৩৩/১৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪৭৫ - নবীজির সম্পদ বণ্টন হবে না
নাবী (ﷺ)-এর বানী- আমরা (নাবীগন) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না, আমরা যা কিছু রেখে যাই সবই সদাকাহ (বাইতুল মাল)
নবীজির সম্পদ বণ্টন নয়, সদাকা হিসেবে ব্যবহার
সহীহ মুসলিম : ৪৪৭৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৪৭৫
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «لاَ يَقْتَسِمُ وَرَثَتِي دِيِنَارًا مَا تَرَكْتُ بَعْدَ نَفَقَةِ نِسَائِي وَمَئُونَةِ عَامِلِي فَهُوَ صَدَقَةٌ».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার পরিত্যক্ত সম্পদের এক দিনারও বণ্টিত হবে না। আমি যা রেখে যাই তা থেকে আমার স্ত্রীগণের ব্যয় নির্বাহ এবং রাষ্ট্রীয় পরিচালকের বেতন ভাতার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা হবে সদাকাহ বা দান।
ই.ফা. ৪৪৩১, ই.সে. ৪৪৩৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিজেই তাঁর পরিত্যক্ত সম্পদ সম্পর্কে পরিষ্কার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদের এক দীনারও উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ হবে না। তবে তাঁর স্ত্রীদের ব্যয় এবং রাষ্ট্রীয় পরিচালকের প্রয়োজনীয় খরচের পর যা বাকি থাকবে, তা সদাকা হবে। এই হাদিস নবীজির সম্পদ, মীরাস এবং সদাকার বিধানকে খুব সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তভাবে তুলে ধরে। এখানে পরিবারের দায়িত্বও অস্বীকার করা হয়নি; স্ত্রীদের ব্যয়ের কথা স্পষ্টভাবে এসেছে। আবার ব্যক্তিগত বণ্টনের কথাও নেই; বাকি অংশ সদাকা হিসেবে রাখা হয়েছে। তাই এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর রেখে যাওয়া সম্পদ সাধারণ মানুষের সম্পদের মতো মীরাসে ভাগ হয়নি। বরং নির্দিষ্ট ব্যয় শেষে তা দান ও সামষ্টিক কল্যাণের খাতে ব্যবহারের নীতি বহন করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পরিত্যক্ত সম্পদ উত্তরাধিকার হিসেবে ভাগ হয়নি।
- স্ত্রীদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের কথা হাদিসে স্পষ্ট আছে।
- দায়িত্বশীল খরচের পর অবশিষ্ট সম্পদ সদাকা।
- সম্পদের ব্যাপারে নবীজির নির্দেশ খুব পরিষ্কারভাবে মানতে হয়।
