১৯/১৯. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৫৭৫ - ঈদের খুতবা, নসিহত ও দান

ইমামের খুত্ববাহ্ দেয়াকালীন কোন মানুষের ওপর ভর করে দাঁড়ানো

ঈদের খুতবায় নসিহত ও দান-খয়রাতের শিক্ষা

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৫৭৫

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَطَاءٌ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: شَهِدْتُ الصَّلَاةَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي يَوْمِ عِيدٍ، فَبَدَأَ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ، فَلَمَّا قَضَى الصَّلَاةَ قَامَ مُتَوَكِّئًا عَلَى بِلَالٍ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، وَوَعَظَ النَّاسَ وَذَكَّرَهُمْ وَحَثَّهُمْ عَلَى طَاعَتِهِ، ثُمَّ مَالَ وَمَضَى إِلَى النِّسَاءِ وَمَعَهُ بِلَالٌ، فَأَمَرَهُنَّ بِتَقْوَى اللَّهِ وَوَعَظَهُنَّ وَذَكَّرَهُنَّ وَحَمِدَ اللَّهَ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ حَثَّهُنَّ عَلَى طَاعَتِهِ، ثُمَّ قَالَ: «تَصَدَّقْنَ فَإِنَّ أَكْثَرَكُنَّ حَطَبُ جَهَنَّمَ»، فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْ سَفِلَةِ النِّسَاءِ سَفْعَاءُ الْخَدَّيْنِ: بِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «تُكْثِرْنَ الشَّكَاةَ، وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ»، فَجَعَلْنَ يَنْزِعْنَ قَلَائِدَهُنَّ، وَأَقْرُطَهُنَّ، وَخَوَاتِيمَهُنَّ يَقْذِفْنَهُ فِي ثَوْبِ بِلَالٍ يَتَصَدَّقْنَ بِهِ

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক ঈদের দিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি আযান ইক্বামাত ছাড়াই খুতবা দেয়ার পূর্বে সালাত শুরু করে দিলেন। যখন সালাত শেষ করলেন, বিলাল (রাঃ)-এর ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে গেলেন। আল্লাহর প্রশংসা এবং গুণ বর্ণনা করলেন, লোকেদের ওয়াজ করলেন, তাদের নাসীহাত করলেন এবং আল্লাহর ইবাদতের প্রতি উৎসাহিত করলেন।অতঃপর চেহারা ফিরিয়ে নিলেন এবং নারীদের দিকে গেলেন। তাঁর সাথে বিলাল (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি তাদেরকে আদেশ দিলেন আল্লাহকে ভয় করতে, ওয়াজ করলেন, নাসীহাত করলেন, আল্লাহর প্রশংসা এবং গুণ বর্ণনা করলেন এবং তাদেরকে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি উৎসাহিত করলেন এবং বললেন, তোমরা দান-খয়রাত করবে, কেননা তোমাদের বেশির ভাগই জাহান্নামের ইন্ধন। তখন নিম্নশ্রেণীর একজন মহিলা বলে উঠল যার গণ্ডদ্বয়ে হালকা কাল দাগ ছিল, কেন হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)? তিনি বললেন, তোমরা অত্যধিক গীবাত কর এবং স্বামীর নাফরমানী কর। তখন তারা নিজেদের গলার হার, কানের দুল এবং আংটি টেনে খুলে বিলাল (রাঃ)-এর কাপড়ে ছুঁড়ে মারতে লাগল দান স্বরূপ।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৫৭৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ঈদের সালাত, খুতবা, নসিহত ও দান—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে এসেছে। জাবির (রাঃ) বলেন, নবীজি صلى الله عليه وسلم ঈদের দিনে আজান ও ইকামত ছাড়া খুতবার আগে সালাত শুরু করেন। সালাত শেষে তিনি বিলাল (রাঃ)-এর ওপর ভর করে দাঁড়ান, আল্লাহর প্রশংসা করেন, মানুষকে ওয়াজ করেন এবং আল্লাহর ইবাদতের প্রতি উৎসাহ দেন। এরপর তিনি নারীদের দিকে যান, তাদেরও তাকওয়া, নসিহত ও দানের কথা বলেন। নারীরা নিজেদের গলার হার, কানের দুল ও আংটি খুলে বিলাল (রাঃ)-এর কাপড়ে দান হিসেবে রাখেন। এই হাদিসে ঈদের খুতবার মূল বার্তা হলো—নসিহত শোনা, আল্লাহভীতি রাখা এবং দান-খয়রাতে এগিয়ে আসা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ঈদের সালাত আজান ও ইকামত ছাড়া আদায় করা হয়েছে।
  • খুতবায় আল্লাহর প্রশংসা, নসিহত ও ইবাদতের উৎসাহ ছিল।
  • নবীজি صلى الله عليه وسلم নারীদের আলাদা করে নসিহত করেছেন।
  • দান-খয়রাতের আহ্বানে নারীরা সাড়া দিয়েছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন