উসমান বিন আফফানের মর্যাদা

মোট হাদিস ০৫

হযরত উসমান বিন আফফানের মর্যাদা ও তার দানশীলতার হাদিস

উপস্থাপিত হাদিসগুলো থেকে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান বিন আফফান (রাঃ) এর মহান মর্যাদা, অতুলনীয় দানশীলতা এবং ইসলামে তাঁর অপরিসীম ত্যাগের প্রমাণ পাওয়া যায়। যখন তিনি নিজ ঘরে অবরুদ্ধ ছিলেন, তখন সাহাবিদের সামনে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী ও নিজের ভালো কাজগুলোর কথা তুলে ধরেন। তিনি মুসলিমদের পানির কষ্ট দূর করতে নিজের অর্থ দিয়ে ‘রূমাহ’ কূপ ক্রয় করে তা ওয়াকফ করেন এবং মুসলমানদের ইবাদতের সুবিধার্থে নিজের টাকায় জমি কিনে মসজিদ সম্প্রসারণ করেন। এছাড়া তাবুক যুদ্ধের (জায়শুল উসরাহ) কঠিন সময়ে তিনি একাই বিশাল সৈন্যবাহিনীর প্রয়োজনীয় রসদ ও যুদ্ধ সরঞ্জামের ব্যবস্থা করেছিলেন। ইসলাম ও রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি তাঁর এই আত্মত্যাগ সাহাবিদের দ্বারা সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত। হাদিসের বিবরণ অনুযায়ী, পাহাড়ের কম্পন থামানোর ঘটনার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) উসমান (রাঃ)-কে অন্যতম ‘শহীদ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন এবং বায়আতে রিদওয়ানের সময় তাঁর হাতকে নিজের হাতের সমতুল্য মর্যাদা দিয়েছিলেন।

أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ رَاشِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَطَّابُ بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ: أَنَّ عُثْمَانَ، أَشْرَفَ عَلَيْهِمْ حِينَ حَصَرُوهُ فَقَالَ: أَنْشُدُ بِاللَّهِ رَجُلًا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَوْمَ الْجَبَلِ حِينَ اهْتَزَّ فَرَكَلَهُ بِرِجْلِهِ وَقَالَ: «اسْكُنْ فَإِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْكَ إِلَّا نَبِيٌّ أَوْ صِدِّيقٌ أَوْ شَهِيدَانِ» وَأَنَا مَعَهُ، فَانْتَشَدَ لَهُ رِجَالٌ، ثُمَّ قَالَ: أَنْشُدُ بِاللَّهِ رَجُلًا شَهِدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ بَيْعَةِ الرِّضْوَانِ يَقُولُ: «هَذِهِ يَدُ اللَّهِ وَهَذِهِ يَدُ عُثْمَانَ» فَانْتَشَدَ لَهُ رِجَالٌ، ثُمَّ قَالَ: أَنْشُدُ بِاللَّهِ رَجُلًا سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ جَيْشِ الْعُسْرَةِ، يَقُولُ: «مَنْ يُنْفِقُ نَفَقَةً مُتَقَبَّلَةً؟» فَجَهَّزْتُ نِصْفَ الْجَيْشِ مِنْ مَالِي، فَانْتَشَدَ لَهُ رِجَالٌ، ثُمَّ قَالَ: أَنْشُدُ بِاللَّهِ رَجُلًا سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ يَزِيدُ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ بِبَيْتٍ فِي الْجَنَّةِ؟» فَاشْتَرَيْتُهُ مِنْ مَالِي، فَانْتَشَدَ لَهُ رِجَالٌ، ثُمَّ قَالَ: أَنْشُدُ بِاللَّهِ رَجُلًا شَهِدَ رُومَةَ تُبَاعُ فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ مَالِي فَأَبَحْتُهَا لِابْنِ السَّبِيلِ، فَانْتَشَدَ لَهُ رِجَالٌ

আবূ সালামাহ্ ইবনু 'আবদুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

যেদিন লোকেরা 'উসমান (রাঃ)-কে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, সেদিন তিনি উপর হতে লোকেদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন: আল্লাহর নামে কসম দিয়ে আমি ঐ ব্যক্তির নিকট জিজ্ঞেস করছি, যে ব্যক্তি পাহাড়ে আরোহণের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছে, যখন পাহাড় নড়াচড়া করছিল। তখন তিনি তাঁর পা দিয়ে পাহাড়ে আঘাত করে বলেন: হে পাহাড়। থাম, তোমার ওপর একজন নাবী, একজন সিদ্দীক্ব এবং দু'জন শাহীদ রয়েছেন। তখন আমি তাঁর সাথে ছিলাম।লোকেরা তাঁর সত্যায়ন করলে তখন তিনি বলেন: আমি আল্লাহর কসম দিয়ে ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করছি, যে ব্যক্তি "বায়'আতে রিদ্ওয়ান”-এ এর সময় হাযির ছিল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছে। তিনি (ﷺ) বলেছিলেন: এটা আল্লাহর হাত আর এটা 'উসমান-এর হাত। লোকেরা তার সত্যায়ন করল।তিনি আবার বললেন: আমি আল্লাহর কসম দিয়ে ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করছি, যে ব্যক্তি তাবুক যুদ্ধের বাহিনী প্রেরণের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি : এমন কে আছে, যে ব্যক্তি কবুলযোগ্য সম্পদ খরচ করতে পারে? আমি অর্ধ বাহিনীর সকল খরচ নিজের মাল দ্বারা করে দিই। লোকেরা তা স্বীকার করল।তিনি আবার বললেন: আমি আল্লাহর কসম দিয়ে ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করছি, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছে: কোনো ব্যক্তি এমন আছে, যে ব্যক্তি এই মসজিদ সম্প্রসারণ করবে, জান্নাতে একটি ঘরের বিনিময়ে? তখন আমি আমার সম্পদ দিয়ে তা কিনে দিই। লোকেরা এর সত্যায়ন করল।এরপর তিনি বললেন: আমি ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি যে 'রূমাহ্ কূপ' ক্রয়কালে উপস্থিত ছিল। আমি তা নিজের মাল দ্বারা ক্রয় করি এবং তা পথিকের জন্য দান করে দিই। উপস্থিত লোকেরা তাঁর এ কথারও সত্যায়ন করল।

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، يُحَدِّثُ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ جَاوَانَ، رَجُلٍ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ - وَذَاكَ أَنِّي قُلْتُ لَهُ: أَرَأَيْتَ اعْتِزَالَ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ مَا كَانَ؟ - قَالَ: سَمِعْتُ الْأَحْنَفَ، يَقُولُ:أَتَيْتُ الْمَدِينَةَ وَأَنَا حَاجٌّ، فَبَيْنَا نَحْنُ فِي مَنَازِلِنَا، نَضَعُ رِحَالَنَا إِذْ أَتَى آتٍ فَقَالَ: قَدِ اجْتَمَعَ النَّاسُ فِي الْمَسْجِدِ، فَاطَّلَعْتُ فَإِذَا - يَعْنِي - النَّاسَ مُجْتَمِعُونَ، وَإِذَا بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ نَفَرٌ قُعُودٌ، فَإِذَا هُوَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، وَالزُّبَيْرُ، وَطَلْحَةُ، وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ، فَلَمَّا قُمْتُ عَلَيْهِمْ قِيلَ: هَذَا عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ، قَدْ جَاءَ، قَالَ: فَجَاءَ وَعَلَيْهِ مُلَيَّةٌ صَفْرَاءُ، فَقُلْتُ لِصَاحِبِي: كَمَا أَنْتَ حَتَّى أَنْظُرَ مَا جَاءَ بِهِ؟فَقَالَ عُثْمَانُ: أَهَاهُنَا عَلِيٌّ؟ أَهَاهُنَا الزُّبَيْرُ؟ أَهَاهُنَا طَلْحَةُ؟ أَهَاهُنَا سَعْدٌ؟ قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: فَأَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ يَبْتَاعُ مِرْبَدَ بَنِي فُلَانٍ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ؟» فَابْتَعْتُهُ، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْتُ: إِنِّي ابْتَعْتُ مِرْبَدَ بَنِي فُلَانٍ، قَالَ: «فَاجْعَلْهُ فِي مَسْجِدِنَا وَأَجْرُهُ لَكَ»، قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: فَأَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنْ يَبْتَاعُ بِئْرَ رُومَةَ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ؟» فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: قَدْ ابْتَعْتُ بِئْرَ رُومَةَ، قَالَ: «فَاجْعَلْهَا سِقَايَةً لِلْمُسْلِمِينَ وَأَجْرُهَا لَكَ»، قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: فَأَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ يُجَهِّزُ جَيْشَ الْعُسْرَةِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ؟» فَجَهَّزْتُهُمْ حَتَّى مَا يَفْقِدُونَ عِقَالًا وَلَا خِطَامًا، قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: اللَّهُمَّ اشْهَدْ، اللَّهُمَّ اشْهَدْ، اللَّهُمَّ اشْهَدْ

আহনাফ ইব্‌নু কায়স (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

হুসায়ন ইবনু 'আবদুর রহমান (রহঃ)-এর বানু তামীম-এর 'উমর ইবনু জাওয়ান (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন। প্রসঙ্গ এই যে, আমি তাকে বললাম : আপনি আহনাফ ইবনু কায়স (রহঃ)-এর পৃথক হওয়া সম্পর্কে আপনার মতামত ব্যক্ত করুন। তিনি বললেন : আমি আহনাফকে বলতে শুনেছি। আমি হজ্জ উপলক্ষে মাদীনায় এলাম। আমরা আমাদের নিজ অবস্থানে ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বলল : লোকেরা মসজিদে একত্রিত হচ্ছে। আমি গিয়ে দেখলাম, লোকেরা মসজিদে জড়ো হয়েছে। তাঁদের মাঝে রয়েছেন- 'আলী ইবনু আবূ ত্বালিব, যুবায়র, ত্বলহাহ্ এবং সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)। আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন।আমি যখন তাঁদের নিকট দাঁড়ালাম তখন বলা হলো : এই যে, 'উসমান ইবনু 'আফফান এসে গেছেন। তাঁর গায়ে ছিল হলুদ বর্ণের চাদর। রাবী বলেন : আমি আমার সাথীকে বললাম, তুমি এখানে অবস্থান কর, দেখি 'উসমান (রাঃ) কি বলেন। 'উসমান (রাঃ) বললেন : এখানে কি 'আলী (রাঃ) আছেন? যুবায়র (রাঃ) আছেন? ত্বলহাহ্ (রাঃ) আছেন? এবং এখানে কি সা'দ (রাঃ) আছেন? তাঁরা বললেন : হ্যাঁ [আমরা আছি]।তিনি বললেন : আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলার কসম দিয়ে বলছি, যিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই, তোমাদের কি জানা আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : যে ব্যক্তি অমুক গোত্রের উটের বাথান ক্রয় করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে মাফ করে দেবেন? আমি তা ক্রয় করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললাম : আমি অমুক উটের বাথান খরিদ করেছি। তিনি (ﷺ) বললেন : এখন তুমি তা আমাদের মসজিদের জন্য ওয়াকফ করে দাও, তাহলে এর সাওয়াব তুমি পাবে। তাঁরা বললেন : হ্যাঁ [আমরা জানি]।তিনি আবার বললেন : আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি। যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তোমাদের কি জানা আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন : যে ব্যক্তি 'রূমাহ্' কূপ কিনবে আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন? আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে বললাম : আমি 'রূমাহ্' কূপ কিনেছি। তখন তিনি (ﷺ) বললেন : এখন তা তুমি মুসলিমদের পানি পান করার জন্য ওয়াকফ করে দাও। আর এর সাওয়াব তুমি পাবে। তাঁরা বললেন : হ্যাঁ [আমরা এও জানি]।তিনি আবার বললেন : আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তোমাদের কি জানা আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : যে ব্যক্তি তাবুক যুদ্ধের বাহিনীদের যুদ্ধ সরঞ্জাম ব্যবস্থা করে দেবে, আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন। এরপর আমি তাঁদের জন্য এমনভাবে যুদ্ধের সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে দেই যাতে ঐ বাহিনীর কোনো লোকের একটি রশির বা একটি লাগামেরও প্রয়োজনও পড়েনি? তাঁরা বললেন : হ্যাঁ (আমরা এও জানি)। 'উসমান (রাঃ) এরপর বলেন : হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন! হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন! হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন!

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، قَالَ: سَمِعْتُ حُصَيْنَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، يُحَدِّثُ عَنْ عُمَرَ بْنِ جَاوَانَ، عَنْ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: خَرَجْنَا حُجَّاجًا فَقَدِمْنَا الْمَدِينَةَ وَنَحْنُ نُرِيدُ الْحَجَّ، فَبَيْنَا نَحْنُ فِي مَنَازِلِنَا نَضَعُ رِحَالَنَا إِذْ أَتَانَا آتٍ فَقَالَ: إِنَّ النَّاسَ قَدِ اجْتَمَعُوا فِي الْمَسْجِدِ وَفَزِعُوا، فَانْطَلَقْنَا فَإِذَا النَّاسُ مُجْتَمِعُونَ عَلَى نَفَرٍ فِي وَسَطِ الْمَسْجِدِ، وَإِذَا عَلِيٌّ، وَالزُّبَيْرُ، وَطَلْحَةُ، وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ، فَإِنَّا لَكَذَلِكَ إِذْ جَاءَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ، عَلَيْهِ مُلَاءَةٌ صَفْرَاءُ قَدْ قَنَّعَ بِهَا رَأْسَهُ، فَقَالَ: أَهَاهُنَا عَلِيٌّ؟ أَهَاهُنَا طَلْحَةُ؟ أَهَاهُنَا الزُّبَيْرُ؟ أَهَاهُنَا سَعْدٌ؟ قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: فَإِنِّي أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: «مَنْ يَبْتَاعُ مِرْبَدَ بَنِي فُلَانٍ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ» فَابْتَعْتُهُ بِعِشْرِينَ أَلْفًا أَوْ بِخَمْسَةٍ وَعِشْرِينَ أَلْفًا، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ: «اجْعَلْهَا فِي مَسْجِدِنَا وَأَجْرُهُ لَكَ»، قَالُوا: اللَّهُمَّ نَعَمْ، قَالَ: فَأَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنْ يَبْتَاعُ بِئْرَ رُومَةَ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ؟» فَابْتَعْتُهُ بِكَذَا وَكَذَا، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: قَدْ ابْتَعْتُهَا بِكَذَا وَكَذَا، قَالَ: «اجْعَلْهَا سِقَايَةً لِلْمُسْلِمِينَ وَأَجْرُهَا لَكَ»، قَالُوا: اللَّهُمَّ نَعَمْ، قَالَ: فَأَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَظَرَ فِي وُجُوهِ الْقَوْمِ فَقَالَ: «مَنْ جَهَّزَ هَؤُلَاءِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ؟» - يَعْنِي جَيْشَ الْعُسْرَةِ - فَجَهَّزْتُهُمْ حَتَّى مَا يَفْقِدُونَ عِقَالًا وَلَا خِطَامًا، قَالُوا: اللَّهُمَّ نَعَمْ، قَالَ: اللَّهُمَّ اشْهَدْ، اللَّهُمَّ اشْهَدْ

আহনাফ ইব্‌নু কায়স (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

'উমর ইবনু জাওয়ান (রহঃ) সূত্রে আহনাফ ইবনু ক্বায়স (রহঃ) হতে বর্ণিত। আমরা হজ্জ করার জন্য মাদীনায় পৌঁছলাম। আমরা আমাদের মনযিলে পৌঁছে আমাদের মালামাল নামাচ্ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি এসে বললেন : লোকজন মসজিদে জড়ো হয়েছে এবং তাঁরা ভীত-সন্ত্রস্ত। এরপর আমরা গিয়ে দেখলাম যে, মসজিদের মাঝখানে কয়েকজনকে ঘিরে কিছু লোক একত্রিত হয়েছে। এঁদের মাঝে আছেন 'আলী, যুবায়র, ত্বলহাহ্ এবং সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)। আমরা তাঁদের সঙ্গে বসলাম।এমতাবস্থায় 'উসমান ইবনু 'আফফান (রাঃ) উপস্থিত হলেন এবং তাঁর গায়ে একখানা হলুদ রংয়ের চাদর ছিল। এটি দিয়ে তিনি তাঁর মাথা ঢেকে রেখেছিলেন। এরপর তিনি বললেন : এখানে কি 'আলী (রাঃ) আছেন? ত্বলহাহ্ (রাঃ) আছেন? এখানে কি যুবায়র (রাঃ) আছেন? সা'দ (রাঃ) আছেন? তাঁরা বললেন : হ্যাঁ, [আমরা আছি]।'উসমান (রাঃ) বললেন : আমি তোমাদেরকে ঐ আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তোমাদের কি জানা আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: অমুক গোত্রের উটের বাথান যে ক্রয় করবে আল্লাহ তা'আলা তাকে মাফ করে দেবেন? আমি জায়গাটি বিশ হাজার বা পঁচিশ হাজার দিয়ে ক্রয় করি। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে এ খবর দিই। তখন তিনি (ﷺ) বললেন: তুমি তা আমাদের মসজিদের জন্য তা ওয়াকফ কর। এর সাওয়াব তুমি পাবে। তাঁরা বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহ সাক্ষী [আমাদের জানা আছে।তিনি বললেন: আমি তোমাদেরকে ঐ আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি-যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই তোমাদের কি জানা আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: 'রূমাহ্' কূপ যে কিনবে আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন? তখন আমি তা এত এত মূল্যে কিনি এবং আমি নাবী (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে বলি: আমি তা এত এত মূল্যে বিনিময়ে কিনেছি। তিনি বললেন : তুমি তা মুসলিমদের পানি পান করার জন্য ওয়াকফ করে দাও। এর সাওয়াব তুমি পাবে। তখন তাঁরা বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহ শপথ! [আমরা জানি]।তিনি আবার বললেন: আমি তোমাদেরকে ঐ আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি- যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তোমরা কি জান, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকেদের দিকে তাকিয়ে বললেন : যে এদের যুদ্ধের সামান এর অর্থাৎ তাবূক বাহিনীর যুদ্ধ সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে দেবে আল্লাহ তাকে মাফ করবেন? তখন আমি তাঁদের জন্য এমন যুদ্ধ সরঞ্জামের ব্যবস্থা করলাম যে, তাঁদের একটি রশি বা লাগামের প্রয়োজনও অনুভব হল 'না। তাঁরা বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহ সাক্ষী! তিনি বললেন : আল্লাহর আপনি সাক্ষী থাকুন! আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন!

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ الرَّحِيمِ، قَالَ: حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّلَمِيِّ، قَالَ: لَمَّا حُصِرَ عُثْمَانُ، فِي دَارِهِ، اجْتَمَعَ النَّاسُ حَوْلَ دَارِهِ، قَالَ: فَأَشْرَفَ عَلَيْهِمْ، وَسَاقَ الْحَدِيثَ

আবূ 'আবদুর রহমান আস্ সালামী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

যখন 'উসমান (রাঃ) নিজের ঘরে অবরুদ্ধ হলে লোকেরা তাঁর ঘরের চারদিকে জড়ো হলো, তখন তিনি উপর থেকে তাদের দিকে তাকালেন। রাবী পূর্ণ হাদীস পর্যন্ত বর্ণনা করেন।

أَخْبَرَنِي زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي الْحَجَّاجِ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ حَزْنٍ الْقُشَيْرِيِّ، قَالَ: شَهِدْتُ الدَّارَ حِينَ أَشْرَفَ عَلَيْهِمْ عُثْمَانُ، فَقَالَ: أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ وَبِالْإِسْلَامِ، هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ وَلَيْسَ بِهَا مَاءٌ يُسْتَعْذَبُ غَيْرَ بِئْرِ رُومَةَ؟ فَقَالَ: " مَنْ يَشْتَرِي بِئْرَ رُومَةَ فَيَجْعَلُ فِيهَا دَلْوَهُ مَعَ دِلَاءِ الْمُسْلِمِينَ بِخَيْرٍ لَهُ مِنْهَا فِي الْجَنَّةِ؟ فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ صُلْبِ مَالِي فَجَعَلْتُ دَلْوِي فِيهَا مَعَ دِلَاءِ الْمُسْلِمِينَ، وَأَنْتُمُ الْيَوْمَ تَمْنَعُونِي مِنَ الشُّرْبِ مِنْهَا حَتَّى أَشْرَبَ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ، قَالُوا: اللَّهُمَّ نَعَمْ، قَالَ: فَأَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ وَالْإِسْلَامِ، هَلْ تَعْلَمُونَ أَنِّي جَهَّزْتُ جَيْشَ الْعُسْرَةِ مِنْ مَالِي؟ قَالُوا: اللَّهُمَّ نَعَمْ، قَالَ: فَأَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ وَالْإِسْلَامِ، هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ الْمَسْجِدَ ضَاقَ بِأَهْلِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يَشْتَرِي بُقْعَةَ آلِ فُلَانٍ فَيَزِيدُهَا فِي الْمَسْجِدِ بِخَيْرٍ لَهُ مِنْهَا فِي الْجَنَّةِ؟» فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ صُلْبِ مَالِي فَزِدْتُهَا فِي الْمَسْجِدِ، وَأَنْتُمْ تَمْنَعُونِي أَنْ أُصَلِّيَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ، قَالُوا: اللَّهُمَّ نَعَمْ، قَالَ: أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ وَالْإِسْلَامِ، هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ عَلَى ثَبِيرٍ ثَبِيرِ مَكَّةَ، وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَأَنَا، فَتَحَرَّكَ الْجَبَلُ فَرَكَضَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِرِجْلِهِ وَقَالَ: «اسْكُنْ ثَبِيرُ، فَإِنَّمَا عَلَيْكَ نَبِيٌّ وَصِدِّيقٌ وَشَهِيدَانِ» قَالُوا: اللَّهُمَّ نَعَمْ، قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، شَهِدُوا لِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ - يَعْنِي أَنِّي شَهِيدٌ ----[حكم الألباني] صحيح دون قصة ثبير

সুমামাহ্ ইবনু হায্য আল কুশায়রী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি 'উসমান (রাঃ)-এর বাড়িতে উপস্থিত ছিলাম, যখন তিনি উপর হতে নিচের লোকেদের দিকে লক্ষ্য করে বললেন: আমি তোমাদেরকে আল্লাহ এবং ইসলামের দোহাই দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তোমাদের কি জানা আছে যে, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় এলেন, তখন সেখানে সুপেয় পানি ছিল না-'রূমাহ্' কূপের পানি ছাড়া। তিনি (ﷺ) বললেন: 'রূমাহ্ কূপ' কে ক্রয় করবে আর তাতে তার বালতিও মুসলিমদের বালতিগুলোর মতো তা হতে পানি উঠাবে। সে জান্নাতে এর চাইতে উত্তম বিনিময় পাবে। তখন আমি তা আমার নিজের অর্থে ক্রয় করে মুসলিমদের পানি পানের জন্য তা দান করে দেই। অথচ তোমরা আজ আমাকে সেই পানি পান করতে দিচ্ছ না, আর আমি সমুদ্রের পানি পান করছি। তারা বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহ শপথ (আমাদের জানা আছে)।তিনি আবার বললেন: আমি তোমাদেরকে আল্লাহ এবং ইসলামের দোহাই দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তোমাদের কি জানা আছে যে, আমি তাবুক যুদ্ধের মুজাহিদদের যুদ্ধের সরঞ্জাম আমার নিজ অর্থে কিনে দিয়েছিলাম? তারা বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহ শপথ! (আমাদের জানা আছে)।তিনি আবার বললেন: আমি তোমাদেরকে আল্লাহ এবং ইসলামের কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তোমাদের কি জানা আছে যে, মসজিদে জায়গা না হওয়ায় লোকেদের খুব কষ্ট হচ্ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: অমুক গোত্রের জমি কে ক্রয় করবে? আর তা মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য দান করবে? আল্লাহ তা'আলা তাকে জান্নাতে এর চাইতে উত্তম বিনিময় দান করবেন। তখন আমি তা নিজের ব্যক্তিগত মাল দ্বারা ক্রয় করে মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য দান করি। অথচ তোমরা আমাকে তাতেই দুই রাক্'আত সালাত আদায় করতে দিচ্ছ না? তারা বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহ শপথ! (আমাদের জানা আছে)।তিনি আবার বললেন: আমি তোমাদেরকে আল্লাহ এবং ইসলামের কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কার সাবীর পাহাড়ের উপর ছিলেন। তখন তাঁর সাথে ছিলেন আবূ বাক্র, 'উমর এবং আমি। তখন পাহাড় নড়াচড়া করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাহাড়ে পদাঘাত করে বলেন: হে সাবীর! থামো, তোমার ওপর একজন নাবী, একজন সিদ্দীক্ব এবং দুই শাহীদ রয়েছেন। তারা বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহ শপথ! (আমাদের জানা আছে)। তখন তিনি বললেন: 'আল্ল-হু আকবার'। তারা আমার পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করেছে: কা'বার মালিকের কসম তার মানে আমি শাহীদ হব।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন