১৩/৫১. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১২৮৯ - দরুদে ইবরাহিম এক মূল্যবান হাদিয়া

আর এক প্রকার দরূদ

দরুদে ইবরাহিম: কা’ব ইবন উজরা রাঃ-এর মূল্যবান হাদিয়া

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১২৮৯

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ الْحَكَمِ، عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ: قَالَ لِي كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ: أَلَا أُهْدِي لَكَ هَدِيَّةً؟ قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَدْ عَرَفْنَا كَيْفَ السَّلَامُ عَلَيْكَ، فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ؟ قَالَ: «قُولُوا: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ»

ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

কা'ব ইবনু 'উজরাহ্ (রাঃ) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে কিছু হাদিয়‍্যাহ্ দিব না? (কা'ব বললেন) আমরা বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে সালাম পাঠানোর নিয়ম তো আমরা জানি, কিন্তু আপনার ওপর দরূদ কিভাবে পাঠ করব? তিনি (ﷺ) বললেন, তোমরা বলবে- "আল্ল-হুম্মা সল্লি 'আলা- মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- সল্লায়তা 'আলা- আ-লি ইবর-হীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ। আল্ল-হুম্মা বা-রিক 'আলা- মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- বা-রক্তা 'আলা- আ-লি ইব্র-হীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।" (হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তাঁর বংশধরের ওপর রহমাত বর্ষণ কর, যেমন তুমি ইব্রাহীম (আঃ)-এর বংশধরের ওপর রহমাত বর্ষণ করেছিলে। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও গৌরবান্বিত। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তাঁর বংশধরের ওপর বারাকাত বর্ষণ কর, যেমন তুমি ইব্রাহীম (আঃ)-এর বংশধরের ওপর বারাকাত বর্ষণ করেছিলে। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও গৌরবান্বিত।)।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১২৮৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় দরুদে ইবরাহিম। কা’ব ইবন উজরা রাঃ একটি মূল্যবান শিক্ষা দেওয়ার আগে সেটিকে হাদিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সাহাবিরা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সালাম পাঠানোর নিয়ম জানা আছে, কিন্তু দরুদ কীভাবে পাঠাবেন। নবী صلى الله عليه وسلم তখন একটি নির্দিষ্ট দরুদ শেখান। এতে আল্লাহর কাছে মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণের দোয়া করা হয়, যেমন ইবরাহিম আঃ-এর পরিবারের ওপর রহমত দেওয়া হয়েছে। একইভাবে মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم ও তাঁর পরিবারের ওপর বরকত চাওয়া হয়। প্রতিটি অংশে আল্লাহকে প্রশংসিত ও গৌরবান্বিত বলা হয়েছে। এই জ্ঞানকে হাদিয়া বলার মাধ্যমে কা’ব রাঃ দরুদের শিক্ষার মূল্য বুঝিয়েছেন। তাই দরুদ পড়া শুধু মুখস্থ বাক্য নয়; এটি নবী صلى الله عليه وسلم শেখানো অর্থপূর্ণ দোয়া।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কা’ব ইবন উজরা রাঃ দরুদের শিক্ষাকে হাদিয়া হিসেবে তুলে ধরেছেন।
  • নবী صلى الله عليه وسلم নিজের ওপর দরুদ পাঠের নির্দিষ্ট ভাষা শেখান।
  • দরুদে মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم ও তাঁর পরিবারের জন্য রহমত ও বরকত চাওয়া হয়।
  • আল্লাহকে প্রশংসিত ও গৌরবান্বিত বলে দরুদ শেষ করা হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন