২১/১১৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৬২ - কবরের ফিতনা ও দাজ্জালের পরীক্ষার সাদৃশ্য
ক্বরের ‘আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা
কবরের ফিতনা: দাজ্জালের পরীক্ষার মতো কঠিন সতর্কবার্তা
সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৬২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২০৬২
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَسْمَاءَ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ تَقُولُ: قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ الْفِتْنَةَ الَّتِي يُفْتَنُ بِهَا الْمَرْءُ فِي قَبْرِهِ، فَلَمَّا ذَكَرَ ذَلِكَ ضَجَّ الْمُسْلِمُونَ ضَجَّةً حَالَتْ بَيْنِي وَبَيْنَ أَنْ أَفْهَمَ كَلَامَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا سَكَنَتْ ضَجَّتُهُمْ قُلْتُ لِرَجُلٍ قَرِيبٍ مِنِّي: أَيْ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ، مَاذَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي آخِرِ قَوْلِهِ؟ قَالَ: «قَدْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ قَرِيبًا مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ»
আসমা বিনতু আবূ বাক্র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে করে লোকজন যে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে তার উল্লেখ করতে থাকলে মুসলিমদের কান্নার এমন শোরগোল সৃষ্টি হল, এমনকি আমার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কথা শুনতে বাধা সৃষ্টি হতে লাগল। যখন কান্নাকাটি থেমে গেল তখন আমি আমার নিকটবর্তী একলোক জিজ্ঞেস করলাম, আপনার প্রতি আল্লাহ তা'আলা রহম করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কথার শেষে কি বলেছিলেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার নিকট ওহী এসেছে যে, তোমরা দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় করে ফিতনার সম্মুখীন হবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৬২-এর সারসংক্ষেপ
আসমা বিনত আবু বকর (রাঃ)-এর বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মানুষের কবরের পরীক্ষার কথা বলেন। এ কথা শুনে মুসলিমদের মধ্যে এত কান্না শুরু হয় যে, তিনি শেষের কথা স্পষ্টভাবে শুনতে পারেননি। পরে কাছের একজনের মাধ্যমে জানতে পারেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন—কবরে এমন এক ফিতনার সম্মুখীন হতে হবে, যা দাজ্জালের ফিতনার কাছাকাছি। হাদিসটির প্রধান বিষয় কবরের ফিতনা। এটি শুধু আবেগী বর্ণনা নয়; বরং মৃত্যু-পরবর্তী পরীক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুত হওয়ার সতর্কতা। সাহাবিদের প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাঁরা আখিরাতের কথা গভীরভাবে গ্রহণ করতেন। হাদিসে পরীক্ষার বিস্তারিত প্রশ্ন বা উত্তর বলা হয়নি। তাই এর বাইরে কিছু যোগ না করে বলা যায়, কবরের পরীক্ষা গুরুতর। মুমিনের উচিত আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং আখিরাতের জন্য সচেতন থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কবরের ফিতনা একটি গুরুতর মৃত্যু-পরবর্তী পরীক্ষা।
- আখিরাতের সতর্কবাণী সাহাবিদের অন্তরে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
- হাদিসে কবরের পরীক্ষাকে দাজ্জালের ফিতনার কাছাকাছি বলা হয়েছে।
- এই সতর্কতা মানুষকে আখিরাতের প্রস্তুতির কথা মনে করায়।
