১/১৭৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৮২ - হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীর সাথে স্বাভাবিক আচরণ
ঋতুমতির ভুক্তাবশেষ খাওয়া
হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীর সাথে স্বাভাবিক আচরণ: পানীয় ও খাবার ভাগ করার শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৮২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৮২
أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ قَالَ: حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ وَسُفْيَانُ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: «كُنْتُ أَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ وَأُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ , فَيَشْرَبُ وَأَتَعَرَّقُ الْعَرْقَ وَأَنَا حَائِضٌ، وَأُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِي»
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি হায়য অবস্থায় পাত্র হতে পান করতাম এবং তা নাবী (ﷺ)-কে দিতাম। আমি যেখানে মুখ রেখে পান করতাম তিনি সেখানে মুখ রেখে পান করতেন। আমি হায়য অবস্থায় হাড় চিবাতাম, তারপর তা নাবী (ﷺ)-কে দিতাম আর তিনি আমার মুখ রাখার জায়গায় মুখ রাখতেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি হায়েজ অবস্থায় পাত্র থেকে পান করতেন, এরপর নবী صلى الله عليه وسلم একই জায়গায় মুখ রেখে পান করতেন। তিনি হাড় চিবাতেন, তারপর নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর মুখ রাখার জায়গাতেই মুখ রাখতেন। এ কথা থেকে বোঝা যায়, ঋতুমতী নারীকে অশুচি মানুষ হিসেবে দেখা ইসলামের শিক্ষা নয়। হায়েজ একটি স্বাভাবিক অবস্থা, তবে এর কিছু নির্দিষ্ট বিধান আছে। এই হাদিসে দাম্পত্য ভালোবাসা, সহজ ব্যবহার এবং ভুল ধারণা দূর করার সুন্দর শিক্ষা আছে। নবী صلى الله عليه وسلم এমনভাবে আচরণ করেছেন যাতে ঘরের মানুষ বুঝতে পারে—হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীকে অবহেলা করা নয়, বরং পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে সম্মান ও মমতা দেওয়া উচিত। এটি হায়েজের বিধান সম্পর্কিত খুব গুরুত্বপূর্ণ হাদিস।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে খাবার ও পানীয় ভাগ করা নিষিদ্ধ নয়।
- ঋতুমতী নারীকে অপমান বা দূরে রাখা এই হাদিসের শিক্ষার সঙ্গে যায় না।
- দাম্পত্য সম্পর্কে ভালোবাসা ছোট ছোট আচরণের মাধ্যমেও প্রকাশ পায়।
- হায়েজের বিধান মানার সঙ্গে স্বাভাবিক পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখা যায়।
