালো সম্পর্ক নিয়ে সহজ শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক হাসি ও আনন্দের স্থান আছে।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সাহাবিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কোমলভাবে পরামর্শ দিতেন।
- বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করা ইসলামের শালীন আদবের মধ্যে হতে পারে।
- স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শুধু দায়িত্ব নয়, ভালোবাসা ও আন্তরিকতারও সম্পর্ক।
