২২/৬৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৩২৩ - রমজান ও কাজা ছাড়া নফল রোজার বিধান
সিয়ামের নিয়্যাত এবং এ প্রসঙ্গে ‘আয়িশাহ্ সিদ্দীক্বা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসে ত্বলহাহ্ ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনায় ভিন্নতার উল্লেখ।
নফল রোজা ভাঙার নিয়ম: রমজান ও কাজা রোজা থেকে পার্থক্য
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৩২৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৩২৩
خْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ، أَنْبَأَنَا شَرِيكٌ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: دَارَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَوْرَةً، قَالَ: «أَعِنْدَكِ شَيْءٌ؟»، قَالَتْ: لَيْسَ عِنْدِي شَيْءٌ، قَالَ: «فَأَنَا صَائِمٌ»، قَالَتْ: ثُمَّ دَارَ عَلَيَّ الثَّانِيَةَ، وَقَدْ أُهْدِيَ لَنَا حَيْسٌ، فَجِئْتُ بِهِ، فَأَكَلَ فَعَجِبْتُ مِنْهُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، دَخَلْتَ عَلَيَّ وَأَنْتَ صَائِمٌ، ثُمَّ أَكَلْتَ حَيْسًا، قَالَ: «نَعَمْ يَا عَائِشَةُ، إِنَّمَا مَنْزِلَةُ مَنْ صَامَ فِي غَيْرِ رَمَضَانَ، أَوْ غَيْرِ قَضَاءِ رَمَضَانَ، أَوْ فِي التَّطَوُّعِ بِمَنْزِلَةِ رَجُلٍ أَخْرَجَ صَدَقَةَ مَالِهِ فَجَادَ مِنْهَا بِمَا شَاءَ فَأَمْضَاهُ، وَبَخِلَ مِنْهَا بِمَا بَقِيَ فَأَمْسَكَهُ»
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার আমার কাছে এসে বললেন, তোমার কাছে কি খাওয়ার কিছু আছে? আমি বললাম, আমার কাছে তো কিছুই নেই। তিনি (ﷺ) বললেন, তা হলে আমি সাওমের নিয়ত করে নিলাম। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার আমার কাছে এলেন, তখন আমাকে কিছু হায়স উপহার দেয়া হয়েছিল। আমি তা তাঁকে দিলাম। তিনি তা খেলেন।আমি তাতে অবাক হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি [একবার] সাওম পালনরত অবস্থায় আমার কাছে এলেন এরপর হায়স খেয়ে ফেললেন। তিনি (ﷺ) বললেন, হে 'আয়িশাহ্! হ্যাঁ, যে ব্যক্তি রমাযানের সাওম বা তার ক্বাযা ছাড়া নফল সাওম পালন করে তার দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে স্বীয় মাল দান করার জন্য বের করে তা থেকে যা ইচ্ছা দান করল আর যা ইচ্ছা কৃপণতাবশত রেখে দিল।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৩২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আয়িশা (রা.) জানান, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم খাবার না পেয়ে সাওমের নিয়ত করেছিলেন। পরে হায়স উপহার এলে তিনি তা খেলেন। আয়িশা (রা.) অবাক হলে তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। এখানে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, রমজানের রোজা বা রমজানের কাজা ছাড়া যে নফল সাওম পালন করা হয়, তার অবস্থা স্বেচ্ছায় দানের জন্য সম্পদ বের করার মতো। মানুষ চাইলে সেই সম্পদের কিছু দান করে, আবার কিছু রেখে দেয়। হাদিসটির মূল শব্দগুলো নফল রোজার বিধানকে ফরজ রোজা ও কাজা রোজা থেকে আলাদা করে। তাই এই ঘটনাকে সব ধরনের রোজার জন্য একই নিয়ম হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না। সহজভাবে বললে, বর্ণনাটি নফল সাওম শুরু করার পর তা চালিয়ে যাওয়া বা খাবার গ্রহণ করার সুযোগের কথা জানায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নফল রোজা, রমজানের রোজা ও কাজা রোজা এক বিষয় নয়।
- খাবার না থাকলে নফল সাওমের নিয়ত করার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
- পরে খাবার এলে নফল সাওম ভাঙার ঘটনাও এসেছে।
- নফল রোজার সুযোগকে স্বেচ্ছায় দানের উদাহরণে বোঝানো হয়েছে।
