৩৭/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫০৬৬ - আয়িশা (রাঃ) সূত্রে পাত্র ও বর্ণনার সততা
মুযাফ্ফাত, দুব্বা, হানতাম ও নাকীর [৫] ইত্যাদিতে নাবীয তৈরি করার নিষেধাজ্ঞা (এবং এ হুকুম রহিত হওয়া আর নেশা সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এগুলো বৈধ) হওয়ার বর্ণনা
আয়িশা (রাঃ) সূত্রে নাবীয পাত্র ও বর্ণনার সততা
সহীহ মুসলিম : ৫০৬৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫০৬৬
وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، كِلاَهُمَا عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ قُلْتُ لِلأَسْوَدِ هَلْ سَأَلْتَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ عَمَّا يُكْرَهُ أَنْ يُنْتَبَذَ فِيهِ قَالَ نَعَمْ. قُلْتُ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ أَخْبِرِينِي عَمَّا نَهَى عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ يُنْتَبَذَ فِيهِ. قَالَتْ نَهَانَا أَهْلَ الْبَيْتِ أَنْ نَنْتَبِذَ فِي الدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ. قَالَ قُلْتُ لَهُ أَمَا ذَكَرَتِ الْحَنْتَمَ وَالْجَرَّ قَالَ إِنَّمَا أُحَدِّثُكَ بِمَا سَمِعْتُ أَأُحَدِّثُكَ مَا لَمْ أَسْمَعْ
ইব্রাহীম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আসওয়াদ (রহঃ)-কে বললাম, আপনি কি উম্মুল মু‘মিনীন [‘আয়িশা (রাঃ)]-কে প্রশ্ন করেছিলেন ¬¬- কোন জিনিসে নাবীয প্রস্তুত করা মাকরূহ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি তখন বলেছিলাম, হে উম্মুল মু‘মিনীন! আমাকে বলুন, রসুলুল্লাহ্ (ﷺ) কোন জিনিসে নাবীয প্রস্তুত করতে বারণ করেছেন। তিনি বললেন, তিনি আমাদের পরিবারের সকলকে বারণ করেছেন, আমরা যেন দুব্বা ও মুযাফ্ফাতে নাবীয প্রস্তুত না করি। ইব্বাহীম (রহঃ) বলেন, আমি আসওয়াদকে বললাম, তিনি [‘আয়িশা (রাঃ)] কি হান্তাম ও কলসীর কথা বর্ণনা করেননি? তিনি বললেন, আমি যা শুনেছি, তাই তোমার কাছে বলেছি। সেটিও কি তোমার কাছে বলতে হবে যা আমি শুনিনি?
ই.ফা. ৫০০৩, ই.সে ৫০১৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫০৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আসওয়াদ (রহঃ) উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করার কথা বলেছেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم কোন জিনিসে নাবীয প্রস্তুত করতে বারণ করেছেন। আয়িশা (রাঃ) জানান, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁদের পরিবারকে দুব্বা ও মুযাফফাতে নাবীয প্রস্তুত না করতে বারণ করেছেন। এরপর ইব্রাহিম (রহঃ) আসওয়াদকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি হানতাম ও কলসীর কথা বলেননি? আসওয়াদ উত্তর দেন, তিনি যা শুনেছেন তাই বলেছেন; যা শুনেননি তা বলবেন না। এই হাদিসে নাবীয পাত্রের নিষেধের সঙ্গে হাদিস বর্ণনার বড় শিক্ষা আছে: যা শোনা হয়নি, তা নিজের থেকে বলা উচিত নয়। তাই এটি পাত্রের সতর্কতা এবং বর্ণনার সততা—দুই শিক্ষাই দেয়। এ কারণে বর্ণনাটি খুব মূল্যবান।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আয়িশা (রাঃ) দুব্বা ও মুযাফফাতে নাবীয নিষেধের কথা বলেছেন।
- হানতাম ও কলসীর কথা না শুনলে তা বর্ণনা করা হয়নি।
- হাদিস বর্ণনায় যা শোনা হয়েছে শুধু সেটিই বলা উচিত।
