১৩/৪৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১২৮৫ - দরুদে ইবরাহিম পড়ার সঠিক ভাষা
নাবী (ﷺ)-এর ওপর দরূদ পাঠ করার আদেশ
দরুদে ইবরাহিম: নবী صلى الله عليه وسلم শেখানো দরুদ পড়ার নিয়ম
সুনানে আন-নাসায়ী : ১২৮৫
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১২৮৫
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، وَاللَّفْظُ لَهُ، عَنْ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ الْأَنْصَارِيَّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ ـ الَّذِي أُرِيَ النِّدَاءَ بِالصَّلَاةِ ـ أَخْبَرَهُ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّهُ قَالَ: أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَجْلِسِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، فَقَالَ لَهُ بَشِيرُ بْنُ سَعْدٍ: أَمَرَنَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ نُصَلِّيَ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ نُصَلِّ عَلَيْكَ؟ فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى تَمَنَّيْنَا أَنَّهُ لَمْ يَسْأَلْهُ ثُمَّ قَالَ: «قُولُوا: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وَالسَّلَامُ كَمَا عَلِمْتُمْ»
আবূ মাসঊদ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সা'দ ইবনু 'উবাদাহ্ (রাঃ)-এর মজলিসে আমাদের কাছে (একদিন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন। তাঁকে বাশীর ইবনু সা'দ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে আপনার ওপর দরূদ পড়তে আদেশ করেছেন, আমরা কীভাবে আপনার ওপর দরূদ পড়ব? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চুপ রইলেন। আমরা প্রত্যাশা করলাম যে, যদি তাঁকে প্রশ্নই না করতো!অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা বলবে- "আল্ল-হুম্মা সল্লি 'আলা- মুহাম্মাদিওঁ ওয়া 'আলা- আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- সল্লায়তা 'আলা- আ-লি ইবরা-হীমা ওয়াবা-রিক 'আলা- মুহাম্মাদিওঁ ওয়া 'আলা- আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- বা-রকতা 'আলা- আ-লি ইব্রাহীমা ফিল 'আ-লামীনা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ ওয়াস্সালা-মু কামা- 'আলিমতুম” (হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তাঁর বংশধরের ওপর রহমাত বর্ষণ কর, যেমন তুমি ইব্রাহীম (আঃ)-এর বংশধরের ওপর রহমাত বর্ষণ করেছ। আর তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তাঁর বংশধরের ওপর বারাকাত বর্ষণ কর, যেমন তুমি পৃথিবীবাসীর মধ্যে ইব্রাহীম (আঃ)-এর বংশধরের ওপর বারাকাত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত গৌরবান্বিত।)। আর সালামও করবে যেরূপ তোমরা শিখেছো।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১২৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় দরুদ পড়ার নিয়ম। বশীর ইবন সাদ রাঃ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করেন, আল্লাহ যখন তাঁর ওপর দরুদ পাঠাতে বলেছেন, তখন কীভাবে দরুদ পড়তে হবে। নবী صلى الله عليه وسلم কিছু সময় নীরব থাকার পর সাহাবিদের নির্দিষ্ট বাক্য শেখান। সেই দরুদে আল্লাহর কাছে মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত এবং বরকত চাওয়া হয়, যেমন ইবরাহিম আঃ-এর পরিবারের ওপর রহমত ও বরকত দেওয়া হয়েছিল। শেষে আল্লাহকে প্রশংসিত ও মহিমান্বিত বলা হয়। নবী صلى الله عليه وسلم আরও বলেন, সালাম সেভাবে পাঠাবে যেভাবে আগে শেখানো হয়েছে। হাদিসটি দেখায়, দরুদ শরীফ শুধু নিজের মতো বানানো প্রশংসার বাক্য নয়; রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নিজেই একটি স্পষ্ট ভাষা শিখিয়েছেন। তাই দরুদে ইবরাহিমের অর্থ বুঝে, মনোযোগ দিয়ে এবং নবী صلى الله عليه وسلم শেখানো বাক্য অনুসারে পড়া গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবির প্রশ্নের উত্তরে নবী صلى الله عليه وسلم দরুদের নির্দিষ্ট ভাষা শেখান।
- দরুদে মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم ও তাঁর পরিবারের জন্য রহমত ও বরকত চাওয়া হয়।
- ইবরাহিম আঃ-এর পরিবারের ওপর দেওয়া রহমত ও বরকতের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হয়।
- সালাম পাঠানোর শেখানো নিয়মও বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
