৩৩/১৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪৭৪ - খাইবার, ফাদাক ও সদাকার আমানত
নাবী (ﷺ)-এর বানী- আমরা (নাবীগন) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না, আমরা যা কিছু রেখে যাই সবই সদাকাহ (বাইতুল মাল)
খাইবার ও ফাদাকের সম্পদ: নববী আমানত
সহীহ মুসলিম : ৪৪৭৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৪৭৪
وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ سَأَلَتْ أَبَا بَكْرٍ بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنْ يَقْسِمَ لَهَا مِيرَاثَهَا مِمَّا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْهِ . فَقَالَ لَهَا أَبُو بَكْرٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ».قَالَ وَعَاشَتْ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ سِتَّةَ أَشْهُرٍ وَكَانَتْ فَاطِمَةُ تَسْأَلُ أَبَا بَكْرٍ نَصِيبَهَا مِمَّا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِنْ خَيْبَرَ وَفَدَكٍ وَصَدَقَتِهِ بِالْمَدِينَةِ فَأَبَى أَبُو بَكْرٍ عَلَيْهَا ذَلِكَ وَقَالَ لَسْتُ تَارِكًا شَيْئًا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَعْمَلُ بِهِ إِلاَّ عَمِلْتُ بِهِ إِنِّي أَخْشَى إِنْ تَرَكْتُ شَيْئًا مِنْ أَمْرِهِ أَنْ أَزِيغَ فَأَمَّا صَدَقَتُهُ بِالْمَدِينَةِ فَدَفَعَهَا عُمَرُ إِلَى عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ فَغَلَبَهُ عَلَيْهَا عَلِيٌّ وَأَمَّا خَيْبَرُ وَفَدَكُ فَأَمْسَكَهُمَا عُمَرُ وَقَالَ هُمَا صَدَقَةُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ كَانَتَا لِحُقُوقِهِ الَّتِي تَعْرُوهُ وَنَوَائِبِهِ وَأَمْرُهُمَا إِلَى مَنْ وَلِيَ الأَمْرَ قَالَ فَهُمَا عَلَى ذَلِكَ إِلَى الْيَوْمِ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকালের পর আবূ বাকর (রাঃ) এর নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পরিত্যক্ত সম্পত্তির যা আল্লাহ তাঁকে দিয়েছেন নিজের প্রাপ্য অংশ দাবি করেন। তখন আবূ বাকর (রাঃ) তাঁকে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা (নবীগণ) সম্পত্তিতে কাউকে উত্তরাধিকার রেখে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা হবে সদাকাহ। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকালের পর ফাতিমা (রাঃ) ছয় মাস জীবিত ছিলেন। ফাতিমা (রাঃ) আবূ বাকর (রাঃ) এর নিকট তাঁর সে প্রাপ্য অংশ চেয়েছিলেন- যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাইবার, ফিদাক, এবং মাদীনার (সদাকাহ) দান করে রেখে গিয়েছেন।আবূ বাকর (রাঃ) তাঁকে তা প্রদান করতে অস্বীকার করলেন এবং বললেন, আমি এমন কোন কাজ ছেড়ে দেব না যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করতেন। কেননা, আমি ভয় করি যে, যদি তাঁর কোন কাজ পরিত্যাগ করি, তবে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবো। তবে হ্যাঁ, মাদীনার (সদাকার) দানের মাল উমর (রাঃ) তাঁর সময়ে ‘আলী (রাঃ) এবং ‘আব্বাস (রাঃ)-কে প্রদান করেছিলেন। কিন্তু ‘আলী (রাঃ) একাকীই সে সম্পদ অধিকার করে নেন। আর খাইবার এবং ফিদাকের সম্পদ ‘উমর (রাঃ) নিজের দায়িত্বে রাখলেন এবং বললেন, এ ছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রয়োজন মেটানোর জন্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয়ের জন্য। এ দুটো সম্পদের দায়িত্ব থাকে মুসলিমদের ‘আমীরের উপর। বর্ণনাকারী বলেন, এ উভয় সম্পদের বন্টন ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত তদ্রূপই আছে।
ই.ফা. ৪৪৩০, ই.সে. ৪৪৩২
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফাতিমা (রাঃ)-এর মীরাস দাবি এবং আবু বকর (রাঃ)-এর জবাব আবার স্পষ্টভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ইন্তিকালের পর তিনি খাইবার, ফাদাক ও মদিনার সদাকার অংশ চাইলে আবু বকর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন—আমরা উত্তরাধিকার রেখে যাই না; আমরা যা রেখে যাই তা সদাকা। আবু বকর (রাঃ) আরও বলেন, তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কোনো কাজ ছাড়বেন না; কারণ তা ছেড়ে দিলে পথভ্রষ্ট হওয়ার ভয় আছে। পরে মদিনার সদাকা উমর (রাঃ) আলী ও আব্বাস (রাঃ)-কে দেন, আর খাইবার ও ফাদাক নিজের দায়িত্বে রাখেন। তিনি বলেন, এগুলো রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রয়োজন ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হতো এবং এর দায়িত্ব মুসলিমদের আমিরের উপর। হাদিসটি আমানত, নেতৃত্ব, সদাকা এবং নবীজির পদ্ধতি ধরে রাখার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজির পদ্ধতি পরিবর্তন না করা আবু বকর (রাঃ)-এর বড় সতর্কতা ছিল।
- খাইবার ও ফাদাকের সম্পদ ব্যক্তিগত মীরাস হিসেবে দেওয়া হয়নি।
- সামষ্টিক সম্পদের দায়িত্ব নেতৃত্বের উপর থাকে।
- অমানত ব্যবহারে পূর্বের সঠিক পদ্ধতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
