২২/৭১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৩৭৫ - অবিরাম সাওম থেকে বিরত থাকার শিক্ষা
এ বিষয়ে ‘আত্বা (রহিমাহুল্লাহ)-এর রিওয়ায়াতে ইখতিলাফ
জীবনভর অবিরাম সাওম কেন নববী পদ্ধতি নয়
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৩৭৫
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৩৭৫
أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي وَعُقْبَةُ، عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَطَاءٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَنْ، سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَامَ الْأَبَدَ فَلَا صَامَ»
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
'আত্বা (রহঃ) এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যিনি ইবনু 'উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেন: যে ব্যক্তি জীবনভর সাওম পালন করে তার পালন হবে না।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৩৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবন উমর (রাঃ)-এর মাধ্যমে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য এসেছে: যে ব্যক্তি জীবনভর সাওম পালন করে, সে সাওম পালন করেনি। বক্তব্যটি একই ধরনের বিরতিহীন আমলের বিরুদ্ধে সতর্ক করে। হাদিসে কোনো ব্যক্তির নিয়ত বিচার করা হয়নি, আবার সাধারণ নফল সাওমও নিষেধ করা হয়নি। নির্দিষ্ট আলোচ্য বিষয় হলো সারাজীবন বিরতি না দিয়ে রোজা রাখা। তাই ব্যাখ্যায় এটিকে সব নফল রোজার বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। বরং শেখার বিষয় হলো, ইবাদত করতে গিয়ে এমন পথ নেওয়া ঠিক নয় যা নবীজি (صلى الله عليه وسلم) প্রশংসা করেননি। এই পাঠে কত দিন সাওম রাখা উত্তম বা কীভাবে বিরতি দিতে হবে, তা বলা নেই। ফলে সরাসরি শিক্ষা হলো—বিরতিহীন জীবনব্যাপী সাওমকে সফল ইবাদত মনে না করা এবং নববী নির্দেশের সীমা মানা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদিসটি জীবনভর বিরতিহীন সাওমকে নিরুৎসাহিত করে।
- সাধারণ নফল সাওম ও অবিরাম সাওমকে এক করে দেখা উচিত নয়।
- ইবাদতের পদ্ধতিতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ অনুসরণ জরুরি।
