২২/২২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২১৫৭ - সাহরি শেষে ফজরের সময়
হিশাম ও সা‘ঈদ (রহিমাহুমাল্লাহ) কর্তৃক কৃতাদাহ্ (রাঃ)-এর বর্ণনায় ভিন্নতা
রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সাহরি ও ফজরের মাঝে পঞ্চাশ আয়াত
সুনানে আন-নাসায়ী : ২১৫৭
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২১৫৭
أَخْبَرَنَا أَبُو الْأَشْعَثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: «تَسَحَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ، ثُمَّ قَامَا فَدَخَلَا فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ»، فَقُلْنَا لِأَنَسٍ: كَمْ كَانَ بَيْنَ فَرَاغِهِمَا وَدُخُولِهِمَا فِي الصَّلَاةِ؟ قَالَ: قَدْرُ مَا يَقْرَأُ الْإِنْسَانُ خَمْسِينَ آيَةً
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) একত্রে সাহরী খেলেন। অতঃপর উভয়ে ফজরের সালাত শুরু করলেন। রাবী বলেন : আমরা আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, তাঁদের সাহরী শেষ করা এবং সালাত শুরু করার মাঝে কতটুকু সময় ব্যবধান ছিল। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির পঞ্চাশ আয়াত পাঠ করার সমপরিমাণ সময়।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২১৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ও যায়দ ইবনু সাবিত রাঃ-এর একসঙ্গে সাহরি খাওয়ার কথা এসেছে। সাহরি শেষ করার পর তারা ফজরের সালাতে প্রবেশ করেন। আনাস রাঃ-কে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, সাহরি শেষ করা ও সালাত শুরু করার মধ্যে কতটুকু সময় ছিল, তিনি বলেন, একজন মানুষ পঞ্চাশ আয়াত পড়তে যত সময় নেয়, ততটুকু। বর্ণনাটি সাহরির সময় সম্পর্কে একটি ব্যবহারিক ধারণা দেয়। সাহরি খুব আগে শেষ করা হয়নি; বরং ফজরের সালাতের কাছাকাছি সময় পর্যন্ত চলেছে। তবে হাদিসে পঞ্চাশ আয়াত কোন গতিতে পড়া হবে বা তা কত মিনিট—এসব নির্ধারণ করা হয়নি। তাই একে ঘড়ির একেবারে নির্দিষ্ট সংখ্যায় বেঁধে ফেলা ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, সাহরি শেষের পর সালাতের প্রস্তুতির জন্য সীমিত একটি বিরতি ছিল। রোজার সময় পরিকল্পনায় এ বর্ণনা দেরিতে সাহরি গ্রহণ এবং ফজরের জন্য সচেতন প্রস্তুতির সুন্দর উদাহরণ দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ও যায়দ রাঃ একসঙ্গে সাহরি খেয়েছিলেন।
- সাহরি শেষ ও ফজর শুরুতে পঞ্চাশ আয়াত পাঠের সমান সময় ছিল।
- নির্দিষ্ট মিনিট এই বর্ণনায় বলা হয়নি।
- সাহরি শেষে ফজরের প্রস্তুতিতে মনোযোগী হওয়া দরকার।
