সন্তানের পিতৃপরিচয়ের নিয়ম
মোট হাদিস ৩৮
সন্তানের পিতৃপরিচয়ের নিয়ম ও পিতৃত্বের অধিকার নিয়ে হাদিস
সন্তানের পিতৃপরিচয়ের নিয়ম সম্পর্কে ইসলামে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে জানা যায়, এক ব্যক্তির স্ত্রীর গর্ভে একটি কালো রঙের সন্তান জন্ম নিলে তিনি সেই সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করতে চেয়েছিলেন। মহানবী (সাঃ) উটের গায়ের রঙের উদাহরণ দিয়ে তাকে বোঝান যে, যেমন লাল রঙের উটের পালে কোনো পূর্ববর্তী বংশধারার প্রভাবে ধূসর বা মিশ্র রঙের উট জন্মাতে পারে, ঠিক তেমনি মানুষের ক্ষেত্রেও জিন বা ঊর্ধ্বতন কোনো পুরুষের প্রভাবে সন্তানের গায়ের রঙ ভিন্ন হতে পারে। ইসলামিক স্কলারদের মতে, এই যুক্তি দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ওই ব্যক্তিকে নিজের সন্তান অস্বীকার করার অবকাশ দেননি। হাদিসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো, বিছানায় অর্থাৎ বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কে জন্ম নেওয়া সন্তানকে কোনো চাক্ষুষ প্রমাণ বা নিশ্চিত কারণ ছাড়া কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না।
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ سَلْمٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي الذَّيَّالِ - حَدَّثَنِي بَعْضُ، أَصْحَابِنَا عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لاَ مُسَاعَاةَ فِي الإِسْلاَمِ مَنْ سَاعَى فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَدْ لَحِقَ بِعَصَبَتِهِ وَمَنِ ادَّعَى وَلَدًا مِنْ غَيْرِ رِشْدَةٍ فَلاَ يَرِثُ وَلاَ يُورَثُ " .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইসলামে ব্যভিচারের সুযোগ নাই। যারা জাহিলিয়াতের যুগে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে এবং এর ফলে যে সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে, ঐ সন্তান যেনাকারীর সাথে সম্পৃক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি যেনার সন্তানকে নিজের সন্তান বলে দাবী করবে, সে তার ওয়ারিস হবে না এবং উক্ত সন্তানও তার ওয়ারিস হবে না।
[২২৬৪] আহমাদ, বায়হাক্বী, হাকিম। আহমাদ শাকির বলেন : এর সানাদ দুর্বল। সাঈদ ইবনু জুবাইর সূত্রে বর্ণনাকারী সন্দেহভাজন হওয়ার কারণে। ইমাম হাকিম বলেন : বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ। কিন্তু ইমাম যাহাবী বলেন : আমি বলি, সম্ভবত হাদীসটি মাওযু (বানোয়াট), কেননা ইবনু খুসাইফকে হাদীস বিশারদগণ বর্জন করেছেন। তিনি সেই ব্যক্তি যিনি মু’তামার থেকে বর্ণনা করেছেন হাকিম বর্ণিত সানাদে। শায়খ আলবানী বলেন : সানাদে সাল্ম ও সাঈদের মাঝখানের শায়খের জাহালাতের কারণে এর সানাদ দুর্বল। এটিকেই ইঙ্গিত করেছেন আল্লামা মুনযিরী। তিনি বলেন : এর সানাদে একজন অজ্ঞাত লোক রয়েছে।
يَحْيٰى بْنُ قَزَعَةَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلاً أَتٰى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ وُلِدَ لِي غُلاَمٌ أَسْوَدُ فَقَالَ هَلْ لَكَ مِنْ إِبِلٍ قَالَ نَعَمْ قَالَ مَا أَلْوَانُهَا قَالَ حُمْرٌ قَالَ هَلْ فِيهَا مِنْ أَوْرَقَ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَأَنّٰى ذ‘لِكَ قَالَ لَعَلَّه“ نَزَعَه“ عِرْقٌ قَالَ فَلَعَلَّ ابْنَكَ هٰذَا نَزَعَهُ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)- এর কাছে বললঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার একটি কালো সন্তান জন্মেছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কিছু উট আছে কি? সে জবাব দিল হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ সেগুলোর রং কেমন? সে বললঃ লাল। তিনি বললেনঃ সেগুলোর মধ্যে কোনটি ছাই বর্ণের আছে কি? সে বললঃ হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তাহলে সেটিতে এমন রং কোত্থেকে এলো। লোকটি বললঃ সম্ভবত পূর্ববর্তী বংশের কারণে এমন হয়েছে। তিনি বললেনঃ তাহলে হতে পারে, তোমার এ সন্তানও বংশগত কারণে এমন হয়েছে।
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ مِنْ بَنِي فَزَارَةَ فَقَالَ إِنَّ امْرَأَتِي جَاءَتْ بِوَلَدٍ أَسْوَدَ فَقَالَ " هَلْ لَكَ مِنْ إِبِلٍ " . قَالَ نَعَمْ. قَالَ " مَا أَلْوَانُهَا " . قَالَ حُمْرٌ قَالَ " فَهَلْ فِيهَا مِنْ أَوْرَقَ " . قَالَ إِنَّ فِيهَا لَوُرْقًا. قَالَ " فَأَنَّى تُرَاهُ " . قَالَ عَسَى أَنْ يَكُونَ نَزَعَهُ عِرْقٌ. قَالَ " وَهَذَا عَسَى أَنْ يَكُونَ نَزَعَهُ عِرْقٌ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বনু ফাযারাহ্র জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বললো, আমার স্ত্রী একটি কালো সন্তান জন্ম দিয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কাছে কিছু উট আছে? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ সেগুলো কোন বর্ণের? সে বললো, লাল। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেনঃ সেগুলোর মধ্যে ছাই বর্ণেরও উটও তো আছে? সে বললো, হ্যাঁ সেগুলোর মধ্যে ছাই বর্ণেরও আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ আচ্ছা এ রং কোথা থেকে এলো বলোতো? লোকটি বললো, সম্ভবত বংশগত কারণে। তিনি বললেনঃ তোমার এ বাচ্চার বর্ণে পূর্বপুরুষের কারো বর্ণের প্রভাব পড়েছে।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا، أَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ إِنَّ امْرَأَتِي وَلَدَتْ غُلاَمًا أَسْوَدَ وَإِنِّي أُنْكِرُهُ. فَذَكَرَ مَعْنَاهُ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা নবী (ﷺ) এর নিকট এক বেদুইন এসে বললো, আমার স্ত্রী একটি কালো সন্তান প্রসব করেছে, আমি তা অস্বীকার করি। বর্ণনাকারী পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থে বর্ণনা করেন।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ حِينَ نَزَلَتْ آيَةُ الْمُتَلاَعِنَيْنِ " أَيُّمَا امْرَأَةٍ أَدْخَلَتْ عَلَى قَوْمٍ مَنْ لَيْسَ مِنْهُمْ فَلَيْسَتْ مِنَ اللَّهِ فِي شَىْءٍ وَلَنْ يُدْخِلَهَا اللَّهُ جَنَّتَهُ وَأَيُّمَا رَجُلٍ جَحَدَ وَلَدَهُ وَهُوَ يَنْظُرُ إِلَيْهِ احْتَجَبَ اللَّهُ مِنْهُ وَفَضَحَهُ عَلَى رُءُوسِ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
লি’আনের আয়াত অবতীর্ণ হলে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেনঃ যে মহিলা কোন বংশের মধ্যে (এমন সন্তান) প্রবেশ করালো যার সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই সে মহিলা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হবে এবং আল্লাহ তাকে কখনো জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। আর যে পুরুষ নিজ সন্তানকে অস্বীকার করে, অথচ বাচ্চা তার মমতার আকাঙ্ক্ষা করে, মহান আল্লাহও তার থেকে আড়ালে থাকবেন। এবং কিয়ামতের দিন পূর্বাপর সমল মানুষের সামনে তাকে অপমানিত করবেন।
[২২৬৩] নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, দারিমী, বায়হাক্বী, হাকিম। শায়খ আলবানী বলেন: ‘তার অবস্থা অজ্ঞাত (মাজহুলুল হাল)’। তবে হাদীসের দ্বিতীয় অংশটি সহীহ, এর মজবুত শাহেদ দ্বারা।
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَجُلًا مِنْ بَنِي فَزَارَةَ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: إِنَّ امْرَأَتِي وَلَدَتْ غُلَامًا أَسْوَدَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلْ لَكَ مِنْ إِبِلٍ؟» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «فَمَا أَلْوَانُهَا؟» قَالَ: حُمْرٌ، قَالَ: «فَهَلْ فِيهَا مِنْ أَوْرَقَ؟» قَالَ: إِنَّ فِيهَا لَوُرْقًا، قَالَ: «فَأَنَّى تَرَى أَتَى ذَلِكَ؟» قَالَ: عَسَى أَنْ يَكُونَ نَزَعَهُ عِرْقٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَهَذَا عَسَى أَنْ يَكُونَ نَزَعَهُ عِرْقٌ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ফাযারাহ্ গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল: আমার স্ত্রী একটি কালো সন্তান প্রসব করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তোমার কি উট আছে? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি (ﷺ) বললেন: সেগুলোর কী রঙের? সে বলল: লাল রঙের। তিনি (ﷺ) বললেন: সেগুলোর মধ্যে কি মিশ্র বর্ণের কোনো উট আছে? সে বলল: হ্যাঁ, তাতে মিশ্র উট রয়েছে। তিনি (ﷺ) বললেন: সেগুলো কোথা থেকে আসলো। সে বলল: সম্ভবত কোনো পূর্ববর্তী কোনো বংশধারার কারণে হয়েছে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : এই সন্তানও হয়তো ঊর্ধ্বতন কোনো পুরুষের প্রভাবে হয়ে থাকবে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَزِيعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي فَزَارَةَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: إِنَّ امْرَأَتِي وَلَدَتْ غُلَامًا أَسْوَدَ وَهُوَ يُرِيدُ الِانْتِفَاءَ مِنْهُ، فَقَالَ: «هَلْ لَكَ مِنْ إِبِلٍ؟» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «مَا أَلْوَانُهَا؟» قَالَ: حُمْرٌ، قَالَ: «هَلْ فِيهَا مِنْ أَوْرَقَ؟» قَالَ: فِيهَا ذَوْدُ وُرْقٍ، قَالَ: «فَمَا ذَاكَ تُرَى؟» قَالَ: لَعَلَّهُ أَنْ يَكُونَ نَزَعَهَا عِرْقٌ، قَالَ: «فَلَعَلَّ هَذَا أَنْ يَكُونَ نَزَعَهُ عِرْقٌ». قَالَ: فَلَمْ يُرَخِّصْ لَهُ فِي الِانْتِفَاءِ مِنْهُ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ফাযারাহ্ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি নাবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন: আমার স্ত্রী এক কালো সন্তান প্রসব করেছে। আর সে ঐ সন্তান অস্বীকার করতে চাচ্ছিল। তিনি (ﷺ) বললেন: তোমার কি উট আছে? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি (ﷺ) বললেন: সেগুলোর রং কি? সে বলল: লাল। তিনি (ﷺ) বললেন: দেখ সেগুলোর মধ্যে কালোর সাথে অন্য বর্ণ মিশ্রিত উট আছে কি? সে বলল: হ্যাঁ, সেগুলোর মধ্যে কালচে উট আছে। তিনি (ﷺ) বললেন: তবে তুমি কী বল [মিশ্রিত উট কোথা হতে আসলো? সে বলল: তা হয়তো কোনো পূর্ব বংশধারার প্রভাবে হয়ে থাকবে। তিনি (ﷺ) বললেন হয়তো কোনো ঊর্ধ্বতন পুরুষের প্রভাবে হয়ে থাকবে। এর দ্বারা তিনি (ﷺ) ঐ ব্যক্তিকে সন্তান অস্বীকার করার অবকাশ দিলেন না।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو حَيْوَةَ حِمْصِيٌّ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي وُلِدَ لِي غُلَامٌ أَسْوَدُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَأَنَّى كَانَ ذَلِكَ؟» قَالَ: مَا أَدْرِي، قَالَ: «فَهَلْ لَكَ مِنْ إِبِلٍ؟» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «فَمَا أَلْوَانُهَا؟» قَالَ: حُمْرٌ، قَالَ: «فَهَلْ فِيهَا جَمَلٌ أَوْرَقُ؟» قَالَ: فِيهَا إِبِلٌ وُرْقٌ، قَالَ: «فَأَنَّى كَانَ ذَلِكَ» قَالَ: مَا أَدْرِي يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ نَزَعَهُ عِرْقٌ، قَالَ: «وَهَذَا لَعَلَّهُ نَزَعَهُ عِرْقٌ»، فَمِنْ أَجْلِهِ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، هَذَا لَا يَجُوزُ لِرَجُلٍ أَنْ يَنْتَفِيَ مِنْ وَلَدٍ وُلِدَ عَلَى فِرَاشِهِ، إِلَّا أَنْ يَزْعُمَ أَنَّهُ رَأَى فَاحِشَةً
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
[একদিন] আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ছিলাম। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল : হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার একটি কালো সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : এটা কোত্থেকে এলো? সে বলল : আমি জানি না। তিনি (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন : তোমার উট আছে কি? সে বলল : হ্যাঁ। তিনি (ﷺ) বললেন : সেগুলোর রং কি? সে বলল : লাল। তিনি (ﷺ) বললেন : এগুলোর মধ্যে মিশ্র বর্ণের আছে কি? সে বলল : তার মধ্যে মিশ্র বর্ণের উটও আছে। তিনি (ﷺ) বললেন : ঐগুলো কোথা হতে এলো? সে বলল : বলতে পারি না, হে আল্লাহর রাসূল! হয়তো কোনো ঊর্ধ্বতন পুরুষের কারণে হয়ে থাকবে। তিনি (ﷺ) বললেন, কালো সন্তান এমন হতে পারে যে, এটাও ঊর্ধ্বতন পুরুষ প্রভাবে হতে এসেছে।বর্ণনাকারী বলেন : এজন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আদেশ করেছেন, যে সন্তান [স্বামীর] বিছানায় জন্ম নিয়েছে তাকে অস্বীকার করা উচিত নয়। যদি সে তাকে অশ্লীল কাজে লিপ্ত দেখে তা ভিন্ন কথা।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، قَالَ: شُعَيْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ حِينَ نَزَلَتْ آيَةُ الْمُلَاعَنَةِ: «أَيُّمَا امْرَأَةٍ أَدْخَلَتْ عَلَى قَوْمٍ رَجُلًا لَيْسَ مِنْهُمْ فَلَيْسَتْ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ، وَلَا يُدْخِلُهَا اللَّهُ جَنَّتَهُ، وَأَيُّمَا رَجُلٍ جَحَدَ وَلَدَهُ وَهُوَ يَنْظُرُ إِلَيْهِ، احْتَجَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنْهُ وَفَضَحَهُ عَلَى رُءُوسِ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে লি'আনের আয়াত নাযিল হওয়ার পর বলতে শুনেছেন : যে মহিলা এক গোত্রের মধ্যে অন্য গোত্রের পুরুষ [এর বীর্য] মিশ্রিত করে, সে গোত্রের নিকট নয়, বরং আল্লাহর নিকট তার কোনো প্রাপ্য নেই। আর আল্লাহ তা'আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। যে পুরুষ তার সন্তানকে অস্বীকার করে, অথচ সে তার সাথে সদৃশ লক্ষ্য করে, মহান ও মহীয়ান আল্লাহ তাঁর থেকে তাকে আড়াল করবেন এবং কিয়ামতের দিন পূর্বাপর সকল লোকের সামনে লাঞ্ছিত করবেন।
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، وَأَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নাবী (ﷺ) বলেছেন: সন্তান বিছানার মালিকের। আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর।
