২৪/৭৭. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৮০৫ - তামাত্তু হজ্জের স্থায়ী শিক্ষা

যে ব্যক্তি ‘হাদয়ি’ সাথে নেয়নি তার জন্য হাজ্জ ভঙ্গ করে ‘উমরার বৈধতা

তামাত্তু হজ্জের হাদিস: উমরা, হাদয় ও স্থায়ী বিধান

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৮০৫

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: أَهْلَلْنَا أَصْحَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحَجِّ خَالِصًا لَيْسَ مَعَهُ غَيْرُهُ خَالِصًا وَحْدَهُ، فَقَدِمْنَا مَكَّةَ صَبِيحَةَ رَابِعَةٍ، مَضَتْ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ، فَأَمَرَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «أَحِلُّوا، وَاجْعَلُوهَا عُمْرَةً» فَبَلَغَهُ عَنَّا أَنَّا نَقُولُ: لَمَّا لَمْ يَكُنْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ عَرَفَةَ إِلَّا خَمْسٌ، أَمَرَنَا أَنْ نَحِلَّ فَنَرُوحَ إِلَى مِنًى، وَمَذَاكِيرُنَا تَقْطُرُ مِنَ الْمَنِيِّ، فَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَخَطَبَنَا، فَقَالَ: «فَقَدْ بَلَغَنِي الَّذِي قُلْتُمْ، وَإِنِّي لَأَبَرُّكُمْ وَأَتْقَاكُمْ، وَلَوْلَا الْهَدْيُ لَحَلَلْتُ، وَلَوِ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي، مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا أَهْدَيْتُ» قَالَ: وَقَدِمَ عَلِيٌّ مِنَ الْيَمَنِ فَقَالَ: «بِمَا أَهْلَلْتَ؟» قَالَ بِمَا أَهَلَّ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «فَأَهْدِ، وَامْكُثْ حَرَامًا كَمَا أَنْتَ قَالَ» وَقَالَ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ عُمْرَتَنَا هَذِهِ لِعَامِنَا هَذَا أَوْ لِلْأَبَدِ؟ قَالَ: «هِيَ لِلْأَبَدِ»

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা নবী (ﷺ)-এর সাহাবীগণ শুধু হজ্জের ইহ্‌রাম করেছিলাম। অন্য কোনো কিছুর নিয়্যাত ছিল না। যিলহাজ্জ মাসের চতুর্থ তারিখ ভোরে আমরা মক্কায় পৌঁছলাম। নবী (ﷺ) আমাদেরকে আদেশ করলেন: তোমরা হালাল হয়ে যাও, আর 'উমরাহ্ করে নাও। [অর্থাৎ হজ্জের নিয়্যাতের ইহরামকে 'উমরার নিয়্যাতে পরিবর্তিত করে ফেল। আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর নিকট এ খবর পৌঁছলো যে, আমাদেরও 'আরাফার [উকুফের] মধ্যে মাত্র পাঁচ দিন বাকী থাকতে কি তিনি। (ﷺ) হালাল হতে আদেশ করলেন? তাহলে কি আমরা এভাবে মিনায় উপস্থিত হবো, আর আমাদের পুরুষাঙ্গগুলো দিয়ে বীর্য নির্গত করাব?নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে আমাদেরকে বললেন : তোমরা যা বলেছ তা আমার নিকট পৌঁছেছে। নিশ্চয় আমি তোমাদের মধ্যে অধিক সৎকর্মশীল এবং আল্লাহকে অধিক ভয় করি। যদি আমার সঙ্গে হাদিয় না থাকতো, তাহলে আমি অবশ্যই হালাল হয়ে যেতাম। আমি পরে যা বুঝতে পেরেছি, তা যদি আগেই বুঝতাম, তাহলে হাদিয় সাথে আনতাম না।বর্ণনাকারী বলেন : ইত্যবসরে 'আলী (রাঃ) ইয়ামান থেকে আগমন করে উট বেঁধেছেন মাত্র। তিনি বললেন: হে 'আলী! তুমি কোন প্রকার ইহরাম বেঁধেছ? 'আলী (রাঃ) বললেন, নবী (ﷺ)-এর ইহরামের অনুরূপ। তিনি (ﷺ) বললেন : তাহলে হাদিয় প্রেরণ কর এবং ইহরাম অবস্থায় যেভাবে আছ সেভাবেই থাক। বর্ণনাকারী বলেন: সুরাক্বাহ্ ইবনু মালিক ইবনু জু'শুম (রাঃ) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি বলেন, আমাদের এ 'উমরাহ্ কি এ বছরের জন্যই, না সর্বকালের জন্য? তিনি (ﷺ) বললেন : সর্বকালের জন্য।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৮০৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে তামাত্তু হজ্জের বড় একটি ঘটনা এসেছে। সাহাবীগণ শুধু হজ্জের ইহরাম করেছিলেন। মক্কায় পৌঁছার পর নবী (صلى الله عليه وسلم) তাদের বলেন, হালাল হয়ে যাও এবং এটিকে উমরা করে নাও। কিছু সাহাবী বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলেন, কারণ আরাফার দিন কাছাকাছি ছিল। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) জানালেন, তাঁর সাথে হাদয় না থাকলে তিনিও হালাল হয়ে যেতেন। আলী (রাঃ) ইয়ামান থেকে এসে জানান, তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর মতো ইহরাম করেছেন। তাকে হাদয় দিতে এবং ইহরামে থাকতে বলা হয়। শেষে সুরাকা (রাঃ) প্রশ্ন করেন, এই উমরা কি শুধু ওই বছরের জন্য, না সর্বকালের জন্য। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, সর্বকালের জন্য। তামাত্তু হজ্জের হাদিসে নিয়ম, প্রশ্ন এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ব্যাখ্যা একসাথে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • হাদয় না থাকলে হজ্জের ইহরামকে উমরায় রূপান্তরের নির্দেশ এসেছে।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের প্রশ্ন শুনে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
  • সুরাকা (রাঃ)-এর প্রশ্নের উত্তরে এই উমরার বিধান স্থায়ী বলা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন