২৪/১৮১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৯৮৫ - সাফা-মারওয়ায় তাওহীদ, তাকবীর ও সাঈ
মারওয়ার উপর তাকবীর বলা
সাফা-মারওয়ার দোয়া ও সাঈ: তাওহীদ থেকে দ্রুত চলা পর্যন্ত
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৯৮৫
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৯৮৫
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ، قَالَ: أَنْبَأَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ " أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَهَبَ إِلَى الصَّفَا فَرَقِيَ عَلَيْهَا حَتَّى بَدَا لَهُ الْبَيْتُ، ثُمَّ وَحَّدَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ، وَكَبَّرَ، وَقَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ، عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، ثُمَّ مَشَى حَتَّى إِذَا انْصَبَّتْ قَدَمَاهُ، سَعَى حَتَّى إِذَا صَعِدَتْ قَدَمَاهُ مَشَى حَتَّى أَتَى الْمَرْوَةَ فَفَعَلَ عَلَيْهَا كَمَا فَعَلَ عَلَى الصَّفَا حَتَّى قَضَى طَوَافَهُ»
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফায় গিয়ে অবস্থান করলেন। বায়তুল্লাহ তাঁর দৃষ্টিগোচর হলো। তখন তিনি (ﷺ) মহান ও মহীয়ান আল্লাহর তাওহীদ বর্ণনা করলেন এবং তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করলেন।তিনি (ﷺ) বললেন: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ، عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ “লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহ্ লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইউয়ী ওয়া ইউমীতু, ওয়াহুওয়া 'আলা- কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর" [আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোন শারীক নেই, রাজত্ব কেবল তাঁরই, প্রশংসাও শুধুই তাঁর জন্য, তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।এরপর তিনি (ﷺ) চলতে লাগলেন। যখন তাঁর পদদ্বয় উপত্যকায় নামলো তখন সা'ঈ করলেন। উপত্যকা থেকে উপরে উঠে এলে তিনি (ﷺ) হেঁটে মারওয়ায় পৌঁছলেন। এখানেও তাই করলেন, যা তিনি (ﷺ) সফায় করেছিলেন। এভাবে তাঁর তাওয়াফ শেষ করেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৯৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাফা-মারওয়ার সাঈর কয়েকটি বিষয় একসাথে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাফায় গিয়ে দাঁড়ালেন এবং বায়তুল্লাহ তাঁর দৃষ্টিগোচর হলো। এরপর তিনি আল্লাহর তাওহীদ বর্ণনা করলেন, তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করলেন এবং দোয়ার বাক্য বললেন। তারপর তিনি চলতে লাগলেন। যখন তাঁর পদদ্বয় উপত্যকায় নামল, তখন তিনি সাঈ করলেন। উপত্যকা থেকে উঠলে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটলেন এবং মারওয়ায় পৌঁছে সাফার মতোই আমল করলেন। যারা সাফা মারওয়া সাঈ করার নিয়ম, সাফা মারওয়ার দোয়া বা হজ্জের সাঈর পদ্ধতি জানতে চান, তাদের জন্য এই হাদিসটি খুব পরিষ্কার। এতে হাঁটা, দ্রুত চলা, তাওহীদ, তাকবীর এবং দোয়ার ধারাবাহিকতা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাফায় দাঁড়িয়ে তাওহীদ ও তাকবীরের আমল বর্ণিত হয়েছে।
- উপত্যকায় দ্রুত চলা এবং উপরে উঠলে হাঁটার কথা এসেছে।
- মারওয়ায়ও সাফার মতো আমল করেছেন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)।
- সাঈর মধ্যে দোয়া ও আল্লাহর স্মরণ গুরুত্বপূর্ণভাবে এসেছে।
