২২/৪০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২০৮ - তারাবিহর ফজিলত ও বর্ণনার শুদ্ধতা যাচাই
এ হাদীস বর্ণনায় ইয়াহইয়া ইবনু আবু কাসীর ও নাফ্র ইবনু শায়বান (রহিমাহুমাল্লাহ)-এর বর্ণনার পার্থক্য
তারাবিহ নামাজের ফজিলত এবং হাদিসের বর্ণনা যাচাই
সুনানে আন-নাসায়ী : ২২০৮
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২২০৮
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنِي النَّضْرُ بْنُ شَيْبَانَ، - أَنَّهُ لَقِيَ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، فَقَالَ لَهُ: حَدِّثْنِي بِأَفْضَلِ شَيْءٍ سَمِعْتَهُ يُذْكَرُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ -، فَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ ذَكَرَ شَهْرَ رَمَضَانَ فَفَضَّلَهُ عَلَى الشُّهُورِ، وَقَالَ: «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ»، قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ: «هَذَا خَطَأٌ وَالصَّوَابُ أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ»،
‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নাযর ইবনু শায়বান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আবূ সালামাহ্ ইবনু 'আবদুর রহমান (রহঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করে বললেন, আপনি রমাযান মাস সম্পর্কে উত্তম যা কিছু আলোচনা শুনেছেন তা আমার কাছে বর্ণনা করুন। তখন আবূ সালামাহ্ (রহঃ) বললেন যে, 'আবদুর রহমান ইবনু 'আওফ (রাঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমাযান মাসের আলোচনা করলেন এবং রমাযান মাসকে সকল মাসের উপর মর্যাদা দান করে বললেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের নিয়তে রাতের (তারাবীহের) সালাত আদায় করে, সে স্বীয় গুনাহসমূহ থেকে ঐ দিনের মত পবিত্র হয়ে যায় যে দিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল।আবূ আবদুর রহমান বলেন : এ বর্ণনায় সমস্যা আছে, এবং সঠিক বিষয় হল আবূ সালামাহ্-এর হাদীসটি যা তিনি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় রমজান মাসের মর্যাদা ও রাতের সালাতের ফজিলত বলা হয়েছে। এতে এসেছে, ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে রমজানের রাতে সালাত আদায়কারী গুনাহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয় যেন সে সদ্য জন্মেছে। তবে বর্ণনার শেষ অংশটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আবু আবদুর রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, এই সূত্রে সমস্যা আছে এবং সঠিক বর্ণনা হলো আবু সালামা থেকে আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর মাধ্যমে আসা হাদিস। তাই এই পাঠ থেকে দুটি বিষয় বোঝা যায়। প্রথমত, তারাবিহ নামাজ ঈমান ও সওয়াবের আশায় আদায় করার বড় ফজিলত রয়েছে। দ্বিতীয়ত, হাদিসের বক্তব্য গ্রহণের পাশাপাশি বর্ণনাসূত্রের শুদ্ধতাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। ব্যাখ্যার সময় তাই মূল সুসংবাদের সঙ্গে বর্ণনাকারীর এই সতর্ক মন্তব্যও বাদ দেওয়া ঠিক হবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের রাতের সালাত ঈমান ও সওয়াবের আশায় আদায় করা উচিত।
- তারাবিহর ফজিলত বর্ণনায় ক্ষমার বড় আশা দেওয়া হয়েছে।
- হাদিসের সনদ বা বর্ণনাসূত্র যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
- এই বর্ণনায় আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রকে সঠিক বলা হয়েছে।
