পানি সম্পর্কিত

মোট হাদিস ১৫

পানি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ হাদিস ও ইসলামের নির্দেশনা

ইসলামে পানি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিয়ামতপূর্ণ উপাদান, যা নিয়ে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে জানা যায় যে, পানি, ঘাস এবং আগুন—এই তিনটি প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সব মানুষের যৌথ অধিকার রয়েছে এবং এগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা উচিত। বিশেষ করে প্রবাহমান বা প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া পানি বিক্রি করা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সম্পূর্ণ নিষেধ করেছেন এবং এর মূল্য গ্রহণ করাকে হারাম ঘোষণা করেছেন। এছাড়া অবরুদ্ধ বা ব্যক্তিগত নয় এমন প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় বা তা থেকে অন্যকে বঞ্চিত করা ইসলামে অনুমোদিত নয়। পানির পাশাপাশি লবণ ও আগুনের মতো প্রয়োজনীয় জিনিস অন্যকে দান করার সওয়াব ও গুরুত্বও এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে কোনো মুসলিমকে পানি পান করানোর ফজিলত অনেক বেশি; যেখানে পানি সহজলভ্য সেখানে পানি পান করালে দাসমুক্তির সমান সওয়াব মেলে এবং যেখানে পানি দুষ্প্রাপ্য সেখানে পানি পান করালে একজনকে জীবন দান করার মতো মহান সওয়াব পাওয়া যায়।

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ خِرَاشِ بْنِ حَوْشَبٍ الشَّيْبَانِيُّ، عَنِ الْعَوَّامِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «الْمُسْلِمُونَ شُرَكَاءُ فِي ثَلاَثٍ فِي الْمَاءِ وَالْكَلإِ وَالنَّارِ وَثَمَنُهُ حَرَامٌ». قَالَ أَبُو سَعِيدٍ يَعْنِي الْمَاءَ الْجَارِيَ.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মুসলমানগণ তিনটি বিষয়ে যৌথ অংশীদার- পানি, ঘাস ও আগুনে, এগুলোর মূল্য নেয়া হারাম। আবূ সাঈদ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ প্রবাহমান পানি।

[২৪৭২] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়া ১৫৫২, মিশকাত ৩০০১, আত-তালীকুর রাগীব ২/২৫৫। তাহকীক আলবানীঃ وَثَمَنُهُ حَرَامٌ (তার মূল্য নেয়া হারাম) কথাটি ব্যতীত সহিহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন খিরাশ বিন হাওশাব আশ-শায়বানী সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তিনি আওওয়াম ছাড়া অন্য কারো নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এ মর্মে আমার জানা নেই। আমভাবে বলা যায় তার হাদিস রক্ষিত নয়। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩২৪৪, ১৪/৪৫৩ নং পৃষ্ঠা)

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «ثَلاَثٌ لاَ يُمْنَعْنَ الْمَاءُ وَالْكَلأُ وَالنَّارُ».

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তিনটি জিনিস সংগ্রহে (কাউকে) বাধা দেয়া যাবে না- পানি, ঘাস ও আগুন।

[২৪৭৩] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়া ৬/৮,৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «لاَ يَمْنَعْ أَحَدُكُمْ فَضْلَ مَاءٍ لِيَمْنَعَ بِهِ الْكَلأَ» .

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন (অপরকে উদ্বৃত্ত পানি ব্যবহারে বাধা না দেয়, যাতে চতুষ্পদ জন্তুর ঘাস খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

[২৪৭৮] সহীহুল বুখারী ২৩৫৩, ২৩৫৪, ৬৯৬২, মুসলিম ১৫৬৬, তিরমিযী ১২৭২, আবূ দাউদ ৩৪৭৩, আহমাদ ৭২৮০, ৭৬৪০, ৮০২৩, ৮৫০৮, ২৭২৮২, ১০১৯৩, দারেমী ১৪৫৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ خَالِدٍ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ غُرَابٍ، عَنْ زُهَيْرِ بْنِ مَرْزُوقٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الشَّىْءُ الَّذِي لاَ يَحِلُّ مَنْعُهُ قَالَ الْمَاءُ وَالْمِلْحُ وَالنَّارُ " .قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا الْمَاءُ قَدْ عَرَفْنَاهُ فَمَا بَالُ الْمِلْحِ وَالنَّارِ قَالَ " يَا حُمَيْرَاءُ مَنْ أَعْطَى نَارًا فَكَأَنَّمَا تَصَدَّقَ بِجَمِيعِ مَا أَنْضَجَتْ تِلْكَ النَّارُ وَمَنْ أَعْطَى مِلْحًا . فَكَأَنَّمَا تَصَدَّقَ بِجَمِيعِ مَا طَيَّبَ ذَلِكَ الْمِلْحُ وَمَنْ سَقَى مُسْلِمًا شَرْبَةً مِنْ مَاءٍ حَيْثُ يُوجَدُ الْمَاءُ فَكَأَنَّمَا أَعْتَقَ رَقَبَةً وَمَنْ سَقَى مُسْلِمًا شَرْبَةً مِنْ مَاءٍ حَيْثُ لاَ يُوجَدُ الْمَاءُ فَكَأَنَّمَا أَحْيَاهَا " .

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

ইয়া রাসূলুল্লাহ! এমন কী জিনিস আছে যা সংগ্রহে বাধা দেয়া হালাল নয়? তিনি বলেন: পানি, লবণ ও আগুন। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এই পানি সম্পর্কে তো আমরা জানি কিন্তু লবণ ও আগুনের ব্যাপারে কেন বাধা দেয়া যাবে না? তিনি বলেন: হে হুমায়রা! যে ব্যক্তি আগুন দান করল, সে যেন ঐ আগুন দিয়ে রান্না করা যাবতীয় খাদ্যই দান করলো। যে ব্যক্তি লবণ দান করলো, ঐ লবণে খাদ্য যতোটা সুস্বাদু হলো তা সবই যেন সে দান করলো। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানকে এমন স্থানে পানি পান করালো, যেখানে তা সহজলভ্য, সে যেন একটি গোলামকে দাসত্বমুক্ত করলো এবং যে ব্যক্তি কোন মুসলমানকে এমন স্থানে পানি পান করালো, যেখানে তা দুষ্প্রাপ্য, সে যেন তাকে জীবন দান করলো।

[২৪৭৪] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। মিশকাত ৩০০৭, যইফাহ ১২০। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী আলি বিন গুরাব সম্পর্কে আবু জা'ফার আল-উকায়লী তার হাদিস উল্লেখ করে বলেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। এই হাদিস ব্যতীত তার সম্পর্কে কোথাও জানা যায়না। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল মানুষ তার হাদিস বর্জন করেছে। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। আবু সাঈদ বিন ইউনুস বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেন, তার শীয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪১২০, ২১/৯০ নং পৃষ্ঠা)২. যুহায়র বিন মারযুক সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তার একটিই হাদিস মু'দাল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আমি তাকে চিনি না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২০১৮, ৯/৪১৯ নং পৃষ্ঠা)৩. আলী বিন যায়দ বিন জুদআন সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তিনি সিকাহ সালিহ। আল-আজালী বলেন, কোন সমস্যা নেই। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪০৭০, ২০/৪৩৪ নং পৃষ্ঠা)

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ حَارِثَةَ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لاَ يُمْنَعُ فَضْلُ الْمَاءِ وَلاَ يُمْنَعُ نَقْعُ الْبِئْرِ» .

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, উদ্বৃত্ত পানি ব্যবহারে বাধা দেয়া যাবে না এবং কূপের উদ্বৃত্ত পানি ব্যবহারেও বাধা দেয়া যাবে না।

[২৪৭৯] আহমাদ ২৪২৯০, ২৪৫৬৪, ২৪৬১৬, ২৫৭৭৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী হারিসাহ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল তাকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার ও দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, কোন সমস্যা নেই। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১০৫৭, ৫/৩১৩ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু হারিসাহ এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২৫৭ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ৩২ টি খুবই দুর্বল, ৭৯ টি দুর্বল, ৯০ টি হাসান, ৫৮ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ২৩৫৩, ২৩৫৪, মুসলিম ১৫৬৬, ১৫৬৭, ১৫৬৮, তিরমিযি ১২৭১, ১২৭২, আবু দাউদ ৩৪৭৩, ৩৪৭৮, দারিমী ২৬১২, আহমাদ ৬৬৩৫, ৬৬৮৩, ৭০৭১, ৭২৮০, ৭৬৪০, ৮০২৩, ২৭৯৩০, ৯১৬২, ৯৬৫৫, ১০১১৬, ১০১৯৩, ১৪২২৯, ১৪২৩৪, ১৪৪২৮, ১৫০১৮।

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ بَيْعِ فَضْلِ الْمَاءِ .

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উদ্বৃত্ত পানি বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

[২৪৭৭] মুসলিম ১৫৬৫, নাসায়ী ৪৬৬০, ৪৬৭০, আহমাদ ১৪২২৯, ১৪২৩৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغَلِّسِ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ يَحْيَى بْنِ الْوَلِيدِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَضَى فِي شُرْبِ النَّخْلِ مِنَ السَّيْلِ أَنَّ الأَعْلَى فَالأَعْلَى يَشْرَبُ قَبْلَ الأَسْفَلِ وَيُتْرَكُ الْمَاءُ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ يُرْسَلُ الْمَاءُ إِلَى الأَسْفَلِ الَّذِي يَلِيهِ وَكَذَلِكَ حَتَّى تَنْقَضِيَ الْحَوَائِطُ أَوْ يَفْنَى الْمَاءُ .

'উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নালা থেকে খেজুর বাগানে পানি সেচ সম্পর্কে ফয়সালা দেন যে, নিম্ন ভূমির আগে উচ্চভূমি পানিসেচে অগ্রাধিকার পাবে, যাবত না গোছা পর্যন্ত পানি জমে। তারপর পূর্বোক্ত নিয়মে সংলগ্ন নিচু ভূমির দিকে পানি ছেড়ে দিতে হবে। বাগানসমূহের বিলুপ্তি অথবা পানি নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত এভাবে চলবে।

[২৪৮৩] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদীসের রাবী ফুদায়ল বিন সুলায়মান সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাঁর থেকে হাদীস গ্রহন করা যায় তবে তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম বিন হিব্বান তাঁর সিকাহ গ্রন্থে তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি যাচাই-বাছাই ছাড়া হাদীস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদীস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭৫৯, ২৩/২৭১ নং পৃষ্ঠা)২. ইসহাক বিন ইয়াহইয়া ইবনুল ওয়ালীদ সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তাঁর অবস্থা অজ্ঞাত। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে হাদীস শ্রবণ করেননি। আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তাঁর একাধিক হাদীস অরক্ষিত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৯১, ২/৪৯৩ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদীসটি সহীহ কিন্তু ফুদায়ল বিন সুলায়মান ও ইসহাক বিন ইয়াহইয়া ইবনুল ওয়ালীদ এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদীসটির ২৪৩ টি শাহিদ হাদীস রয়েছে, তন্মধ্যে ৪ টি খুবই দুর্বল, ৩৫ টি দুর্বল, ৭৮ টি হাসান, ১২৬ টি সহীহ হাদীস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ২৩৬০, ২৩৬১, ২৩৬২, ২৭০৮, ৪৫৮৫, মুসলিম ২৩৫৮, তিরমিযি ১৩৬৩, ৩০২৭, আবু দাউদ ৩৬৩৭, ৩৬৩৮, ৩৬৩৯, আহমাদ ১৪২২, ১৫৬৮৪, ২২২৭২, শারহুস সুন্নাহ ২১৯৪।

حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُثَنَّى، ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ الْمَكِّيُّ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ «مَنْ حَفَرَ بِئْرًا فَلَهُ أَرْبَعُونَ ذِرَاعًا عَطَنًا لِمَاشِيَتِهِ» .

আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কূপ খনন করেছে সে তার গবাদি পশুর পানি পান করানোর সুবিধার্থে কূপের চারপাশে চল্লিশ হাত জায়গা পাবে।

[২৪৮৬] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সহীহাহ ২৫১। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদীসের রাবী ইসমাইল আল-মাক্কী সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বাকর আল-বাযযার বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, আমরা তাঁর হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করি না। আবু হাতিম আর-রাযী ও আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৮৩, ৩/১৯৮ নং পৃষ্ঠা)২. আবদুল ওয়াহহাব বিন আতা সম্পর্কে আবু বাকর আল-মারওয়াযী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাঁর থেকে হাদীস গ্রহণ করা যায়। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদীস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬০৫, ১৮/৫০৯ নং পৃষ্ঠা)

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ خَاصَمَ الزُّبَيْرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي شِرَاجِ الْحَرَّةِ الَّتِي يَسْقُونَ بِهَا النَّخْلَ فَقَالَ الأَنْصَارِيُّ سَرِّحِ الْمَاءَ يَمُرَّ . فَأَبَى عَلَيْهِ فَاخْتَصَمَا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «اسْقِ يَا زُبَيْرُ ثُمَّ أَرْسِلِ الْمَاءَ إِلَى جَارِكَ». فَغَضِبَ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ كَانَ ابْنَ عَمَّتِكَ فَتَلَوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ قَالَ «يَا زُبَيْرُ اسْقِ ثُمَّ احْبِسِ الْمَاءَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى الْجَدْرِ». قَالَ فَقَالَ الزُّبَيْرُ وَاللَّهِ إِنِّي لأَحْسَبُ هَذِهِ الآيَةَ أُنْزِلَتْ فِي ذَلِكَ ﴾فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لاَ يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا﴿.

'আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

হাররাহ থেকে প্রবাহিত নালার পানি বণ্টনকে কেন্দ্র করে এক আনসারী ব্যক্তি যুবায়র (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট অভিযোগ দায়ের করে। এ নালা তার খেজুর বাগানে সিঞ্চন করতো। আনসারী বললো, পানি প্রবাহিত হতে দাও। কিন্তু যুবায়র (রাঃ) তা অস্বীকার করেন। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এই বিবাদ পেশ করলেন।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে জুবায়র, তোমার জমিতে পানি সিঞ্চন কর, অতঃপর তো তোমার প্রতিবেশীর জন্য ছেড়ে দাও। তাতে আনসারী রাগান্বিত হল, এবং বলল হে আল্লাহর রাসূল সে আপনার ফুফুর ছেলে বলে (আপনি এরকম ফয়সালা করলেন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারা রক্তিমাভ হয়ে গেলো। তিনি বলেনঃ হে যুবায়র! তোমার ক্ষেতে পানি দাও, তারপর তা আটকে রাখো যাতে আইল পর্যন্ত উঠতে পারে।যুবায়র (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমার ধারণামতে এ সম্পর্কেই নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয় (অনুবাদ) :“হে মুহাম্মদ! তোমার প্রতিপালকের শপথ! এরা কিছুতেই মুমিন হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের পারস্পরিক মতভেদের ব্যাপারসমূহে তোমাকে বিচারকরূপে মেনে না নিবে, অতঃপর তুমি যে ফয়সালা করবে, সেই সম্পর্কে তারা নিজেদের মনে কিছুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করবে না। বরং এর সামনে নিজেদেরকে পূর্ণরূপে সোপর্দ করে দিবে”। (সূরা নিসাঃ ৬৫)।

[২৪৮০] সহীহুল বুখারী ২৩৬০, মুসলিম ২৩৫৭, তিরমিযী ১৩৬৩, ৩০২৭, নাসায়ী ৫৪০৭, ৫৪১৬, আবূ দাউদ ৩৬৩৭, আহমাদ ১৪২২, ৬/১৫৩, ১০/১০৬, আল-হাকিম ফিল মুসতাদরাক ৩/৩৬৪, ইবনু হিব্বান ৪২, ইবনুল জারুদ ১০২১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، أَنْبَأَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَضَى فِي سَيْلِ مَهْزُورٍ أَنْ يُمْسِكَ حَتَّى يَبْلُغَ الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ يُرْسِلَ الْمَاءَ .

আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাহযূর উপত্যকার পানি প্রবাহ সম্পর্কে ফয়সালা দেন যে, পানি পায়ের গোছা পরিমাণ না জমা পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে, অতঃপর (তার নিম্নের জমিতে) ছেড়ে দিতে হবে।

[২৪৮২] আবূ দাউদ ৩৬৩৯, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদীসের রাবী আল-মুগীরাহ বিন আব্দুর রহমান সম্পর্কে আবুল কাসিম বিন বিশকাওয়াল বলেন, তাঁর ব্যাপারে কোনো সমস্যা নেই। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী ও ফকীহ তবে হাদীস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬১৩৫, ২৮/৩৮১ নং পৃষ্ঠা)২. আবদুর রহমান সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল তাঁকে দুর্বল বলেছেন, অন্যত্র বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়, তিনি দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদীস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। আলী ইবনুল মাদীনী তাঁকে দুর্বল বলেছেন। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তাঁর মাঝে কোনো সমস্যা নেই। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৭৮৭, ১৭/৩৭ নং পৃষ্ঠা)

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন