কোরআনের তাফসির

মোট হাদিস ১৬৩

কোরআনের তাফসির ও বিভিন্ন আয়াতের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা

পবিত্র কোরআনের সঠিক মর্মার্থ অনুধাবনের জন্য রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর বর্ণিত তাফসির জানা আবশ্যক। সহীহ হাদিসের বিবরণে সূরা আল-ফাতিহাকে কোরআনের সবচেয়ে মহান সূরা এবং বারবার পঠিত সাতটি আয়াত (সাব'উল মাছানি) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিস থেকে আরও জানা যায়, বনী ইসরাঈলকে বিনীতভাবে ক্ষমা চেয়ে নগরদ্বারে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করে এবং অবাধ্যতার চরম সীমায় পৌঁছে শব্দের বিকৃতি ঘটায়। এছাড়া, আয়াত নাসখ বা রহিতকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হযরত উমর (রাঃ) এর সাহাবিদের মতামত পর্যালোচনার ঘটনা এবং আল্লাহর তাওহীদের মহিমা প্রচার করে মানুষের কুফরি ও অপবাদের জবাব দেওয়া হয়েছে। ইসলামিক স্কলারদের মতে, এই বর্ণনাগুলো আমাদের মনগড়া ব্যাখ্যা পরিহার করে নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে কোরআনের সঠিক তাফসির ও এর পেছনের প্রেক্ষাপট বা শানে নুযূল অনুধাবনের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

أَبُو الْوَلِيْدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُوْلُ آخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ ﴾يَسْتَفْتُوْنَكَ قُلِ اللهُ يُفْتِيْكُمْ فِي الْكَلَالَةِ﴿ وَآخِرُ سُوْرَةٍ نَزَلَتْ بَرَاءَةٌ

সর্বশেষে যে আয়াত অবতীর্ণ হয়, তা হল يَسْتَفْتُونَكَ قُلْ اللهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِ লোকেরা আপনার কাছে বিধান জানতে চায়। আপনি বলুন ঃ আল্লাহ তোমাদের বিধান দিচ্ছেন “কালালা” (পিতা-মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি) সম্বন্ধে (সূরা আন-নিসা ৪/১৭৬)।এবং সর্বশেষে যে সূরাটি অবতীর্ণ হয়, তা হল সূরায়ে বারাআত।

مُسَدَّدٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيْدٍ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ وَافَقْتُ اللهَ فِيْ ثَلَاثٍ أَوْ وَافَقَنِيْ رَبِّيْ فِيْ ثَلَاثٍ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ لَوْ اتَّخَذْتَ مَقَامَ إِبْرَاهِيْمَ مُصَلًّى وَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ يَدْخُلُ عَلَيْكَ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ فَلَوْ أَمَرْتَ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ بِالْحِجَابِ فَأَنْزَلَ اللهُ آيَةَ الْحِجَابِقَالَ وَبَلَغَنِيْ مُعَاتَبَةُ النَّبِيِّ ﷺ بَعْضَ نِسَائِهِ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِنَّ قُلْتُ إِنْ انْتَهَيْتُنَّ أَوْ لَيُبَدِّلَنَّ اللهُ رَسُوْلَهُ ﷺ خَيْرًا مِنْكُنَّ حَتَّى أَتَيْتُ إِحْدَى نِسَائِهِ قَالَتْ يَا عُمَرُ أَمَا فِيْ رَسُوْلِ اللهِ مَا يَعِظُ نِسَاءَهُ حَتَّى تَعِظَهُنَّ أَنْتَ فَأَنْزَلَ اللهُ : ﴾عَسٰى رَبُّه” إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُّبَدِّلَه” أَزْوَاجًا خَيْرًا مِّنْكُنَّ مُسْلِمٰتٍ﴿وَقَالَ ابْنُ أَبِيْ مَرْيَمَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوْبَ حَدَّثَنِيْ حُمَيْدٌ سَمِعْتُ أَنَسًا عَنْ عُمَرَ

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

‘উমর (রাঃ) বলেছেন, তিনটি বিষয়ে আমার মতামত আল্লাহ্‌র ওহীর অনুরূপ হয়েছে অথবা (তিনি বলেছেন) তিনটি বিষয়ে আমার মতামতের অনুকূলে আল্লাহ ওহী অবতীর্ণ করেছেন। তা হল, আমি বলেছিলাম হে আল্লাহ্‌র রাসূল! যদি আপনি মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান হিসাবে গ্রহণ করতেন।এ বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন ....... তোমরা ইবরাহীমের দাঁড়ানোর জায়গাকে সালাতের জায়গারূপে গ্রহণ কর (সূরা আল-বাকারাহ ২/১২৫)।আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনার কাছে ভাল ও মন্দ উভয় প্রকারের লোক আসে। কাজেই আপনি যদি উম্মাহাতুল মু’মিনীনদেরকে পর্দা করার আদেশ করবেন।তখন আল্লাহ তা‘আলা পর্দার আয়াত অবতীর্ণ করেন। তিনি আরো বলেন, আমি জানতে পেরেছিলাম যে, নবী (ﷺ) তাঁর কতক স্ত্রীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তখন আমি তাঁদের কাছে উপস্থিত হই এবং বলি যে, আপনারা এর থেকে বিরত থাকুন নচেৎ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল (ﷺ)-কেআপনাদের পরিবর্তে উত্তম স্ত্রী দান করবেন। এরপর আমি তাঁর কোন স্ত্রীর কাছে আসি, তখন তিনি বললেন, হে ‘উমর! রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপারেও নাক গলাতে শুরু করেছ। তিনি (ﷺ) স্ত্রীগণকে নাসীহাত করে থাকেন আর এখন তুমি তাঁদের নাসীহাত করতে আরম্ভ করেছ?তখন আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন ঃ عَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبَدِّلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ مُسْلِمَاتٍ “যদি নবী তোমাদের সবাইকে তালাক দেন, তবে তাঁর রব অচিরেই তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী তাঁকে দিবেন, যারা হবে আজ্ঞাবহ, ঈমানদার, অনুগত, তাওবাহকারিণী, ‘ইবাদাতকারিণী, সিয়াম পালনকারী, অকুমারী ও কুমারী”(সূরা আত্-তাহরীম ৬৬/৫)।ইবনু আবী মারইয়াম (রহঃ) বলেন, আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘উমর (রাঃ) আমার কাছে এরূপ বলেছেন।

مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْأَنْصَارِيُّ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ أَنَّ أَنَسًا حَدَّثَهُمْ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ كِتَابُ اللهِ الْقِصَاصُ.

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তাদের কাছে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহ্‌র কিতাবের নির্দেশ হল কিসাস।

عَبْدُ اللهِ بْنُ مُنِيْرٍ سَمِعَ عَبْدَ اللهِ بْنَ بَكْرٍ السَّهْمِيَّ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ الرُّبَيِّعَ عَمَّتَهُ كَسَرَتْ ثَنِيَّةَ جَارِيَةٍ فَطَلَبُوْا إِلَيْهَا الْعَفْوَ فَأَبَوْا فَعَرَضُوا الْأَرْشَ فَأَبَوْا فَأَتَوْا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ وَأَبَوْا إِلَّا الْقِصَاصَ فَأَمَرَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بِالْقِصَاصِ فَقَالَ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَتُكْسَرُ ثَنِيَّةُ الرُّبَيِّعِ لَا وَالَّذِيْ بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا تُكْسَرُ ثَنِيَّتُهَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَا أَنَسُ كِتَابُ اللهِ الْقِصَاصُ فَرَضِيَ الْقَوْمُ فَعَفَوْا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللهِ لَأَبَرَّهُ.

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আনাসের ফুফু রুবাঈ এক বাঁদির সম্মুখ দাঁত ভেঙ্গে ফেলে। এরপর বাঁদির কাছে রুবাঈয়ের লোকজন ক্ষমা চাইলে বাঁদির লোকেরা অস্বীকার করে। তখন তাদের কাছে দিয়াত পেশ করা হল, তখন তা তারা গ্রহণ করল না। অগত্যা তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সমীপে এসে ঘটনা জানাল। কিন্তু কিসাস ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করতে তারা অস্বীকার করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিসাসের নির্দেশ দিলেন।তখন আনাস ইবনু নযর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! রুবাঈদের সামনের দাঁত ভাঙ্গা হবে? না, যে সত্তা আপনাকে সত্য সহ পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ, তাঁর দাঁত ভাঙ্গা হবে না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আনাস! আল্লাহ্‌র কিতাব তো কিসাসের নির্দেশ দেয়। এরপর বাঁদির লোকেরা রাযী হয়ে যায় এবং রুবাঈ‘কে ক্ষমা করে দেয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন ঃ আল্লাহ্‌র বান্দাদের মাঝে এমন মানুষও আছে যিনি আল্লাহ্‌র নামে শপথ করলে আল্লাহ তা পূরণ করেন।

مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ سَمِعْتُ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ {إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِيْنًا} قَالَ الْحُدَيْبِيَةُ.

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا “এর দ্বারা হুদাইবিয়াহ্‌র সন্ধি বোঝানো হয়েছে।

حَسَّانُ بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لِأُبَيٍّ إِنَّ اللهَ أَمَرَنِيْ أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ الْقُرْآنَ قَالَ أُبَيٌّ أَاللهُ سَمَّانِيْ لَكَ قَالَ اللهُ سَمَّاكَ لِيْ فَجَعَلَ أُبَيٌّ يَبْكِيْ قَالَ قَتَادَةُ فَأُنْبِئْتُ أَنَّهُ قَرَأَ عَلَيْهِ ﴾لَمْ يَكُنِ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ﴿.

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) উবাই ইব্‌নু কা‘ব (রাঃ)-কে বলেছিলেন, তোমাকে কোরআন পড়ে শোনানোর জন্য আল্লাহ তা‘আলা আমাকে আদেশ করেছেন। উবাই ইব্‌নু কা‘ব (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তা‘আলা কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহ তা‘আলা তোমার নাম উল্লেখ করেছেন। এ এ কথা শুনে উবাই ইব্‌নু কা‘ব (রাঃ) কাঁদতে শুরু করলেন। ক্বাতাদাহ (রহঃ) বলেন, আমাকে জানানো হয়েছে যে, নবী (ﷺ) তাঁকে لَمْ يَكُنْ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ পাঠ করে শুনিয়েছিলেন।

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كُسِرَتْ رَبَاعِيَتُهُ يَوْمَ أُحُدٍ وَشُجَّ وَجْهُهُ شَجَّةً فِي جَبْهَتِهِ حَتَّى سَالَ الدَّمُ عَلَى وَجْهِهِ فَقَالَ «كَيْفَ يُفْلِحُ قَوْمٌ فَعَلُوا هَذَا بِنَبِيِّهِمْ وَهُوَ يَدْعُوهُمْ إِلَى اللَّهِ " . فَنَزَلَتْ : ﴾ لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ ) إِلَى آخِرِهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

উহূদের যুদ্ধের দিন নবী (ﷺ) এর সামনের মাড়ির দাঁত ভেঙ্গে যায়। তাঁর চেহারা জখম হয়, এমনকি কপালে জখম হওয়ার কারণে মুখমণ্ডলে রক্ত ঝরে পড়ে। তখন তিনি বললেনঃ কিভাবে ঐ জাতি সফলকাম হবে, যারা তাদের নবীর সাথে এহেন আচরণ করেছে, অথচ তিনি তাদেরকে আল্লাহ তা’আলার পথে আহবান করেছেন।তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় : “তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দিবেন এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছু নেই। কারণ তারা যালিম” – (সূরা আ-লি ‘ইমরান ১২৮)।

আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ شُجَّ فِي وَجْهِهِ وَكُسِرَتْ رَبَاعِيَتُهُ وَرُمِيَ رَمْيَةً عَلَى كَتِفِهِ فَجَعَلَ الدَّمُ يَسِيلُ عَلَى وَجْهِهِ وَهُوَ يَمْسَحُهُ وَيَقُولُ «كَيْفَ تُفْلِحُ أُمَّةٌ فَعَلُوا هَذَا بِنَبِيِّهِمْ وَهُوَ يَدْعُوهُمْ إِلَى اللَّهِ " .فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى : ﴾لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ ﴿ . سَمِعْتُ عَبْدَ بْنَ حُمَيْدٍ يَقُولُ غَلِطَ يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ فِي هَذَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

(উহূদের দিন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখমণ্ডল আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং তাঁর সামনের মাড়ির দাঁত ভেঙ্গে যায়। তাঁর কাঁধের উপর একটি তীর নিক্ষিপ্ত হয়। ফলে তাঁর মুখমণ্ডল বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তে থাকলে তিনি তা মুছে ফেলছিলেন এবং বলছিলেন : সেই জাতি কিভাবে নাজাত পেতে পারে, যারা তাদের নবীর সাথে এহেন নির্মম আচরণ করে, অথচ তিনি তাদেরকে আল্লাহ তা’আলার দিকে আহবান করছেন।তখনি বরকতময় আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) : “তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দিবেন এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছু নেই। কারণ তারা যালিম” – (সূরা আ-লি ‘ইমরান ১২৮)।

আমি ‘আবদ ইবনু হুমাইদকে বলতে শুনেছি, এই হাদীস বর্ণনায় ইয়াযীদ ইবনু হারূন ভুলের শিকার হয়েছেন। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ حُذَيْفَةَ، قَدِمَ عَلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ وَكَانَ يُغَازِي أَهْلَ الشَّامِ فِي فَتْحِ أَرْمِينِيَّةَ وَأَذْرَبِيجَانَ مَعَ أَهْلِ الْعِرَاقِ فَرَأَى حُذَيْفَةُ اخْتِلاَفَهُمْ فِي الْقُرْآنِ فَقَالَ لِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَدْرِكْ هَذِهِ الأُمَّةَ قَبْلَ أَنْ يَخْتَلِفُوا فِي الْكِتَابِ كَمَا اخْتَلَفَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى فَأَرْسَلَ إِلَى حَفْصَةَ أَنْ أَرْسِلِي إِلَيْنَا بِالصُّحُفِ نَنْسَخُهَا فِي الْمَصَاحِفِ ثُمَّ نَرُدُّهَا إِلَيْكِ فَأَرْسَلَتْ حَفْصَةُ إِلَى عُثْمَانَ بِالصُّحُفِ فَأَرْسَلَ عُثْمَانُ إِلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَسَعِيدِ بْنِ الْعَاصِي وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنِ انْسَخُوا الصُّحُفَ فِي الْمَصَاحِفِ وَقَالَ لِلرَّهْطِ الْقُرَشِيِّينَ الثَّلاَثَةِ مَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ أَنْتُمْ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ فَاكْتُبُوهُ بِلِسَانِ قُرَيْشٍ فَإِنَّمَا نَزَلَ بِلِسَانِهِمْ . حَتَّى نَسَخُوا الصُّحُفَ فِي الْمَصَاحِفِ بَعَثَ عُثْمَانُ إِلَى كُلِّ أُفُقٍ بِمُصْحَفٍ مِنْ تِلْكَ الْمَصَاحِفِ الَّتِي نَسَخُوا . قَالَ الزُّهْرِيُّ وَحَدَّثَنِي خَارِجَةُ بْنُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ قَالَ فَقَدْتُ آيَةً مِنْ سُورَةِ الأَحْزَابِ كُنْتُ أَسْمَعُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقْرَؤُهَا : ﴾ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ ﴿ فَالْتَمَسْتُهَا فَوَجَدْتُهَا مَعَ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ أَوْ أَبِي خُزَيْمَةَ فَأَلْحَقْتُهَا فِي سُورَتِهَا . قَالَ الزُّهْرِيُّ فَاخْتَلَفُوا يَوْمَئِذٍ فِي التَّابُوتِ وَالتَّابُوهِ فَقَالَ الْقُرَشِيُّونَ التَّابُوتُ . وَقَالَ زَيْدٌ التَّابُوهُ . فَرُفِعَ اخْتِلاَفُهُمْ إِلَى عُثْمَانَ فَقَالَ اكْتُبُوهُ التَّابُوتُ فَإِنَّهُ نَزَلَ بِلِسَانِ قُرَيْشٍ . قَالَ الزُّهْرِيُّ فَأَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ كَرِهَ لِزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ نَسْخَ الْمَصَاحِفِ وَقَالَ يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ أُعْزَلُ عَنْ نَسْخِ كِتَابَةِ الْمُصْحَفِ وَيَتَوَلاَّهَا رَجُلٌ وَاللَّهِ لَقَدْ أَسْلَمْتُ وَإِنَّهُ لَفِي صُلْبِ رَجُلٍ كَافِرٍ يُرِيدُ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ وَلِذَلِكَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ يَا أَهْلَ الْعِرَاقِ اكْتُمُوا الْمَصَاحِفَ الَّتِي عِنْدَكُمْ وَغُلُّوهَا فَإِنَّ اللَّهَ يَقُولُ : ﴾ وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ﴿ فَالْقُوا اللَّهَ بِالْمَصَاحِفِ . قَالَ الزُّهْرِيُّ فَبَلَغَنِي أَنَّ ذَلِكَ كَرِهَهُ مِنْ مَقَالَةِ ابْنِ مَسْعُودٍ رِجَالٌ مِنْ أَفَاضِلِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ .قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ حَدِيثُ الزُّهْرِيِّ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِهِ .

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

হুযাইফাহ্ (রাঃ) 'উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)-এর নিকট এসে উপস্থিত হলেন। হুযাইফা (রাঃ) আর্মেনিয়া ও আযারবাইযান অভিযানে ইরাকীদের সঙ্গী হয়ে সিরীয়দের বিরুদ্ধে জিহাদ করছিলেন। তখন হুযাইফাহ্ (রাঃ) তাদের মধ্যে কোরআন নিয়ে মতের অমিল লক্ষ্য করেন। তিনি (ফিরে এসে) 'উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)-কে বললেন, হে আমিরুল মু'মিনীন! যেভাবে ইয়াহূদী-নাসারাগণ তাদের কিতাব নিয়ে মতভেদে লিপ্ত হয়েছিল, সেরূপ এই উম্মাতের লোকদের নিজেদের কিতাব নিয়ে মতভেদে লিপ্ত হওয়ার পূর্বে তাদের খবর নিন।এরপর 'উসমান (রাঃ) এই কথা বলে হাফসাহ্ (রাঃ)-এর নিকট লোক পাঠান যে, আপনার নিকট রক্ষিত কোরআনের সহীফাখানি আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। আমরা সেটি হতে কপি করার পর তা আপনাকে আবার ফেরত দেব। উম্মুল মু'মিনীন হাফসাহ্ (রাঃ) তার কপি 'উসমান ইবনু 'আফ্‌ফান (রাঃ)-এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন।'উসমান (রাঃ) যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ), সা'ঈদ ইবনুল 'আস (রাঃ), 'আবদুর রাহমান ইবনুল হারিস ইবনু হিশাম (রাঃ), 'আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) প্রমুখের নিকট উক্ত সহীফাখানি পাঠিয়ে দিয়ে বললেন, আপনারা এ সহীফাখানি হতে অনেকগুলো কপি করে নিন। তিনি উক্ত কমিটির তিন কুরাইশ সদস্যকে বললেন, কোন ক্ষেত্রে তোমাদের ও যাইদ ইবনু সাবিতের মধ্যে মতের অমিল হলে তা তোমরা কুরাইশের বাকরীতি মতো লিখবে। কেননা কোরআন তাদের বাকরীতিতে অবতীর্ণ হয়েছে।অবশেষে তারা পূর্ণ কোরআনের কয়েকটি কপি করেন। 'উসমান (রাঃ) সেগুলোর এক একটি কপি রাজ্যের এক এক এলাকায় পাঠিয়ে দিলেন। যুহরী (রহঃ) বলেন, খারিজা ইবনু যাইদ (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) বলেছেন, আমি সূরা আল-আহ্‌যাবের একটি আয়াত পেলাম না, যেটি আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে তিলাওয়াত করতে শুনতাম।আয়াতটি এই (অনুবাদ) : "মু'মিনদের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহ তা'আলার সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে, তাদের কেউ কেউ শাহাদাত বরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা নিজেদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করেনি" (সূরা আল-আহ্‌যাব ২৩)।আমি আয়াতটির খোঁজ করছিলাম। অবশেষে তা খুযাইমাহ্‌ ইবনু সাবিত (রাঃ) বা আবূ খুযাইমাহ্ (রাঃ)-এর নিকট পেলাম। আমি সূরার যথাস্থানে আয়াতটি স্থাপন করলাম। যুহরী (রহঃ) বলেন, তারা ঐ দিন তাবূত ও তাবূহ শব্দ নিয়ে মতের অমিল করেন। কুরাইশীরা বলেন, তাবূত, আর যাইদ (রাঃ) বলেন, তাবূহ। তাদের মতের অমিলের বিষয়টি 'উসমান (রাঃ)-এর নিকট উত্থাপন করা হলে তিনি বললেন, তোমরা তাবূত লিখ। কেননা কোরআন কুরাইশদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে।যুহরী (রহঃ) বলেন, আমাকে 'উবাইদুল্লাহ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু উত্‌বাহ্‌ খবর দিয়েছেন যে, যাইদ ইবনু সাবিতের কোরআন লিপিবদ্ধ করাকে 'আবদুল্লাহ ইবনু মাস'উদ (রাঃ) অপছন্দ করেছেন এবং বলেছেন, হে মুসলিমগণ! কোরআন লিপিবদ্ধ করা হতে আমি বরখাস্ত হবো এবং আর তার দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে এমন ব্যক্তি, যে আমার ইসলাম গ্রহণের সময় এক কাফির পৃষ্ঠদেশে অন্তর্নিহিত ছিল। এ কথা দ্বারা তিনি যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তাই 'আবদুল্লাহ ইবনু মাস'উদ (রাঃ) বলেনঃ হে ইরাকবাসী! তোমাদের নিকট রক্ষিত কোরআনের লিপিবদ্ধ সংকলন লুকিয়ে রাখ এবং তালাবদ্ধ করে রাখ।কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেন, (অনুবাদ) : "এবং কেউ অন্যায়ভাবে কিছু আত্মসাৎ করলে, যা সে অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করেছে ক্বিয়ামাতের দিন সে তা নিয়ে উপস্থিত হবে" - (সূরা আল-'ইমরান ১৬১)।অতএব তোমরা তোমাদের সংকলনগুলোসহ আল্লাহ তা'আলার সাথে মিলিত হবে। যুহরী (রহঃ) বলেন, আমি জেনেছি যে, ইবনু মাস'উদ (রাঃ)-এর এ উক্তিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর বহু প্রবীণ সাহাবী অপছন্দ করেছেন।

আবূ '‘ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এটি যুহরীর রিওয়ায়াত। আমরা এ হাদীস শুধু তার সূত্রেই জেনেছি।

عَمْرُوْ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حَبِيْبٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَقْرَؤُنَا أُبَيٌّ وَأَقْضَانَا عَلِيٌّ وَإِنَّا لَنَدَعُ مِنْ قَوْلِ أُبَيٍّ وَذَاكَ أَنَّ أُبَيًّا يَقُوْلُ لَا أَدَعُ شَيْئًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَقَدْ قَالَ اللهُ تَعَالَى ﴾مَا نَنْسَخْ مِنْ اٰيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا﴿

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

‘উমর (রাঃ) বলেন, উবাই (রাঃ) আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ক্বারী, আর ‘আলী (রাঃ) আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক। কিন্তু আমরা উবাই (রাঃ)-এর কিছু কথা বাদ দেই। কারণ উবাই (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যা শুনেছি তার কিছুই ছাড়ব না।অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি যে আয়াত রহিত করি অথবা ভুলিয়ে দেই ........ (সূরা আল-বাকারাহ ২/১০৬)।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন