২২/৪০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২০৭ - রমজানের রাত ও কদরের রাতে গুনাহ মাফ
এ হাদীস বর্ণনায় ইয়াহইয়া ইবনু আবু কাসীর ও নাফ্র ইবনু শায়বান (রহিমাহুমাল্লাহ)-এর বর্ণনার পার্থক্য
কিয়ামে রমজান ও কদরের রাত: ঈমানসহ ইবাদতের ফজিলত
সুনানে আন-নাসায়ী : ২২০৭
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২২০৭
أَخْبَرَنِي مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مَرْوَانَ، أَنْبَأَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلَّامٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَامَ شَهْرَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের নিয়তে তারাবীহের সালাত আদায় করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে জাগ্রত থাকে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিস রমজানের রাতের ইবাদতকে দুই ভাগে তুলে ধরে। একদিকে আছে পুরো রমজান মাসে তারাবিহ বা রাতের সালাত, অন্যদিকে আছে লাইলাতুল কদরের বিশেষ রাত। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উভয় ক্ষেত্রেই ঈমান ও সওয়াবের নিয়তের কথা বলেছেন। অর্থাৎ ইবাদতটি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস থেকে হবে এবং প্রতিদানও তাঁর কাছেই আশা করতে হবে। এমনভাবে তারাবিহ আদায় ও কদরের রাতে জাগরণ করলে আগের গুনাহ ক্ষমার সুসংবাদ রয়েছে। হাদিসটি মুসলিমকে শুধু একটি রাতের অপেক্ষায় না থেকে পুরো রমজানজুড়ে রাতের সালাতে যত্ন নিতে শেখায়। আবার কদরের রাত এলে বাড়তি মনোযোগের কথাও বোঝায়। নিয়মিততা ও বিশেষ সুযোগ—দুই দিক একসঙ্গে ধরে রাখাই এই বর্ণনার সহজ শিক্ষা। এই দিকটি আমলকে আরও সচেতন ও অর্থপূর্ণ করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পুরো রমজানজুড়ে রাতের সালাতে যত্ন নেওয়া উচিত।
- কদরের রাত বিশেষভাবে ইবাদতে কাটানো দরকার।
- ইবাদতের ভিত্তি হবে ঈমান ও আল্লাহর সওয়াবের আশা।
- আন্তরিক রাতের ইবাদত আগের গুনাহ ক্ষমার কারণ হতে পারে।
