মুহাম্মদ ﷺ-এর পরিবার

মোট হাদিস ৫৬

মুহাম্মদ ﷺ-এর পরিবার ও তাঁদের প্রতি নবীজির অফুরন্ত দয়া ও স্নেহের হাদিস

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পারিবারিক জীবন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত এই হাদিসগুলোতে বর্ণিত হয়েছে। ইসলামে পারিবারিক বন্ধন ও স্নেহের গুরুত্ব অপরিসীম, যা নবীজির বাস্তব জীবনে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। নিজের সন্তান ইব্রাহিমের প্রতি তাঁর অগাধ স্নেহ ছিল এবং সন্তানের অসুস্থতা ও মৃত্যুতে তাঁর চোখ অশ্রুসিক্ত হলেও তিনি আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি শিশুদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন এবং ধাত্রীর গৃহে গিয়েও সন্তানকে কোলে তুলে চুম্বন করতেন। এছাড়া, পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি চাচা আল-আব্বাস (রাঃ)-কে পিতৃসমতুল্য মর্যাদা দিয়েছেন। ইসলামী পণ্ডিতদের মতে, এই বর্ণনাগুলো আমাদের শেখায় কীভাবে পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল, দয়াশীল ও স্নেহপরায়ণ হতে হয়, যা প্রতিটি মুসলিমের জন্য একটি সর্বোত্তম আদর্শ।

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ زَنْجُويَهْ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، رضى الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ «حَسْبُكَ مِنْ نِسَاءِ الْعَالَمِينَ مَرْيَمُ ابْنَةُ عِمْرَانَ وَخَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ وَفَاطِمَةُ بِنْتُ مُحَمَّدٍ وَآسِيَةُ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ» . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ .

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নাবী (ﷺ) বলেনঃ সারা বিশ্বের নারীদের মধ্যে মারিয়াম বিনতু 'ইমরান, খাদীজাহ্‌ বিনতু খুয়াইলিদ, ফাতিমা বিনতু মুহাম্মাদ এবং ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়াহ্‌ তোমার জন্য যথেষ্ট।

আবু 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، رضى الله عنه قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَحَبُّ النَّاسِ إِلَيْكَ قَالَ «عَائِشَةُ» . قِيلَ مِنَ الرِّجَالِ قَالَ «أَبُوهَا» . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ أَنَسٍ .

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

বলা হল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! লোকের মাঝে কে আপনার সর্বাধিক প্রিয়? তিনি বললেন, 'আয়িশাহ্‌। পুনরায় প্রশ্ন করা হল, পুরুষদের মাঝে কে? তিনি বললেনঃ তাঁর পিতা।

আবু 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং আনাস (রাঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সনদে গারীব।

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ بَلَغَ صَفِيَّةَ أَنَّ حَفْصَةَ، قَالَتْ بِنْتُ يَهُودِيٍّ . فَبَكَتْ فَدَخَلَ عَلَيْهَا النَّبِيُّ ﷺ وَهِيَ تَبْكِي فَقَالَ «مَا يُبْكِيكِ». فَقَالَتْ قَالَتْ لِي حَفْصَةُ إِنِّي بِنْتُ يَهُودِيٍّ . فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنَّكِ لاَبْنَةُ نَبِيٍّ وَإِنَّ عَمَّكِ لَنَبِيٌّ وَإِنَّكِ لَتَحْتَ نَبِيٍّ فَفِيمَ تَفْخَرُ عَلَيْكِ». ثُمَّ قَالَ " اتَّقِي اللَّهَ يَا حَفْصَةُ».قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

সাফিয়্যাহ্‌ (রাঃ)-এর কানে পৌঁছে যে, হাফসাহ্‌ (রাঃ) তাঁকে ইয়াহূদীর মেয়ে বলে ঠাট্টা করেছেন। তাই তিনি কাঁদছিলেন। তাঁর ক্রন্দনরত অবস্থায় নবী (ﷺ) তাঁর ঘরে প্রবেশ করেন। তিনি বললেনঃ তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, হাফসাহ্‌ আমাকে ইয়াহূদীর মেয়ে বলে তিরস্কার করেছেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ অবশ্যই তুমি একজন নবীর কন্যা, তোমার চাচা অবশ্যই একজন নবী এবং তুমি একজন নবীর সহধর্মিণী। অতএব কিভাবে হাফসাহ্‌ তোমার উপরে অহংকার করতে পারে? তারপর তিনি বললেনঃ হে হাফসাহ্‌! আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর।

আবু 'ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رضى الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِغَيْرِ عِلْمٍ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ ‏"‏. قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সঠিক ইলম ব্যতীত কোরআন প্রসঙ্গে কোন কথা বলে, সে যেন জাহান্নামকে নিজের জন্য বাসস্থান বানিয়ে নিল।

আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِلْعَبَّاسِ " إِذَا كَانَ غَدَاةُ الاِثْنَيْنِ فَأْتِنِي أَنْتَ وَوَلَدُكَ حَتَّى أَدْعُوَ لَهُمْ بِدَعْوَةٍ يَنْفَعُكَ اللَّهُ بِهَا وَوَلَدَكَ " . فَغَدَا وَغَدَوْنَا مَعَهُ وَأَلْبَسَنَا كِسَاءً ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْعَبَّاسِ وَوَلَدِهِ مَغْفِرَةً ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً لاَ تُغَادِرُ ذَنْبًا اللَّهُمَّ احْفَظْهُ فِي وَلَدِهِ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল-‘আব্বাস (রাঃ)-কে বললেনঃ আগামী সোমবার প্রভাতে আপনি আমার কাছে আসবেন এবং আপনার সন্তানদেরকেও সাথে নিয়ে আসবেন। আপনার জন্য এবং আপনার সন্তানদের জন্য আমি একটি দোয়া করব, যার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা’আলা আপনাকেও উপকৃত করবেন এবং আপনার সন্তানদেরও। বলেন, প্রভাতে তিনি গেলেন এবং তাঁর সঙ্গে আমরাও গেলাম। তিনি আমাদের শরীরে একখানা চাদর জড়িয়ে দিলেন, তারপর বললেনঃ “হে আল্লাহ! আল-‘আব্বাস ও তাঁর সন্তানদের বাহির ও ভিতর উভয় দিক এমনভাবে ক্ষমা করে দিন যার পর তাঁদের আর কোন অপরাধ বাকি না থাকে। হে আল্লাহ! তাঁকে তাঁর সন্তানদের ব্যাপারে হিফাযাত করুন”।

আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারিব। এ হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদে অবগত হয়েছি।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، حَدَّثَنَا زَمْعَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ وَهْرَامَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَامِلَ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عَلَى عَاتِقِهِ فَقَالَ رَجُلٌ نِعْمَ الْمَرْكَبُ رَكِبْتَ يَا غُلاَمُ. فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " وَنِعْمَ الرَّاكِبُ هُوَ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ. وَزَمْعَةُ بْنُ صَالِحٍ قَدْ ضَعَّفَهُ بَعْضُ أَهْلِ الْحَدِيثِ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা আলীর ছেলে হাসানকে স্বীয় কাঁধে বহন করছিলেন। এক লোক বলেন, হে বালক! কতই না উত্তম বাহনে তুমি আরোহণ করেছ! (তার মন্তব্য শুনে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সে কতই না উত্তম আরোহী।

আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু আলোচ্য সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। হাদীসের কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম যাম্‌আ ইবনু সালিহ্‌কে তার স্মৃতিশক্তির কারণে যঈফ বলেছেন।

حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، سُلَيْمَانُ بْنُ الأَشْعَثِ قَالَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ النَّوْفَلِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ‏ "‏ أَحِبُّوا اللَّهَ لِمَا يَغْذُوكُمْ مِنْ نِعَمِهِ وَأَحِبُّونِي بِحُبِّ اللَّهِ وَأَحِبُّوا أَهْلَ بَيْتِي لِحُبِّي ‏"‏ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহ্‌ তা‘আলাকে মহব্বত কর। কেননা তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিয়ামতরাজি খাবার খাওয়াচ্ছেন। আর আল্লাহ্‌ তা‘আলার মহব্বতে তোমরা আমাকেও মহব্বত এবং আমার মহব্বতে আমার আহ্‌লে বাইতকেও মহব্বত কর।

আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি।

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " الْعَبَّاسُ عَمُّ رَسُولِ اللَّهِ وَإِنَّ عَمَّ الرَّجُلِ صِنْوُ أَبِيهِ أَوْ مِنْ صِنْوِ أَبِيهِ " . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي الزِّنَادِ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ.

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল-‘আব্বাস হলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চাচা। আর চাচা হল পিতৃ সমতুল্য।

আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এ হাদীস আমরা শুধু আবুয্ যিনাদের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে উপর্যুক্তভাবে অবগত হয়েছি।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ مَيْسَرَةَ بْنِ حَبِيبٍ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَشْبَهَ سَمْتًا وَدَلاًّ وَهَدْيًا بِرَسُولِ اللَّهِ فِي قِيَامِهَا وَقُعُودِهَا مِنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ.قَالَتْ وَكَانَتْ إِذَا دَخَلَتْ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ قَامَ إِلَيْهَا فَقَبَّلَهَا وَأَجْلَسَهَا فِي مَجْلِسِهِ وَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا دَخَلَ عَلَيْهَا قَامَتْ مِنْ مَجْلِسِهَا فَقَبَّلَتْهُ وَأَجْلَسَتْهُ فِي مَجْلِسِهَا فَلَمَّا مَرِضَ النَّبِيُّ ﷺ دَخَلَتْ فَاطِمَةُ فَأَكَبَّتْ عَلَيْهِ فَقَبَّلَتْهُ ثُمَّ رَفَعَتْ رَأْسَهَا فَبَكَتْ ثُمَّ أَكَبَّتْ عَلَيْهِ ثُمَّ رَفَعَتْ رَأْسَهَا فَضَحِكَتْ فَقُلْتُ إِنْ كُنْتُ لأَظُنُّ أَنَّ هَذِهِ مِنْ أَعْقَلِ نِسَائِنَا فَإِذَا هِيَ مِنَ النِّسَاءِ فَلَمَّا تُوُفِّيَ النَّبِيُّ ﷺ قُلْتُ لَهَا أَرَأَيْتِ حِيْنَ أَكْبَبْتِ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ فَرَفَعْتِ رَأْسَكِ فَبَكَيْتِ ثُمَّ أَكْبَبْتِ عَلَيْهِ فَرَفَعْتِ رَأْسَكِ فَضَحِكْتِ مَا حَمَلَكِ عَلَى ذَلِكَ قَالَتْ إِنِّي إِذًا لَبَذِرَةٌ أَخْبَرَنِي أَنَّهُ مَيِّتٌ مِنْ وَجَعِهِ هَذَا فَبَكَيْتُ ثُمَّ أَخْبَرَنِي أَنِّي أَسْرَعُ أَهْلِهِ لُحُوقًا بِهِ فَذَاكَ حِينَ ضَحِكْتُ.قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عَائِشَةَ.

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উঠা-বসা, আচার-অভ্যাস ও চালচলনের সাথে তাঁর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর অপেক্ষা বেশী সাদৃশ্যপূর্ণ আমি আর কাউকে দেখিনি। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) আরও বলেন, ফাতিমা (রাঃ) যখনই নবী (ﷺ)-এর নিকট আসতেন তিনি তখনই তাঁর নিকট উঠে যেতেন, তাঁকে চুমু দিতেন এবং নিজের স্থানে বসাতেন। আর নবী (ﷺ) তাঁর ঘরে গেলে তিনিও নিজের জায়গা হতে উঠে তাঁকে (পিতাঁকে) চুমু দিতেন এবং নিজের জায়গায় বসাতেন।নবী (ﷺ) (মৃত্যুশয্যায়) অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর নিকট এসে ফাতিমা (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর মুখের উপর ঝুঁকে পড়েন এবং তাঁকে চুমু দেন, তারপর মাথা তুলে কাঁদেন। আবার তিনি তাঁর মুখের উপর ঝুঁকে পড়েন, তারপর মাথা তুলে হাসেন। আমি ('আয়িশাহ্) বললাম, আমি অবশ্যই জানি যে, তিনি নিশ্চয়ই আমাদের নারীদের মাঝে সর্বাধিক বুদ্ধিমতী, কিন্তু (তাঁর হাসি দেখে ভাবলাম) অন্যান্য নারীর মত সে একজন নারীই।তারপর নবী (ﷺ) ইন্তিকাল করলে তাঁকে আমি প্রশ্ন করলাম, কি ব্যাপার! আপনি নবী (ﷺ)-এর মুখের উপর ঝুঁকে পড়লেন, তারপর মাথা তুলে কাঁদলেন, আবার ঝুঁকে পড়লেন, তারপর মাথা তুলে হাসলেন। আপনি কি কারণে এরূপ করলেন? ফাতিমা (রাঃ) বললেন, তাঁর জীবদ্দশায় আমি কথাটি গোপন রেখেছি (কারণ তিনি গোপন কথা প্রকাশ করা সঙ্গত মনে করতেন না)। আমাকে তিনি জানান যে, এই অসুখেই তিনি ইন্তিকাল করবেন, তাই আমি কেঁদেছি। তারপর তিনি আমাকে জানান যে, তাঁর পরিবারস্থ লোকদের মাঝে সবার পূর্বে আমিই তাঁর সঙ্গে একত্রিত হব। তাই আমি হেসেছি।

আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উক্ত সনদে গারীব। হাদীসটি একাধিক সূত্রে 'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ الرِّفَاعِيُّ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا غِرْتُ عَلَى أَحَدٍ مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ ﷺ مَا غِرْتُ عَلَى خَدِيجَةَ وَمَا بِي أَنْ أَكُونَ أَدْرَكْتُهَا وَمَا ذَاكَ إِلاَّ لِكَثْرَةِ ذِكْرِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ لَهَا وَإِنْ كَانَ لَيَذْبَحُ الشَّاةَ فَيَتَتَبَّعُ بِهَا صَدَائِقَ خَدِيجَةَ فَيُهْدِيهَا لَهُنَّ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

খাদীজাহ্ (রাঃ)-এর প্রতি আমার যতটা ঈর্ষা হত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অন্য কোন সহধর্মিণীর প্রতি আমি ততটা ঈর্ষা পোষণ করতাম না। অথচ আমি তাঁর দেখাও পাইনি। তা এজন্য যে, প্রায়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কথা মনে করতেন। আর তিনি বকরী যবাহ করলে খাদীজাহ্ (রাঃ)-এর বান্ধবীদেরকে খুঁজে খুঁজে বের করে তাদের জন্য গোশত উপহার পাঠাতেন।

আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন